দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের জন্য বদলি ব্যবস্থা চালু করল সরকার। এখন থেকে শর্ত সাপেক্ষে অনলাইন আবেদনের মাধ্যমে শিক্ষকরা এক প্রতিষ্ঠান থেকে অন্য প্রতিষ্ঠানে বদলি হতে পারবেন। এ সংক্রান্ত একটি স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যারভিত্তিক নীতিমালা—‘বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে (স্কুল, কলেজ) কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক বদলি নীতিমালা-২০২৬’ ইতোমধ্যে জারি করা হয়েছে।
যেভাবে কাজ করবে বদলি প্রক্রিয়া
-
অনলাইনে শূন্য পদের তালিকা: মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) নির্দিষ্ট সময়ে শূন্য পদের তালিকা অনলাইনে প্রকাশ করবে।
-
সময়সূচি নির্ধারণ: প্রতিবছর প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে আবেদনের তারিখ, বদলির আদেশ এবং নতুন কর্মস্থলে যোগদানের সময়সূচি জানিয়ে দেওয়া হবে।
-
অনলাইন আবেদন: শিক্ষকরা সফটওয়্যারের মাধ্যমে সর্বোচ্চ তিনটি পছন্দের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য আবেদন করতে পারবেন।
প্রধান শর্ত ও যোগ্যতা
-
চাকরির মেয়াদ: প্রথম নিয়োগের পর ন্যূনতম ২ বছর এবং পরবর্তীতে নতুন কর্মস্থলে যোগদানের পর পুনরায় আবেদনের জন্য আরও ২ বছর চাকরি সম্পন্ন করতে হবে।
-
সর্বোচ্চ সীমা: একজন শিক্ষক তার পুরো চাকরিজীবনে সর্বোচ্চ ৩ বার বদলির সুবিধা পাবেন।
-
প্রতিষ্ঠানভিত্তিক কোটা: একটি প্রতিষ্ঠান থেকে বছরে সর্বোচ্চ ২ জন শিক্ষক বদলি হতে পারবেন (তবে একই বিষয়ে ১ জনের বেশি নয়)।
আবেদন ও পছন্দের নিয়মাবলি
১. জেলা ও বিভাগীয় অগ্রাধিকার: প্রথমে নিজ জেলার শূন্য পদে আবেদন করতে হবে। নিজ জেলায় খালি পদ না থাকলে নিজ বিভাগের অন্য জেলায় আবেদনের সুযোগ থাকবে। ২. বিশেষ ছাড়: বিশেষ পরিস্থিতি অথবা স্বামী/স্ত্রীর কর্মস্থলের জেলায় বদলির আবেদনের সুযোগ রাখা হয়েছে। ৩. অগ্রাধিকারের মাপকাঠি: একটি পদের জন্য একাধিক আবেদন জমা পড়লে নারী প্রার্থী, কর্মস্থলের দূরত্ব (জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নিয়ম অনুযায়ী), স্বামী/স্ত্রীর কর্মস্থল এবং জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে প্রার্থী বাছাই করা হবে।
অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম
-
আবেদন বাতিল: ভুল বা অসম্পূর্ণ তথ্য দিলে আবেদন সরাসরি বাতিল হবে। ফৌজদারি মামলা বা সাময়িক বরখাস্ত থাকা শিক্ষকরা আবেদনের সুযোগ পাবেন না।
-
সুযোগ-সুবিধা: বদলির পর এমপিও, আর্থিক সুবিধা ও জ্যেষ্ঠতা বজায় থাকবে, তবে বদলি কোনো অধিকার হিসেবে দাবি করা যাবে না এবং কোনো টিএ/ডিএ (TA/DA) ভাতা পাওয়া যাবে না।
-
যোগদানের সময়সীমা: আদেশ জারির ১০ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান প্রধানকে শিক্ষককে অবমুক্ত করতে হবে এবং অবমুক্তির ১০ দিনের মধ্যে নতুন কর্মস্থলে যোগ দিতে হবে।
মাউশির দায়িত্বশীল সূত্রে জানানো হয়েছে, পুরো বিষয়টি স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যারের মাধ্যমে এবং মহাপরিচালকের নিয়ন্ত্রণে অত্যন্ত স্বচ্ছতার সাথে সম্পন্ন করা হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক 

























