০২:৫৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ব্যয়ের রেকর্ড, ট্রাম্প প্রশাসনে বিপর্যয়ের শঙ্কা

The gallery was not found!

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা ও অর্থের প্রবাহ নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) নির্বাচনে কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে লড়াইয়ের পাশাপাশি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থানও নির্ধারিত হতে যাচ্ছে।

রিপাবলিকানরা সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারালে আগামী দুই বছর প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন, বাজেট অনুমোদন এবং আইন প্রণয়নে বড় ধরনের বাধার মুখে পড়তে পারেন ট্রাম্প। অন্যদিকে, নির্বাচনী প্রচারে ব্যয়ের পরিমাণ অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যাওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলো।

কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে লড়াই

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫টি আসনের মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে প্রয়োজন ২১৮টি আসন। বিভিন্ন জনমত জরিপে ডেমোক্র্যাটদের আসনসংখ্যা ২৩৭ পর্যন্ত পৌঁছানোর সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে। একই সঙ্গে সিনেটেও রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণ হারানোর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

কংগ্রেসের উভয় কক্ষে ডেমোক্র্যাটরা সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলে ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন সিদ্ধান্তের ওপর তদন্ত ও নজরদারি বাড়াতে পারবেন। সরকারি ব্যয়, নীতিগত সিদ্ধান্ত এবং প্রশাসনের কর্মকর্তাদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও তাদের প্রভাব বাড়বে। তবে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারালেই প্রেসিডেন্টের নির্বাহী ক্ষমতা শেষ হয়ে যাবে না। বরং বিরোধী দলের সঙ্গে সমঝোতা করে প্রশাসন পরিচালনা করতে হবে ট্রাম্পকে।

গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গরাজ্যে ডেমোক্র্যাটদের অগ্রগতি

টেক্সাসের সিনেট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জেমস টালারিকো রিপাবলিকান কেন প্যাক্সটনের চেয়ে সাত পয়েন্টে এগিয়ে রয়েছেন। জরিপে টালারিকোর সমর্থন ৫০ শতাংশ, প্যাক্সটনের ৪৩ শতাংশ।

মেইন অঙ্গরাজ্যে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ট্রয় জ্যাকসনের সমর্থন ৫১ শতাংশ, যেখানে রিপাবলিকান সিনেটর সুসান কলিন্সের সমর্থন ৪৫ শতাংশ। তবে অতীতের নির্বাচনে জরিপে পিছিয়ে থেকেও কলিন্স বিজয়ী হওয়ায় এবারও ফলাফল নিয়ে সতর্কতা রয়েছে।

মিশিগানে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আবদুল এল সাইয়েদ ৪৯ থেকে ৫১ শতাংশ সমর্থন নিয়ে এগিয়ে আছেন। রিপাবলিকান মাইক রজার্সের সমর্থন ৪২ থেকে ৪৫ শতাংশ। নির্বাচনের আগে সাবেক কংগ্রেসওম্যান হ্যালি স্টিভেন্স রজার্সকে সমর্থন দেওয়ায় ডেমোক্র্যাট শিবিরে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। তবে সাইয়েদের প্রচারণা জানিয়েছে, ওই ঘটনার পর একদিনেই তাদের নির্বাচনী তহবিলে ২৪ লাখ ডলার এসেছে। মিশিগানে ২৩ লাখের বেশি ভোটার আগাম ভোট দিয়েছেন।

নির্বাচনী ব্যয়ে নতুন রেকর্ড

স্বাধীন নির্বাচনী অর্থায়ন পর্যবেক্ষক সংস্থা ওপেন সিক্রেটসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে মোট ব্যয় প্রায় ১ হাজার ১৯০ কোটি ডলারে পৌঁছাতে পারে। ২০২২ সালের নির্বাচনের তুলনায় এই ব্যয় প্রায় ৩০ শতাংশ বেশি।

ফেডারেল নির্বাচন কমিশনের নথি অনুযায়ী, অক্টোবরের মাঝামাঝি পর্যন্ত নির্বাচনী প্রচারে ৯৫০ কোটি ডলারের বেশি ব্যয় হয়েছে। এর মধ্যে পিএসি ও সুপার পিএসিগুলোর ব্যয় প্রায় ৫৫০ কোটি ডলার।

ধনকুবেরদের অর্থায়নে প্রচার

এবারের নির্বাচনে বড় ব্যক্তিগত অর্থদাতা টেসলা ও স্পেসএক্সের প্রধান নির্বাহী ইলন মাস্ক। অক্টোবর পর্যন্ত তাঁর নির্বাচনী অনুদান প্রায় ৫০ কোটি ডলার। রিপাবলিকান-সমর্থিত বিভিন্ন উদ্যোগে তাঁর অর্থের বড় অংশ গেছে।

মাস্কের প্রতিষ্ঠিত আমেরিকা পিএসি টেক্সাসের সিনেট নির্বাচনে ৪ কোটি ৫০ লাখ ডলারের বেশি ব্যয় করেছে। মিশিগান ও ওহাইওর নির্বাচনে প্রতিটিতে প্রায় ১ কোটি ডলার বিনিয়োগ করেছে সংগঠনটি।

ব্রেনান সেন্টার ফর জাস্টিসের তথ্য অনুযায়ী, ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত শীর্ষ ৪০ জন দাতা ২৪০ কোটি ডলার অনুদান দিয়েছেন। সাবেক নিউইয়র্ক মেয়র মাইকেল ব্লুমবার্গ ডেমোক্র্যাটদের নির্বাচনী উদ্যোগে ৬ কোটি ডলারের বেশি দিয়েছেন। অন্যদিকে, রিপাবলিকানদের নির্বাচনী প্রচারে কয়েকজন ধনকুবের ১০ কোটি ডলারের বেশি অনুদান দিয়েছেন।

বিজ্ঞাপনে বিপুল ব্যয়

অ্যাডইমপ্যাক্টের তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবরের শেষ নাগাদ নির্বাচনী বিজ্ঞাপনে ব্যয় হয়েছে ১ হাজার ১১৫ কোটি ডলার। টেলিভিশন বিজ্ঞাপন প্রচারের প্রধান মাধ্যম হলেও ডিজিটাল বিজ্ঞাপনে বিনিয়োগ বাড়ছে।

সব মিলিয়ে অর্থনীতি, জীবনযাত্রার ব্যয় ও রাজনৈতিক আস্থার প্রশ্ন এবারের নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ বদলে গেলে ট্রাম্প প্রশাসনকে আগামী দুই বছর শক্তিশালী বিরোধিতার মুখে পড়তে হতে পারে। একই সঙ্গে নির্বাচনী ব্যয়ের নতুন রেকর্ড যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে অর্থের ক্রমবর্ধমান প্রভাবও তুলে ধরছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় খবর

পোশাক শ্রমিকদের নতুন মজুরি ডিসেম্বরে, বোর্ডের প্রথম সভা শেষে জানালেন মালিক ও শ্রমিক প্রতিনিধিরা

Business Times24

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ব্যয়ের রেকর্ড, ট্রাম্প প্রশাসনে বিপর্যয়ের শঙ্কা

Update Time : ১২:৪১:৫৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা ও অর্থের প্রবাহ নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) নির্বাচনে কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে লড়াইয়ের পাশাপাশি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থানও নির্ধারিত হতে যাচ্ছে।

রিপাবলিকানরা সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারালে আগামী দুই বছর প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন, বাজেট অনুমোদন এবং আইন প্রণয়নে বড় ধরনের বাধার মুখে পড়তে পারেন ট্রাম্প। অন্যদিকে, নির্বাচনী প্রচারে ব্যয়ের পরিমাণ অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যাওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলো।

কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে লড়াই

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫টি আসনের মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে প্রয়োজন ২১৮টি আসন। বিভিন্ন জনমত জরিপে ডেমোক্র্যাটদের আসনসংখ্যা ২৩৭ পর্যন্ত পৌঁছানোর সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে। একই সঙ্গে সিনেটেও রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণ হারানোর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

কংগ্রেসের উভয় কক্ষে ডেমোক্র্যাটরা সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলে ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন সিদ্ধান্তের ওপর তদন্ত ও নজরদারি বাড়াতে পারবেন। সরকারি ব্যয়, নীতিগত সিদ্ধান্ত এবং প্রশাসনের কর্মকর্তাদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও তাদের প্রভাব বাড়বে। তবে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারালেই প্রেসিডেন্টের নির্বাহী ক্ষমতা শেষ হয়ে যাবে না। বরং বিরোধী দলের সঙ্গে সমঝোতা করে প্রশাসন পরিচালনা করতে হবে ট্রাম্পকে।

গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গরাজ্যে ডেমোক্র্যাটদের অগ্রগতি

টেক্সাসের সিনেট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জেমস টালারিকো রিপাবলিকান কেন প্যাক্সটনের চেয়ে সাত পয়েন্টে এগিয়ে রয়েছেন। জরিপে টালারিকোর সমর্থন ৫০ শতাংশ, প্যাক্সটনের ৪৩ শতাংশ।

মেইন অঙ্গরাজ্যে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ট্রয় জ্যাকসনের সমর্থন ৫১ শতাংশ, যেখানে রিপাবলিকান সিনেটর সুসান কলিন্সের সমর্থন ৪৫ শতাংশ। তবে অতীতের নির্বাচনে জরিপে পিছিয়ে থেকেও কলিন্স বিজয়ী হওয়ায় এবারও ফলাফল নিয়ে সতর্কতা রয়েছে।

মিশিগানে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আবদুল এল সাইয়েদ ৪৯ থেকে ৫১ শতাংশ সমর্থন নিয়ে এগিয়ে আছেন। রিপাবলিকান মাইক রজার্সের সমর্থন ৪২ থেকে ৪৫ শতাংশ। নির্বাচনের আগে সাবেক কংগ্রেসওম্যান হ্যালি স্টিভেন্স রজার্সকে সমর্থন দেওয়ায় ডেমোক্র্যাট শিবিরে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। তবে সাইয়েদের প্রচারণা জানিয়েছে, ওই ঘটনার পর একদিনেই তাদের নির্বাচনী তহবিলে ২৪ লাখ ডলার এসেছে। মিশিগানে ২৩ লাখের বেশি ভোটার আগাম ভোট দিয়েছেন।

নির্বাচনী ব্যয়ে নতুন রেকর্ড

স্বাধীন নির্বাচনী অর্থায়ন পর্যবেক্ষক সংস্থা ওপেন সিক্রেটসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে মোট ব্যয় প্রায় ১ হাজার ১৯০ কোটি ডলারে পৌঁছাতে পারে। ২০২২ সালের নির্বাচনের তুলনায় এই ব্যয় প্রায় ৩০ শতাংশ বেশি।

ফেডারেল নির্বাচন কমিশনের নথি অনুযায়ী, অক্টোবরের মাঝামাঝি পর্যন্ত নির্বাচনী প্রচারে ৯৫০ কোটি ডলারের বেশি ব্যয় হয়েছে। এর মধ্যে পিএসি ও সুপার পিএসিগুলোর ব্যয় প্রায় ৫৫০ কোটি ডলার।

ধনকুবেরদের অর্থায়নে প্রচার

এবারের নির্বাচনে বড় ব্যক্তিগত অর্থদাতা টেসলা ও স্পেসএক্সের প্রধান নির্বাহী ইলন মাস্ক। অক্টোবর পর্যন্ত তাঁর নির্বাচনী অনুদান প্রায় ৫০ কোটি ডলার। রিপাবলিকান-সমর্থিত বিভিন্ন উদ্যোগে তাঁর অর্থের বড় অংশ গেছে।

মাস্কের প্রতিষ্ঠিত আমেরিকা পিএসি টেক্সাসের সিনেট নির্বাচনে ৪ কোটি ৫০ লাখ ডলারের বেশি ব্যয় করেছে। মিশিগান ও ওহাইওর নির্বাচনে প্রতিটিতে প্রায় ১ কোটি ডলার বিনিয়োগ করেছে সংগঠনটি।

ব্রেনান সেন্টার ফর জাস্টিসের তথ্য অনুযায়ী, ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত শীর্ষ ৪০ জন দাতা ২৪০ কোটি ডলার অনুদান দিয়েছেন। সাবেক নিউইয়র্ক মেয়র মাইকেল ব্লুমবার্গ ডেমোক্র্যাটদের নির্বাচনী উদ্যোগে ৬ কোটি ডলারের বেশি দিয়েছেন। অন্যদিকে, রিপাবলিকানদের নির্বাচনী প্রচারে কয়েকজন ধনকুবের ১০ কোটি ডলারের বেশি অনুদান দিয়েছেন।

বিজ্ঞাপনে বিপুল ব্যয়

অ্যাডইমপ্যাক্টের তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবরের শেষ নাগাদ নির্বাচনী বিজ্ঞাপনে ব্যয় হয়েছে ১ হাজার ১১৫ কোটি ডলার। টেলিভিশন বিজ্ঞাপন প্রচারের প্রধান মাধ্যম হলেও ডিজিটাল বিজ্ঞাপনে বিনিয়োগ বাড়ছে।

সব মিলিয়ে অর্থনীতি, জীবনযাত্রার ব্যয় ও রাজনৈতিক আস্থার প্রশ্ন এবারের নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ বদলে গেলে ট্রাম্প প্রশাসনকে আগামী দুই বছর শক্তিশালী বিরোধিতার মুখে পড়তে হতে পারে। একই সঙ্গে নির্বাচনী ব্যয়ের নতুন রেকর্ড যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে অর্থের ক্রমবর্ধমান প্রভাবও তুলে ধরছে।