০৮:৪৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

১ জানুয়ারি থেকে বন্ধ হয়ে যাবে অতিরিক্ত মোবাইল সিম, কঠোর হচ্ছে সরকার

The gallery was not found!

জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে মোবাইল সিমকার্ড নিয়ন্ত্রণে কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এক ব্যক্তির নামে থাকা অতিরিক্ত মোবাইল সিম আগামী ১ জানুয়ারি থেকে বন্ধ করে দেওয়া হবে। পর্যায়ক্রমে একজন গ্রাহকের নামে সর্বোচ্চ সিম সংখ্যা ১০টি থেকে কমিয়ে প্রথমে ৫টি এবং পরে ২টিতে নামিয়ে আনা হবে।

সরকারি সূত্র জানায়, বিভিন্ন অপরাধে অন্যের নামে নিবন্ধিত সিমকার্ড ব্যবহারের প্রবণতা বেড়ে যাওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নির্বাচনের আগেই সিমকার্ডের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে আনতে উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)।

এদিকে সিম ব্যবহারে বিশ্বের দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান নবম। এ তালিকায় বাংলাদেশের পেছনে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, জাপান, জার্মানি, ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, দক্ষিণ কোরিয়া, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামের মতো দেশ।

বিটিআরসির পর্যালোচনায় দেখা গেছে, রাস্তাঘাটে সিম বিক্রির সময় কিছু অসাধু ব্যবসায়ী গ্রাহকের অজান্তেই বায়োমেট্রিক তথ্য সংরক্ষণ করে অতিরিক্ত সিম নিবন্ধন করছেন। একদিনেই একজন গ্রাহকের নামে দুইটির বেশি সিম বিক্রি হচ্ছে, যা অস্বাভাবিক বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

বিটিআরসির অক্টোবরে প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্যমতে, দেশে বর্তমানে মোবাইল সিম ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রায় ১৮ কোটি ৭৯ লাখ ৭০ হাজার। এর মধ্যে গ্রামীণফোনের গ্রাহক ৮ কোটি ৫৯ লাখ, রবি আজিয়াটার ৫ কোটি ৭৫ লাখ, বাংলালিংকের ৩ কোটি ৭৯ লাখ এবং টেলিটকের ৬৬ লাখ ৭০ হাজার।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৪ সালের অক্টোবরে সিম ব্যবহারকারী ছিল ১৮ কোটি ৯৯ লাখ। ২০২৩ সালে ১৮ কোটি ৯৬ লাখ, ২০২২ সালে ১৮ কোটি ১৬ লাখ এবং ২০২১ সালে ১৮ কোটি ১৩ লাখ। গত ১০ বছরে দেশে সিম ব্যবহারকারী বেড়েছে প্রায় সাড়ে পাঁচ কোটি। ২০১৫ সালে যেখানে গ্রাহক ছিল ১৩ কোটি ৩৭ লাখ, ২০২০ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১৭ কোটিতে।

বিটিআরসি সূত্র জানায়, দেশে মোট নিবন্ধিত সিমের সংখ্যা ২৬ কোটি ৬৩ লাখ। এর মধ্যে সক্রিয় রয়েছে প্রায় ১৯ কোটি সিম। আগস্ট পর্যন্ত এক ব্যক্তির নামে ১০টির বেশি সক্রিয় সিম ছিল প্রায় ৬৭ লাখ। গত তিন মাসে প্রায় ১৫ লাখ সিম গ্রাহক স্বেচ্ছায় বাতিল করেছেন। বাকি ৫০ থেকে ৫৩ লাখ সিম নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাতিল না করায় অপারেটরদের মাধ্যমে বন্ধ করে দেওয়া হবে।

এ বিষয়ে বিটিআরসি চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) এমদাদ উল বারী বলেন, “পহেলা জানুয়ারি থেকে নতুন করে সিম নিবন্ধনের ক্ষেত্রে একজন গ্রাহকের নামে পাঁচটির বেশি সিম দেওয়া হবে না। ধাপে ধাপে সেটি দুইটিতে নামিয়ে আনা হবে।”

তিনি আরও বলেন, “যাদের নামে ১০টির বেশি সিম রয়েছে, তারা সিম রিপ্লেস করতে এলে সিম সংখ্যা পাঁচটিতে নামিয়ে আনার নির্দেশনা দেওয়া হবে।”

বিটিআরসির তথ্যমতে, বর্তমানে দেশে ৬ কোটি ৭৫ লাখ ৯২ হাজার ৭৪৫ গ্রাহকের হাতে রয়েছে ১৮ কোটি ৮০ লাখের বেশি সিম। এর মধ্যে প্রায় ৮০ শতাংশ গ্রাহকের নামে ১ থেকে ৫টি সিম এবং ৬ থেকে ১০টি সিম রয়েছে এক কোটি ২০ লাখ গ্রাহকের কাছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় খবর
Business Times24

১ জানুয়ারি থেকে বন্ধ হয়ে যাবে অতিরিক্ত মোবাইল সিম, কঠোর হচ্ছে সরকার

Update Time : ০৪:৪৭:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫

জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে মোবাইল সিমকার্ড নিয়ন্ত্রণে কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এক ব্যক্তির নামে থাকা অতিরিক্ত মোবাইল সিম আগামী ১ জানুয়ারি থেকে বন্ধ করে দেওয়া হবে। পর্যায়ক্রমে একজন গ্রাহকের নামে সর্বোচ্চ সিম সংখ্যা ১০টি থেকে কমিয়ে প্রথমে ৫টি এবং পরে ২টিতে নামিয়ে আনা হবে।

সরকারি সূত্র জানায়, বিভিন্ন অপরাধে অন্যের নামে নিবন্ধিত সিমকার্ড ব্যবহারের প্রবণতা বেড়ে যাওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নির্বাচনের আগেই সিমকার্ডের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে আনতে উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)।

এদিকে সিম ব্যবহারে বিশ্বের দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান নবম। এ তালিকায় বাংলাদেশের পেছনে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, জাপান, জার্মানি, ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, দক্ষিণ কোরিয়া, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামের মতো দেশ।

বিটিআরসির পর্যালোচনায় দেখা গেছে, রাস্তাঘাটে সিম বিক্রির সময় কিছু অসাধু ব্যবসায়ী গ্রাহকের অজান্তেই বায়োমেট্রিক তথ্য সংরক্ষণ করে অতিরিক্ত সিম নিবন্ধন করছেন। একদিনেই একজন গ্রাহকের নামে দুইটির বেশি সিম বিক্রি হচ্ছে, যা অস্বাভাবিক বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

বিটিআরসির অক্টোবরে প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্যমতে, দেশে বর্তমানে মোবাইল সিম ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রায় ১৮ কোটি ৭৯ লাখ ৭০ হাজার। এর মধ্যে গ্রামীণফোনের গ্রাহক ৮ কোটি ৫৯ লাখ, রবি আজিয়াটার ৫ কোটি ৭৫ লাখ, বাংলালিংকের ৩ কোটি ৭৯ লাখ এবং টেলিটকের ৬৬ লাখ ৭০ হাজার।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৪ সালের অক্টোবরে সিম ব্যবহারকারী ছিল ১৮ কোটি ৯৯ লাখ। ২০২৩ সালে ১৮ কোটি ৯৬ লাখ, ২০২২ সালে ১৮ কোটি ১৬ লাখ এবং ২০২১ সালে ১৮ কোটি ১৩ লাখ। গত ১০ বছরে দেশে সিম ব্যবহারকারী বেড়েছে প্রায় সাড়ে পাঁচ কোটি। ২০১৫ সালে যেখানে গ্রাহক ছিল ১৩ কোটি ৩৭ লাখ, ২০২০ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১৭ কোটিতে।

বিটিআরসি সূত্র জানায়, দেশে মোট নিবন্ধিত সিমের সংখ্যা ২৬ কোটি ৬৩ লাখ। এর মধ্যে সক্রিয় রয়েছে প্রায় ১৯ কোটি সিম। আগস্ট পর্যন্ত এক ব্যক্তির নামে ১০টির বেশি সক্রিয় সিম ছিল প্রায় ৬৭ লাখ। গত তিন মাসে প্রায় ১৫ লাখ সিম গ্রাহক স্বেচ্ছায় বাতিল করেছেন। বাকি ৫০ থেকে ৫৩ লাখ সিম নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাতিল না করায় অপারেটরদের মাধ্যমে বন্ধ করে দেওয়া হবে।

এ বিষয়ে বিটিআরসি চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) এমদাদ উল বারী বলেন, “পহেলা জানুয়ারি থেকে নতুন করে সিম নিবন্ধনের ক্ষেত্রে একজন গ্রাহকের নামে পাঁচটির বেশি সিম দেওয়া হবে না। ধাপে ধাপে সেটি দুইটিতে নামিয়ে আনা হবে।”

তিনি আরও বলেন, “যাদের নামে ১০টির বেশি সিম রয়েছে, তারা সিম রিপ্লেস করতে এলে সিম সংখ্যা পাঁচটিতে নামিয়ে আনার নির্দেশনা দেওয়া হবে।”

বিটিআরসির তথ্যমতে, বর্তমানে দেশে ৬ কোটি ৭৫ লাখ ৯২ হাজার ৭৪৫ গ্রাহকের হাতে রয়েছে ১৮ কোটি ৮০ লাখের বেশি সিম। এর মধ্যে প্রায় ৮০ শতাংশ গ্রাহকের নামে ১ থেকে ৫টি সিম এবং ৬ থেকে ১০টি সিম রয়েছে এক কোটি ২০ লাখ গ্রাহকের কাছে।