০৭:২৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কর্ণফুলী বাঁচাতে ‘বিনি সুতার মালা’, নদী দখলমুক্ত না হলে আন্দোলন

The gallery was not found!

কর্ণফুলী নদী রক্ষা, নদীভিত্তিক সংস্কৃতি সংরক্ষণ এবং মাঝিদের অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে ব্যতিক্রমধর্মী আয়োজন ‘বিনি সুতার মালা’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। নদীজুড়ে ভাসমান মঞ্চে গান, নৃত্য, আলোচনা ও সচেতনতামূলক প্রচারণার মাধ্যমে নদী দখল ও দূষণের বিরুদ্ধে সোচ্চার হন আয়োজক ও পরিবেশকর্মীরা।

শুক্রবার (৮ মে) চট্টগ্রাম নগরের সদরঘাট থেকে শুরু হয়ে লাম্বুরহাট পর্যন্ত কর্ণফুলীর উভয় তীরে এই কর্মসূচি পালিত হয়। চট্টগ্রাম ইতিহাস সংস্কৃতি গবেষণা কেন্দ্র এবং কর্ণফুলী নদী সাম্পান মাঝি কল্যাণ সমিতি ফেডারেশনের উদ্যোগে তিন দিনব্যাপী ‘সাম্পান খেলা ও চাটগাঁইয়া সংস্কৃতি মেলা’র প্রথম দিনের আয়োজন ছিল এটি।

আয়োজকরা জানান, নদীর দুই পাড়ের অন্তত ৩০টি ঘাট ও জনবসতিপূর্ণ এলাকায় ঘুরে স্থানীয় মানুষ ও নদী ব্যবহারকারীদের সচেতন করা হয়। সদরঘাট, চরপাথরঘাটা, নয়াহাট, কালুরঘাট, বোয়ালখালী ও লাম্বুরহাটসহ বিভিন্ন ঘাটে ভাসমান নৌমঞ্চে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ও আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে বক্তারা অভিযোগ করেন, কর্ণফুলী নদী দিনদিন অবৈধ দখল ও দূষণের শিকার হচ্ছে। হাইকোর্টের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও নদীতীরে গড়ে ওঠা অনেক অবৈধ স্থাপনা এখনো উচ্ছেদ করা হয়নি। শিল্পকারখানার বর্জ্য ও রাসায়নিক পদার্থ প্রতিনিয়ত নদীতে ফেলায় নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ও পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

তারা বলেন, নদী ব্যবহারকারী শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর দায়িত্ব সবচেয়ে বেশি। পরিবেশ রক্ষায় এসব প্রতিষ্ঠানে কার্যকর ইটিপি ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।

চট্টগ্রাম ইতিহাস সংস্কৃতি গবেষণা কেন্দ্রের চেয়ারম্যান সাংবাদিক আলীউর রহমান বলেন, অভয়মিত্র ঘাট এলাকায় শস্য খালাসের আড়ালে শিল্পকারখানার রাসায়নিক বর্জ্য ও স্ক্র্যাপ নদীতে ফেলা হচ্ছে। এতে পানি ও বায়ুদূষণ বাড়ছে। ফিরিঙ্গিবাজার ও আশপাশের আবাসিক এলাকার মানুষও ক্ষতির মুখে পড়ছেন।

তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আগামী দুই মাসের মধ্যে কর্ণফুলী নদীর দখল ও দূষণ বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের চেয়ারম্যান ডা. মাহজুর রহমান বলেন, “কর্ণফুলী বাঁচলে চট্টগ্রাম বাঁচবে, কর্ণফুলী বাঁচলে দেশের অর্থনীতিও শক্তিশালী হবে।”

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ইঞ্জিনিয়ার জসিমউদ্দিন, মির্জা বাহার উদ্দিন, এম মঈন উদ্দিনসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সংগঠকরা। সাংস্কৃতিক পর্বে নৃত্য পরিবেশন করেন রাইটেন দাশ ও তার দল।

আয়োজকরা জানান, রবিবার চরপাথরঘাটা সিডিএ মাঠে অনুষ্ঠিত হবে সাম্পান খেলা ও চাটগাঁইয়া সংস্কৃতি মেলার মূল আয়োজন।

 

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় খবর
Business Times24

কর্ণফুলী বাঁচাতে ‘বিনি সুতার মালা’, নদী দখলমুক্ত না হলে আন্দোলন

Update Time : ১২:৪২:৩৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০২৬

কর্ণফুলী নদী রক্ষা, নদীভিত্তিক সংস্কৃতি সংরক্ষণ এবং মাঝিদের অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে ব্যতিক্রমধর্মী আয়োজন ‘বিনি সুতার মালা’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। নদীজুড়ে ভাসমান মঞ্চে গান, নৃত্য, আলোচনা ও সচেতনতামূলক প্রচারণার মাধ্যমে নদী দখল ও দূষণের বিরুদ্ধে সোচ্চার হন আয়োজক ও পরিবেশকর্মীরা।

শুক্রবার (৮ মে) চট্টগ্রাম নগরের সদরঘাট থেকে শুরু হয়ে লাম্বুরহাট পর্যন্ত কর্ণফুলীর উভয় তীরে এই কর্মসূচি পালিত হয়। চট্টগ্রাম ইতিহাস সংস্কৃতি গবেষণা কেন্দ্র এবং কর্ণফুলী নদী সাম্পান মাঝি কল্যাণ সমিতি ফেডারেশনের উদ্যোগে তিন দিনব্যাপী ‘সাম্পান খেলা ও চাটগাঁইয়া সংস্কৃতি মেলা’র প্রথম দিনের আয়োজন ছিল এটি।

আয়োজকরা জানান, নদীর দুই পাড়ের অন্তত ৩০টি ঘাট ও জনবসতিপূর্ণ এলাকায় ঘুরে স্থানীয় মানুষ ও নদী ব্যবহারকারীদের সচেতন করা হয়। সদরঘাট, চরপাথরঘাটা, নয়াহাট, কালুরঘাট, বোয়ালখালী ও লাম্বুরহাটসহ বিভিন্ন ঘাটে ভাসমান নৌমঞ্চে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ও আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে বক্তারা অভিযোগ করেন, কর্ণফুলী নদী দিনদিন অবৈধ দখল ও দূষণের শিকার হচ্ছে। হাইকোর্টের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও নদীতীরে গড়ে ওঠা অনেক অবৈধ স্থাপনা এখনো উচ্ছেদ করা হয়নি। শিল্পকারখানার বর্জ্য ও রাসায়নিক পদার্থ প্রতিনিয়ত নদীতে ফেলায় নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ও পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

তারা বলেন, নদী ব্যবহারকারী শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর দায়িত্ব সবচেয়ে বেশি। পরিবেশ রক্ষায় এসব প্রতিষ্ঠানে কার্যকর ইটিপি ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।

চট্টগ্রাম ইতিহাস সংস্কৃতি গবেষণা কেন্দ্রের চেয়ারম্যান সাংবাদিক আলীউর রহমান বলেন, অভয়মিত্র ঘাট এলাকায় শস্য খালাসের আড়ালে শিল্পকারখানার রাসায়নিক বর্জ্য ও স্ক্র্যাপ নদীতে ফেলা হচ্ছে। এতে পানি ও বায়ুদূষণ বাড়ছে। ফিরিঙ্গিবাজার ও আশপাশের আবাসিক এলাকার মানুষও ক্ষতির মুখে পড়ছেন।

তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আগামী দুই মাসের মধ্যে কর্ণফুলী নদীর দখল ও দূষণ বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের চেয়ারম্যান ডা. মাহজুর রহমান বলেন, “কর্ণফুলী বাঁচলে চট্টগ্রাম বাঁচবে, কর্ণফুলী বাঁচলে দেশের অর্থনীতিও শক্তিশালী হবে।”

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ইঞ্জিনিয়ার জসিমউদ্দিন, মির্জা বাহার উদ্দিন, এম মঈন উদ্দিনসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সংগঠকরা। সাংস্কৃতিক পর্বে নৃত্য পরিবেশন করেন রাইটেন দাশ ও তার দল।

আয়োজকরা জানান, রবিবার চরপাথরঘাটা সিডিএ মাঠে অনুষ্ঠিত হবে সাম্পান খেলা ও চাটগাঁইয়া সংস্কৃতি মেলার মূল আয়োজন।