মাংসের পুরভরা মুচমুচে রুটি, পুদিনার সুবাসে ডিমের ঝোল, কুমড়ো-ডালের ঘন স্যুপ কিংবা মশলাদার টমেটো সসে চিংড়ির কোফতা—মিশরীয় খাবারের জগতে রয়েছে স্বাদ আর বৈচিত্র্যের দারুণ আয়োজন। উত্তর আফ্রিকার এই দেশটির রান্নায় মিশেছে সুগন্ধি মশলা, তাজা শাকসবজি, ডাল, সামুদ্রিক খাবার এবং শত শত বছরের ঐতিহ্য। প্রতিদিনের সাধারণ উপকরণেই কীভাবে তৈরি হতে পারে অসাধারণ সব পদ, তারই সুস্বাদু উদাহরণ মিশরের জনপ্রিয় খাবারগুলো।
হাওয়াওশি: রুটির ভেতরে মাংসের মজাদার চমক
মিশরের জনপ্রিয় পথখাবার হাওয়াওশি দিয়ে শুরু করা যাক। পাউরুটি নয়, বিশেষ ধরনের পকেটযুক্ত রুটির ভেতরে গরুর কিমা, পেঁয়াজ, রসুন, মরিচ ও নানা মশলা ভরে তৈরি হয় এই পদ। এরপর রুটি সেঁকে বা ওভেনে বেক করে পরিবেশন করা হয়। বাইরে সোনালি মুচমুচে আবরণ, ভেতরে রসাল মাংসের পুর—প্রতিটি কামড়েই মিলবে ঝাল আর মশলার জমজমাট স্বাদ। সঙ্গে আচার ও তাহিনি সস থাকলে জমে যায় পুরো আয়োজন।
শাকশুকা: ডিমের সঙ্গে পুদিনার সুবাস
ডিমের পদ মানেই যে একই স্বাদ, তা নয়। মিশরীয় শাকশুকায় পেঁয়াজ, রসুন, পুদিনা ও ফেটা চিজের সঙ্গে রান্না হয় ডিম। এর ওপর দেওয়া হয় ঝাল সবুজ হারিসা সস। নরম ডিমের কুসুম, পুদিনার সতেজ সুবাস আর মরিচের ঝাঁজ—সব মিলিয়ে সকালের নাশতা কিংবা হালকা খাবারের জন্য এটি হতে পারে দারুণ পছন্দ।
কুমড়ো-ডালের স্যুপে পুষ্টি ও স্বাদ
মিশরের পশ্চিম মরুভূমির সিওয়া অঞ্চলে কুমড়োর বিশেষ কদর রয়েছে। সেই ঐতিহ্যের অনুপ্রেরণায় তৈরি কুমড়ো ও মসুর ডালের স্যুপে থাকে পেঁয়াজ, রসুন, টমেটো, মরিচ এবং সুগন্ধি বাহারাত মশলা। সব উপকরণ ধীরে রান্না করে মসৃণ করে নিলেই তৈরি হয় ঘন, উষ্ণ ও তৃপ্তিদায়ক স্যুপ। নিরামিষ খাবারপ্রেমীদের জন্যও এটি আকর্ষণীয়।
ফুল: সাধারণ শিমে অসাধারণ স্বাদ
মিশরের জাতীয় খাবার হিসেবে পরিচিত ফুল তৈরি হয় ফাভা বিন বা একধরনের শিম দিয়ে। টমেটো, রসুন, জিরা ও জলপাইয়ের তেলে রান্না করা শিম চটকে পরিবেশন করা হয় কাঁচা মরিচ, পেঁয়াজ, পার্সলে ও লেবুর রসের মিশ্রণে। গরম বালাদি রুটির সঙ্গে এই খাবার মিশরীয় ঘরোয়া রান্নার পরিচিত স্বাদ তুলে ধরে।
কোফতা থেকে কাহক: শেষ পাতে মিষ্টি
উপকূলীয় অঞ্চলে চিংড়ির কিমা, ধনেপাতা, ডিল ও রসুন দিয়ে তৈরি কোফতা টমেটো ও মরিচের ঝাল সসে রান্না করা হয়। ভাতের সঙ্গে পরিবেশিত এই পদে মেলে সামুদ্রিক খাবার ও মশলার চমৎকার সমন্বয়। অন্যদিকে, জিরার সুবাসে ধীরে রান্না করা গরুর মাংসের সঙ্গে টমেটো দিয়ে তৈরি লাল ভাতও বেশ জনপ্রিয়।
খাবারের শেষ পাতে রয়েছে কাহক—খেজুর ও তিলের পুরভরা মাখনসমৃদ্ধ কুকি। ঈদুল ফিতর ও বড়দিনের মতো উৎসবে মুসলিম ও খ্রিষ্টান মিশরীয়দের ঘরে এটি তৈরি হয়। ফুলের নকশায় সাজানো কাহক তাই শুধু মিষ্টি নয়, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যেরও প্রতীক।

নিজস্ব প্রতিবেদক 




















