০৫:৪৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

অতিবৃষ্টিতে মরিচ ক্ষেতের সর্বনাশ, বাজারে দাম বেড়েছে দ্বিগুণ

The gallery was not found!

কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টিতে মানিকগঞ্জের বিস্তীর্ণ এলাকার মরিচ ক্ষেত পানিতে তলিয়ে গিয়ে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষকরা। অনেক ক্ষেতে গাছের গোড়া পচে মরিচগাছ মরে যাচ্ছে, কোথাও আবার ফলনযোগ্য গাছ নষ্ট হয়ে পড়ে আছে। মাঠ থেকে মরিচের সরবরাহ কমে যাওয়ায় জেলার বাজারগুলোতে কাঁচা মরিচের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে প্রতিকেজি ২০০ টাকায় পৌঁছেছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ কার্যালয় জানায়, চলতি মৌসুমে মানিকগঞ্জ জেলায় ৩ হাজার ৮২৫ হেক্টর জমিতে কাঁচা মরিচের আবাদ হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়ায় প্রায় ৪২ হাজার ৮০২ মেট্রিক টন উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল। অতিবৃষ্টিতে জেলার বিভিন্ন উপজেলার নিচু এলাকার মরিচ ক্ষেত পানিতে ডুবে যাওয়ায় সেই লক্ষ্যমাত্রা এখন হুমকির মুখে পড়েছে।

অতিবৃষ্টিতে জেলায় ২২২ হেক্টর জমির বিভিন্ন ফসলের ক্ষতি হয়েছে। এতে প্রায় ৪ হাজার ৮৮৫ জন কৃষক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। প্রাথমিকভাবে আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৩ কোটি ১৩ লাখ টাকা।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিকেলে সরেজমিনে জেলার বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে , সপ্তাহখানেক আগেও যে কাঁচা মরিচ ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছিল, সেটিই এখন ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। পাইকারি বাজারে সরবরাহ কমে যাওয়ায় খুচরা বাজারেও দাম বেড়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

মানিকগঞ্জের দাশড়া এলাকাল ইকবাল হোসেন বলেন, “প্রায় সব পণ্যের দামই বেড়েছে বাজারে। কাঁচা মরিচের দাম একেবারে অস্বাভাবিক। দুই দিন আগেও যে মরিচ ১০০ টাকা ছিল, এখন সেটি ২০০ টাকা।”

ঘিওর উপজেলার গাংডুবী গ্রামের মরিচচাষি মনোরঞ্জন সরকার বলেন, “দুই বিঘা জমিতে মরিচ লাগিয়েছিলাম। ফলনও ভালো ছিল। কিন্তু বৃষ্টির পানিতে পুরো ক্ষেত নষ্ট হয়েছে। পেঁয়াজে আগেই লোকসান হয়েছে, এখন মরিচেও সর্বনাশ। কৃষি কর্মকর্তাদের ফোন দিলেও অনেক সময় পাই না। এভাবে ক্ষতি হলে মরিচ চাষ ছেড়ে অন্য ফসলের দিকে যেতে হবে।”

বালিয়াখোড়া গ্রামের কৃষক আব্দুল মজিদ জানান, প্রায় দেড় বিঘা জমিতে মরিচ আবাদ করেছিলেন তিনি। জমি প্রস্তুত, সার, কীটনাশক ও শ্রমিকের পেছনে লক্ষাধিক টাকা বিনিয়োগ করেছিলেন। বৃষ্টি সব শেষ করে দিয়েছে।

শিবালয় উপজেলার বুতুনী এলাকার কৃষক আলাউদ্দিন বলেন, “এক বিঘা জমিতে মরিচ চাষে প্রায় ৭০ হাজার টাকা খরচ করেছি। গাছে প্রচুর মরিচ এসেছিল। তিন দিনের বৃষ্টিতে জমিতে পানি জমে সব গাছ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এখন ঋণের টাকা কীভাবে শোধ করব, সেটাই বড় চিন্তা।”

মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড কাঁচাবাজারের সবজি বিক্রেতা মো. বাবুল বলেন, “মাঠ থেকে মরিচ ও সবজি কম আসছে। পাইকারি বাজারেই দাম বেড়েছে। তাই বেশি দামে কিনে বেশি দামেই বিক্রি করতে হচ্ছে।”

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক শাজাহান সিরাজ বলেন, “বৃষ্টিতে জেলার বিভিন্ন এলাকায় মরিচ ও অন্যান্য ফসলের ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। সরকারি সহায়তার জন্য তালিকা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে থেকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কৃষি কর্মকর্তাদের ফোন না ধরার অভিযোগও গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা হবে।”

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় খবর
Business Times24

অতিবৃষ্টিতে মরিচ ক্ষেতের সর্বনাশ, বাজারে দাম বেড়েছে দ্বিগুণ

Update Time : ১২:৩৫:০৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬

কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টিতে মানিকগঞ্জের বিস্তীর্ণ এলাকার মরিচ ক্ষেত পানিতে তলিয়ে গিয়ে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষকরা। অনেক ক্ষেতে গাছের গোড়া পচে মরিচগাছ মরে যাচ্ছে, কোথাও আবার ফলনযোগ্য গাছ নষ্ট হয়ে পড়ে আছে। মাঠ থেকে মরিচের সরবরাহ কমে যাওয়ায় জেলার বাজারগুলোতে কাঁচা মরিচের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে প্রতিকেজি ২০০ টাকায় পৌঁছেছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ কার্যালয় জানায়, চলতি মৌসুমে মানিকগঞ্জ জেলায় ৩ হাজার ৮২৫ হেক্টর জমিতে কাঁচা মরিচের আবাদ হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়ায় প্রায় ৪২ হাজার ৮০২ মেট্রিক টন উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল। অতিবৃষ্টিতে জেলার বিভিন্ন উপজেলার নিচু এলাকার মরিচ ক্ষেত পানিতে ডুবে যাওয়ায় সেই লক্ষ্যমাত্রা এখন হুমকির মুখে পড়েছে।

অতিবৃষ্টিতে জেলায় ২২২ হেক্টর জমির বিভিন্ন ফসলের ক্ষতি হয়েছে। এতে প্রায় ৪ হাজার ৮৮৫ জন কৃষক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। প্রাথমিকভাবে আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৩ কোটি ১৩ লাখ টাকা।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিকেলে সরেজমিনে জেলার বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে , সপ্তাহখানেক আগেও যে কাঁচা মরিচ ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছিল, সেটিই এখন ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। পাইকারি বাজারে সরবরাহ কমে যাওয়ায় খুচরা বাজারেও দাম বেড়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

মানিকগঞ্জের দাশড়া এলাকাল ইকবাল হোসেন বলেন, “প্রায় সব পণ্যের দামই বেড়েছে বাজারে। কাঁচা মরিচের দাম একেবারে অস্বাভাবিক। দুই দিন আগেও যে মরিচ ১০০ টাকা ছিল, এখন সেটি ২০০ টাকা।”

ঘিওর উপজেলার গাংডুবী গ্রামের মরিচচাষি মনোরঞ্জন সরকার বলেন, “দুই বিঘা জমিতে মরিচ লাগিয়েছিলাম। ফলনও ভালো ছিল। কিন্তু বৃষ্টির পানিতে পুরো ক্ষেত নষ্ট হয়েছে। পেঁয়াজে আগেই লোকসান হয়েছে, এখন মরিচেও সর্বনাশ। কৃষি কর্মকর্তাদের ফোন দিলেও অনেক সময় পাই না। এভাবে ক্ষতি হলে মরিচ চাষ ছেড়ে অন্য ফসলের দিকে যেতে হবে।”

বালিয়াখোড়া গ্রামের কৃষক আব্দুল মজিদ জানান, প্রায় দেড় বিঘা জমিতে মরিচ আবাদ করেছিলেন তিনি। জমি প্রস্তুত, সার, কীটনাশক ও শ্রমিকের পেছনে লক্ষাধিক টাকা বিনিয়োগ করেছিলেন। বৃষ্টি সব শেষ করে দিয়েছে।

শিবালয় উপজেলার বুতুনী এলাকার কৃষক আলাউদ্দিন বলেন, “এক বিঘা জমিতে মরিচ চাষে প্রায় ৭০ হাজার টাকা খরচ করেছি। গাছে প্রচুর মরিচ এসেছিল। তিন দিনের বৃষ্টিতে জমিতে পানি জমে সব গাছ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এখন ঋণের টাকা কীভাবে শোধ করব, সেটাই বড় চিন্তা।”

মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড কাঁচাবাজারের সবজি বিক্রেতা মো. বাবুল বলেন, “মাঠ থেকে মরিচ ও সবজি কম আসছে। পাইকারি বাজারেই দাম বেড়েছে। তাই বেশি দামে কিনে বেশি দামেই বিক্রি করতে হচ্ছে।”

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক শাজাহান সিরাজ বলেন, “বৃষ্টিতে জেলার বিভিন্ন এলাকায় মরিচ ও অন্যান্য ফসলের ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। সরকারি সহায়তার জন্য তালিকা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে থেকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কৃষি কর্মকর্তাদের ফোন না ধরার অভিযোগও গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা হবে।”