০৩:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬

ইরানের কেশম দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা

The gallery was not found!

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগের দিন সোমবার ইরানের কেশম দ্বীপে হামলা চালিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পরিকল্পনা করা ইরানিদের ঠেকাতে আত্মরক্ষামূলক পদক্ষেপ হিসেবে সীমিত আকারে এই হামলা চালানো হয়েছে।

মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে নিউইয়র্ক টাইমস জানায়, হামলার পরিসর ছোট ছিল। আপাতত সামরিক অভিযান আরও জোরদার করার কোনো পরিকল্পনা নেই।

প্রতিবেদনে বলা হয়, মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে আবারও হামলা চালানোর কথা বিবেচনা করছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে যুদ্ধ পরিচালনার কৌশল নিয়ে কয়েকবার অবস্থান পরিবর্তন করেছেন ট্রাম্প। ইরান নিয়ে তার বারবার অবস্থান পরিবর্তনের কারণে পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, তা নিয়ে নিজের প্রশাসন ও সরকারের অনেক কর্মকর্তার মধ্যেও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

সোমবার সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তি হতে পারে।

এদিন রাতে ফক্স নিউজের উপস্থাপক শন হ্যানিটির সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ‘কোনো যুদ্ধ চলছে না’।

তিনি বলেন, ‘এটি চলমান কোনো যুদ্ধের মতো নয়। এখন কোনো যুদ্ধ চলছে না। তবে তারা যদি চুক্তিতে রাজি না হয়, তাহলে যুদ্ধ শুরু হতে পারে। কিন্তু তারা খুব করেই চুক্তি করতে চায়। আমাদের চুক্তিতে পৌঁছানোর সম্ভাবনাও বেশ ভালো।’

একই দিনে দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও বলেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনায় কিছুটা ‘অগ্রগতি’ হয়েছে। একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর সম্ভাবনা নিয়ে তিনি ও ট্রাম্প দুজনই ‘বেশ আশাবাদী’।

দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল প্রথম কেশম দ্বীপে হামলার খবর প্রকাশ করে। যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যমটিকে জানান, গত কয়েক সপ্তাহে ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের চালানো অন্যান্য সীমিত হামলার সঙ্গে এই অভিযানের ধরন একই রকম।

তার ভাষ্য, হরমুজ প্রণালিতে ইরান যেন জাহাজে হামলা চালাতে না পারে, তা ঠেকাতেই এসব হামলা করা হচ্ছে।

আরেক মার্কিন কর্মকর্তা জানান, এর আগে চালানো হামলায় ইরানের ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণযন্ত্রগুলো লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল।

ওই কর্মকর্তা বলেন, সোমবারের হামলার আগে ইরানের বিপ্লবী রক্ষী বাহিনী (আইআরজিসি) যুক্তরাষ্ট্রের একটি ড্রোন ভূপাতিত করে। এ ছাড়া হরমুজ প্রণালির আকাশে উড়তে থাকা দুটি মার্কিন যুদ্ধবিমান লক্ষ্য করে গুলি চালায়। তবে সেগুলোতে আঘাত করতে পারেনি ইরান।

গত কয়েক সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের এসব হামলা সীমিত ও আত্মরক্ষামূলক বলে দাবি করা হলেও এগুলোর কোনোটি নিয়েই যুক্তরাষ্ট্র বা ইরান প্রকাশ্যে কিছু জানায়নি। সেপ্টেম্বরের শুরুর দিকে টানা দুই দিন ইরানে হামলা চালিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র।

এর আগে সেপ্টেম্বরের শুরুতে আরব সাগরে যুক্তরাষ্ট্রের দুটি যুদ্ধজাহাজ লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে ইরান। তবে সেগুলো লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পাঁচটি অপরিশোধিত তেলবাহী জাহাজ ধ্বংস করে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় খবর

পোশাক শ্রমিকদের নতুন মজুরি ডিসেম্বরে, বোর্ডের প্রথম সভা শেষে জানালেন মালিক ও শ্রমিক প্রতিনিধিরা

Business Times24

ইরানের কেশম দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা

Update Time : ১২:১১:৫১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগের দিন সোমবার ইরানের কেশম দ্বীপে হামলা চালিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পরিকল্পনা করা ইরানিদের ঠেকাতে আত্মরক্ষামূলক পদক্ষেপ হিসেবে সীমিত আকারে এই হামলা চালানো হয়েছে।

মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে নিউইয়র্ক টাইমস জানায়, হামলার পরিসর ছোট ছিল। আপাতত সামরিক অভিযান আরও জোরদার করার কোনো পরিকল্পনা নেই।

প্রতিবেদনে বলা হয়, মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে আবারও হামলা চালানোর কথা বিবেচনা করছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে যুদ্ধ পরিচালনার কৌশল নিয়ে কয়েকবার অবস্থান পরিবর্তন করেছেন ট্রাম্প। ইরান নিয়ে তার বারবার অবস্থান পরিবর্তনের কারণে পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, তা নিয়ে নিজের প্রশাসন ও সরকারের অনেক কর্মকর্তার মধ্যেও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

সোমবার সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তি হতে পারে।

এদিন রাতে ফক্স নিউজের উপস্থাপক শন হ্যানিটির সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ‘কোনো যুদ্ধ চলছে না’।

তিনি বলেন, ‘এটি চলমান কোনো যুদ্ধের মতো নয়। এখন কোনো যুদ্ধ চলছে না। তবে তারা যদি চুক্তিতে রাজি না হয়, তাহলে যুদ্ধ শুরু হতে পারে। কিন্তু তারা খুব করেই চুক্তি করতে চায়। আমাদের চুক্তিতে পৌঁছানোর সম্ভাবনাও বেশ ভালো।’

একই দিনে দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও বলেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনায় কিছুটা ‘অগ্রগতি’ হয়েছে। একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর সম্ভাবনা নিয়ে তিনি ও ট্রাম্প দুজনই ‘বেশ আশাবাদী’।

দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল প্রথম কেশম দ্বীপে হামলার খবর প্রকাশ করে। যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যমটিকে জানান, গত কয়েক সপ্তাহে ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের চালানো অন্যান্য সীমিত হামলার সঙ্গে এই অভিযানের ধরন একই রকম।

তার ভাষ্য, হরমুজ প্রণালিতে ইরান যেন জাহাজে হামলা চালাতে না পারে, তা ঠেকাতেই এসব হামলা করা হচ্ছে।

আরেক মার্কিন কর্মকর্তা জানান, এর আগে চালানো হামলায় ইরানের ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণযন্ত্রগুলো লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল।

ওই কর্মকর্তা বলেন, সোমবারের হামলার আগে ইরানের বিপ্লবী রক্ষী বাহিনী (আইআরজিসি) যুক্তরাষ্ট্রের একটি ড্রোন ভূপাতিত করে। এ ছাড়া হরমুজ প্রণালির আকাশে উড়তে থাকা দুটি মার্কিন যুদ্ধবিমান লক্ষ্য করে গুলি চালায়। তবে সেগুলোতে আঘাত করতে পারেনি ইরান।

গত কয়েক সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের এসব হামলা সীমিত ও আত্মরক্ষামূলক বলে দাবি করা হলেও এগুলোর কোনোটি নিয়েই যুক্তরাষ্ট্র বা ইরান প্রকাশ্যে কিছু জানায়নি। সেপ্টেম্বরের শুরুর দিকে টানা দুই দিন ইরানে হামলা চালিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র।

এর আগে সেপ্টেম্বরের শুরুতে আরব সাগরে যুক্তরাষ্ট্রের দুটি যুদ্ধজাহাজ লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে ইরান। তবে সেগুলো লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পাঁচটি অপরিশোধিত তেলবাহী জাহাজ ধ্বংস করে।