আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরে দেশের পাঁচ স্তরের স্থানীয় সরকার নির্বাচন সম্পন্ন করতে প্রায় ২ হাজার ৯০০ কোটি টাকার একটি বাজেট প্রস্তাব তৈরি করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। মঙ্গলবার (৯ জুন) ইসির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, এই বিশাল নির্বাচনী কর্মযজ্ঞের বাজেট প্রস্তাবনাটি ইতিমধ্যে অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। তবে চূড়ান্ত বাজেট অনুমোদনের সময় প্রস্তাবিত এই বরাদ্দে কিছুটা কাটছাঁট বা সমন্বয় হতে পারে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
পাঁচ স্তরের নির্বাচন আয়োজন
ইসির পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী অর্থবছরে ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ, পৌরসভা এবং সিটি করপোরেশন—এই পাঁচ স্তরের স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের সাধারণ ও উপ-নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
বর্তমানে নির্বাচনের উপযোগী রয়েছে:
- ইউনিয়ন পরিষদ: ৪,৫৮১টি
- উপজেলা পরিষদ: ৪৯৫টি
- জেলা পরিষদ: ৬১টি
- পৌরসভা: ৩৩০টি
- সিটি করপোরেশন: ১৩টি
ব্যয় বরাদ্দের খতিয়ান
ইসির কর্মকর্তাদের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় অঙ্কের খরচ হয় ইউনিয়ন পরিষদ ও উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে। দেশজুড়ে বিপুল সংখ্যক ভোটকেন্দ্র স্থাপন, নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিতকরণ এবং সামগ্রিক নির্বাচনী অবকাঠামো ব্যবহারের কারণে এই দুই ধরনের নির্বাচনে ব্যয়ের পরিমাণ প্রায় কাছাকাছি পর্যায়ে থাকে।
সংসদ নির্বাচনের ব্যয়ের তুলনা
চলতি বছরের শুরুতে অনুষ্ঠিত হওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের খরচের চিত্রটি এখানে উল্লেখ্য। সেই নির্বাচনে বরাদ্দকৃত ৩ হাজার কোটি টাকার মধ্যে আনুমানিক ২ হাজার ২০০ কোটি টাকারও বেশি ব্যয় হয়েছে বলে জানা গেছে।
এই প্রসঙ্গে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য বরাদ্দকৃত তহবিলের একটি অংশ এখনো অব্যবহৃত অবস্থায় আমাদের কাছে রয়ে গেছে।”
তিনি আরও যোগ করেন, নির্বাচন কমিশন সবসময়ই অপ্রয়োজনীয় খরচ এড়িয়ে সর্বোচ্চ সাশ্রয়ী পদ্ধতিতে নির্বাচন আয়োজনের চেষ্টা করছে। স্থানীয় সরকারের এই নির্বাচনগুলো সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্য প্রয়োজন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ পাওয়া যাবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক 
























