০৬:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সাম্বার ছন্দে হাইতিকে উড়িয়ে গ্রুপ শীর্ষে ব্রাজিল

The gallery was not found!

মরক্কোর ধাক্কা সামলে কুনিয়ার জোড়া গোলে বিশ্বকাপে সেলেসাওদের প্রথম জয়

ক্রীড়া ডেস্ক | নিউজ পোর্টাল নাম ফিলাডেলফিয়া, ২০ জুন ২০২৬

ড্র দিয়ে বিশ্বকাপ শুরু হওয়ায় চারদিকে উঠেছিল সমালোচনার ঝড়। মরক্কোর বিপক্ষে জয় হাতছাড়া হওয়ার পর কার্লো আনচেলত্তির নতুন ব্রাজিলকে নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছিল—সাম্বার দেশ কি তবে আবারও নিজেদের হারিয়ে ফেলছে? তবে এমন সব নেতিবাচক প্রশ্নের জবাব দিতে একেবারেই সময় নেয়নি পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

শনিবার সকালে ফিলাডেলফিয়া স্টেডিয়ামে হাইতির বিপক্ষে মাঠে নেমে শুরু থেকেই নিজেদের চেনা ছন্দে ফেরে ব্রাজিল। আক্রমণাত্মক ফুটবলের প্রদর্শনীতে হাইতিকে ৩-০ ব্যবধানে উড়িয়ে দিয়েছে আনচেলত্তির শিষ্যরা। দলের হয়ে জোড়া গোল করেছেন ম্যাতেউস কুনিয়া এবং একটি গোল করেছেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র।

শুরুর প্রতিরোধ ভেঙে ব্রাজিলের আধিপত্য

ম্যাচের প্রথম দশ মিনিটে হাইতিকে বেশ সংগঠিত মনে হয়েছিল। তারা লড়াই করেছে, গতি দেখিয়েছে এবং ব্রাজিলকে সহজে জায়গা ছাড়েনি। কিন্তু সময় যত গড়িয়েছে, ততই স্পষ্ট হয়েছে দুই দলের মানের পার্থক্য। ব্রাজিলের আক্রমণের গতি, পাসের ছন্দ আর ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের সামনে ধীরে ধীরে অসহায় হয়ে পড়ে হাইতির রক্ষণভাগ।

প্রথম গোলের পর যেন বাঁধ ভেঙে যায়। মাঝমাঠ থেকে আক্রমণভাগ—সব জায়গায় ছড়িয়ে পড়ে ব্রাজিলের একক আধিপত্য।

সমালোচনার জবাব দিলেন কুনিয়া, জ্বললেন ভিনিসিয়ুস

এই ম্যাচের সবচেয়ে বড় প্রতীক ছিলেন ম্যাতেউস কুনিয়া। মরক্কো ম্যাচে যাকে প্রথম একাদশে না রাখা নিয়ে এত আলোচনা ও বিতর্ক হয়েছিল, সেই কুনিয়াই আজ জোড়া গোল করে কোচের আস্থার প্রতিদান দিলেন।

অন্যদিকে, ভিনিসিয়ুস জুনিয়রও ছিলেন নিজের চেনা রূপে। গতি, ড্রিবলিং আর আক্রমণাত্মক মানসিকতায় বারবার হাইতির রক্ষণে আতঙ্ক ছড়িয়েছেন রিয়াল মাদ্রিদ তারকা। গোল করার পাশাপাশি সতীর্থদের দিয়ে গোল করাতেও (অ্যাসিস্ট) ভূমিকা রাখেন তিনি।

ভিএআর (VAR) ও অফসাইডের বাধা

ম্যাচের ব্যবধান আরও বাড়তে পারতো। ১২ মিনিটে রাফিনিয়া বল জালে পাঠিয়েছিলেন ঠিকই, কিন্তু অফসাইডের কারণে সেই গোল বাতিল হয়ে যায়।

দ্বিতীয়ার্ধে বদলি হিসেবে নামা তরুণ সেনসেশন এনদ্রিকও নিজের নাম স্কোরশিটে তুলেছিলেন। ৭৮ মিনিটে তার শট জালে জড়ালেও প্রযুক্তির (ভিএআর) চোখে ধরা পড়ে অফসাইড। ফলে তরুণ তারকার উদযাপন থেমে যায় কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই। এর বাইরেও অন্তত তিনটি নিশ্চিত গোলের সুযোগ নষ্ট করেছে সেলেসাওরা।

আনচেলত্তির মাস্টারক্লাস

ম্যাচের ৬৪ মিনিটে জোড়া গোল করা কুনিয়া এবং মিডফিল্ডার লুকাস পাকেতাকে উঠিয়ে নেন আনচেলত্তি। তাদের জায়গায় নামেন এনদ্রিক ও গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লি। তখনই বোঝা যাচ্ছিল, আনচেলত্তি শুধু ম্যাচ জিততে চান না, বরং নকআউট পর্বের আগে পুরো স্কোয়াডকে ছন্দে আনতে চান।

মরক্কোর বিপক্ষে ড্রয়ের পর আতঙ্কিত না হয়ে সঠিক জায়গায় পরিবর্তন এনে দলের আক্রমণে নতুন প্রাণ সঞ্চার করেছেন এই মাস্টারমাইন্ড কোচ।

গ্রুপ টেবিলের বর্তমান চিত্র

এই জয়ের পর ‘সি’ গ্রুপে ২ ম্যাচ শেষে ৪ পয়েন্ট নিয়ে গোল ব্যবধানে শীর্ষে উঠে এসেছে ব্রাজিল। সমান ৪ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে মরক্কো। ৩ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে স্কটল্যান্ড এবং কোনো পয়েন্ট না পেয়ে টেবিলের তলানিতে (চতুর্থ স্থানে) রয়েছে হাইতি।

সাম্বার ছন্দ হয়তো এখনও পুরোপুরি ফিরে আসেনি, কিন্তু তার সুর যে আবার বাজতে শুরু করেছে, হাইতির বিপক্ষে এই জয় তারই সবচেয়ে সুন্দর প্রমাণ।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় খবর
Business Times24

সাম্বার ছন্দে হাইতিকে উড়িয়ে গ্রুপ শীর্ষে ব্রাজিল

Update Time : ০১:২৪:৩৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

মরক্কোর ধাক্কা সামলে কুনিয়ার জোড়া গোলে বিশ্বকাপে সেলেসাওদের প্রথম জয়

ক্রীড়া ডেস্ক | নিউজ পোর্টাল নাম ফিলাডেলফিয়া, ২০ জুন ২০২৬

ড্র দিয়ে বিশ্বকাপ শুরু হওয়ায় চারদিকে উঠেছিল সমালোচনার ঝড়। মরক্কোর বিপক্ষে জয় হাতছাড়া হওয়ার পর কার্লো আনচেলত্তির নতুন ব্রাজিলকে নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছিল—সাম্বার দেশ কি তবে আবারও নিজেদের হারিয়ে ফেলছে? তবে এমন সব নেতিবাচক প্রশ্নের জবাব দিতে একেবারেই সময় নেয়নি পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

শনিবার সকালে ফিলাডেলফিয়া স্টেডিয়ামে হাইতির বিপক্ষে মাঠে নেমে শুরু থেকেই নিজেদের চেনা ছন্দে ফেরে ব্রাজিল। আক্রমণাত্মক ফুটবলের প্রদর্শনীতে হাইতিকে ৩-০ ব্যবধানে উড়িয়ে দিয়েছে আনচেলত্তির শিষ্যরা। দলের হয়ে জোড়া গোল করেছেন ম্যাতেউস কুনিয়া এবং একটি গোল করেছেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র।

শুরুর প্রতিরোধ ভেঙে ব্রাজিলের আধিপত্য

ম্যাচের প্রথম দশ মিনিটে হাইতিকে বেশ সংগঠিত মনে হয়েছিল। তারা লড়াই করেছে, গতি দেখিয়েছে এবং ব্রাজিলকে সহজে জায়গা ছাড়েনি। কিন্তু সময় যত গড়িয়েছে, ততই স্পষ্ট হয়েছে দুই দলের মানের পার্থক্য। ব্রাজিলের আক্রমণের গতি, পাসের ছন্দ আর ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের সামনে ধীরে ধীরে অসহায় হয়ে পড়ে হাইতির রক্ষণভাগ।

প্রথম গোলের পর যেন বাঁধ ভেঙে যায়। মাঝমাঠ থেকে আক্রমণভাগ—সব জায়গায় ছড়িয়ে পড়ে ব্রাজিলের একক আধিপত্য।

সমালোচনার জবাব দিলেন কুনিয়া, জ্বললেন ভিনিসিয়ুস

এই ম্যাচের সবচেয়ে বড় প্রতীক ছিলেন ম্যাতেউস কুনিয়া। মরক্কো ম্যাচে যাকে প্রথম একাদশে না রাখা নিয়ে এত আলোচনা ও বিতর্ক হয়েছিল, সেই কুনিয়াই আজ জোড়া গোল করে কোচের আস্থার প্রতিদান দিলেন।

অন্যদিকে, ভিনিসিয়ুস জুনিয়রও ছিলেন নিজের চেনা রূপে। গতি, ড্রিবলিং আর আক্রমণাত্মক মানসিকতায় বারবার হাইতির রক্ষণে আতঙ্ক ছড়িয়েছেন রিয়াল মাদ্রিদ তারকা। গোল করার পাশাপাশি সতীর্থদের দিয়ে গোল করাতেও (অ্যাসিস্ট) ভূমিকা রাখেন তিনি।

ভিএআর (VAR) ও অফসাইডের বাধা

ম্যাচের ব্যবধান আরও বাড়তে পারতো। ১২ মিনিটে রাফিনিয়া বল জালে পাঠিয়েছিলেন ঠিকই, কিন্তু অফসাইডের কারণে সেই গোল বাতিল হয়ে যায়।

দ্বিতীয়ার্ধে বদলি হিসেবে নামা তরুণ সেনসেশন এনদ্রিকও নিজের নাম স্কোরশিটে তুলেছিলেন। ৭৮ মিনিটে তার শট জালে জড়ালেও প্রযুক্তির (ভিএআর) চোখে ধরা পড়ে অফসাইড। ফলে তরুণ তারকার উদযাপন থেমে যায় কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই। এর বাইরেও অন্তত তিনটি নিশ্চিত গোলের সুযোগ নষ্ট করেছে সেলেসাওরা।

আনচেলত্তির মাস্টারক্লাস

ম্যাচের ৬৪ মিনিটে জোড়া গোল করা কুনিয়া এবং মিডফিল্ডার লুকাস পাকেতাকে উঠিয়ে নেন আনচেলত্তি। তাদের জায়গায় নামেন এনদ্রিক ও গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লি। তখনই বোঝা যাচ্ছিল, আনচেলত্তি শুধু ম্যাচ জিততে চান না, বরং নকআউট পর্বের আগে পুরো স্কোয়াডকে ছন্দে আনতে চান।

মরক্কোর বিপক্ষে ড্রয়ের পর আতঙ্কিত না হয়ে সঠিক জায়গায় পরিবর্তন এনে দলের আক্রমণে নতুন প্রাণ সঞ্চার করেছেন এই মাস্টারমাইন্ড কোচ।

গ্রুপ টেবিলের বর্তমান চিত্র

এই জয়ের পর ‘সি’ গ্রুপে ২ ম্যাচ শেষে ৪ পয়েন্ট নিয়ে গোল ব্যবধানে শীর্ষে উঠে এসেছে ব্রাজিল। সমান ৪ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে মরক্কো। ৩ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে স্কটল্যান্ড এবং কোনো পয়েন্ট না পেয়ে টেবিলের তলানিতে (চতুর্থ স্থানে) রয়েছে হাইতি।

সাম্বার ছন্দ হয়তো এখনও পুরোপুরি ফিরে আসেনি, কিন্তু তার সুর যে আবার বাজতে শুরু করেছে, হাইতির বিপক্ষে এই জয় তারই সবচেয়ে সুন্দর প্রমাণ।