০৪:৩৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ফিরছে ‘না ভোট’, বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জেতার সুযোগের অবসান

The gallery was not found!

গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশ (আরপিও) সংশোধনী–২০২৫ এর খসড়ার নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে উপদেষ্টা পরিষদ। এর মাধ্যমে বন্ধ হলো বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ, ফিরছে ‘না ভোট’। বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়।

বিকেলে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকের পর সংবাদ সম্মেলনে আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল সংশোধিত আরপিওর গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, “আরপিওর সংশোধনীতে ‘না ভোট’-এর একটি বিধান করা হয়েছে। যেই নির্বাচনে একজন প্রার্থী থাকবে, সেখানে ভোটাররা যদি চান, তারা ‘না ভোট’ দিতে পারবেন—অর্থাৎ জানাতে পারবেন যে ওই প্রার্থী তাদের পছন্দ নয়। যদি ‘না ভোট’ বেশি হয়, তাহলে সেখানে পুনরায় নির্বাচন হবে।”

তিনি আরও বলেন, “২০১৪ সালের নির্বাচনে ১৫৩টি আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় প্রার্থী নির্বাচিত হয়েছিলেন। ভবিষ্যতে যেন এমন সাজানো নির্বাচন না হয়, সে জন্যই এই ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।”

আইন উপদেষ্টা জানান, সংশোধিত আরপিওতে ইভিএম (ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন) সম্পর্কিত সব বিধান বাতিল করা হয়েছে। পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনের অধীনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংজ্ঞায় সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

তিনি বলেন, “যেসব ব্যক্তি বিভিন্ন মামলায় পলাতক, তারা আর নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না। প্রার্থীদের দেশি ও বিদেশি সব আয় ও সম্পদের বিস্তারিত তথ্য দিতে হবে, যা নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে।”

সংশোধনীতে প্রার্থীদের জামানত ২০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫০ হাজার টাকা করা হয়েছে। এছাড়া প্রবাসী ভোটারদের পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। একই সুবিধা পাবেন নির্বাচনকাজে নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও।

আইন উপদেষ্টা আরও জানান, নির্বাচনে স্বচ্ছতা বাড়াতে গণমাধ্যমকে ভোট গণনার স্থানে উপস্থিত থাকার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, “রাজনৈতিক দলকে যদি কেউ ৫০ হাজার টাকা বা তার বেশি অনুদান দেন, তা ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে দিতে হবে। অনুদানদাতাকে ট্যাক্স রিটার্ন জমা দিতে হবে।”

অন্যদিকে, আগের বিধান অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন কোনো কেন্দ্রের ভোট বাতিল করতে পারলেও এখন চাইলে পুরো নির্বাচনী এলাকার ভোটই বাতিল করতে পারবে—এমন ক্ষমতা যোগ করা হয়েছে।

ব্রিফিংয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলমও উপস্থিত ছিলেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় খবর

ভবিষ্যৎ অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ খাত হতে পারে ব্লু ইকোনমি: শিক্ষামন্ত্রী

Business Times24

ফিরছে ‘না ভোট’, বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জেতার সুযোগের অবসান

Update Time : ০৭:৪৫:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৫

গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশ (আরপিও) সংশোধনী–২০২৫ এর খসড়ার নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে উপদেষ্টা পরিষদ। এর মাধ্যমে বন্ধ হলো বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ, ফিরছে ‘না ভোট’। বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়।

বিকেলে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকের পর সংবাদ সম্মেলনে আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল সংশোধিত আরপিওর গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, “আরপিওর সংশোধনীতে ‘না ভোট’-এর একটি বিধান করা হয়েছে। যেই নির্বাচনে একজন প্রার্থী থাকবে, সেখানে ভোটাররা যদি চান, তারা ‘না ভোট’ দিতে পারবেন—অর্থাৎ জানাতে পারবেন যে ওই প্রার্থী তাদের পছন্দ নয়। যদি ‘না ভোট’ বেশি হয়, তাহলে সেখানে পুনরায় নির্বাচন হবে।”

তিনি আরও বলেন, “২০১৪ সালের নির্বাচনে ১৫৩টি আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় প্রার্থী নির্বাচিত হয়েছিলেন। ভবিষ্যতে যেন এমন সাজানো নির্বাচন না হয়, সে জন্যই এই ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।”

আইন উপদেষ্টা জানান, সংশোধিত আরপিওতে ইভিএম (ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন) সম্পর্কিত সব বিধান বাতিল করা হয়েছে। পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনের অধীনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংজ্ঞায় সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

তিনি বলেন, “যেসব ব্যক্তি বিভিন্ন মামলায় পলাতক, তারা আর নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না। প্রার্থীদের দেশি ও বিদেশি সব আয় ও সম্পদের বিস্তারিত তথ্য দিতে হবে, যা নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে।”

সংশোধনীতে প্রার্থীদের জামানত ২০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫০ হাজার টাকা করা হয়েছে। এছাড়া প্রবাসী ভোটারদের পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। একই সুবিধা পাবেন নির্বাচনকাজে নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও।

আইন উপদেষ্টা আরও জানান, নির্বাচনে স্বচ্ছতা বাড়াতে গণমাধ্যমকে ভোট গণনার স্থানে উপস্থিত থাকার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, “রাজনৈতিক দলকে যদি কেউ ৫০ হাজার টাকা বা তার বেশি অনুদান দেন, তা ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে দিতে হবে। অনুদানদাতাকে ট্যাক্স রিটার্ন জমা দিতে হবে।”

অন্যদিকে, আগের বিধান অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন কোনো কেন্দ্রের ভোট বাতিল করতে পারলেও এখন চাইলে পুরো নির্বাচনী এলাকার ভোটই বাতিল করতে পারবে—এমন ক্ষমতা যোগ করা হয়েছে।

ব্রিফিংয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলমও উপস্থিত ছিলেন।