মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত, জ্বালানি আমদানির বাড়তি ব্যয় এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে অর্থনীতির ওপর চাপ সামলাতে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কাছে নতুন ঋণ সহায়তা চাইছে বাংলাদেশ।
২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য সম্ভাব্য এই অর্থায়ন নিয়ে সংস্থাটির সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে সরকার। একই সঙ্গে বিশ্বব্যাংকসহ অন্যান্য উন্নয়ন সহযোগীর কাছ থেকে বাজেট সহায়তা সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকারের লক্ষ্য, বৈদেশিক অর্থায়নের মাধ্যমে অর্থনীতিতে প্রয়োজনীয় সুরক্ষা তৈরি করা এবং চলমান চাপ মোকাবিলায় আর্থিক সক্ষমতা বাড়ানো।
ব্যাংককে অনুষ্ঠিত আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক সভায় অংশ নিয়ে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, আইএমএফের সঙ্গে বাংলাদেশের ইতিমধ্যে কয়েকটি বৈঠক হয়েছে।
আগামী দু-এক দিনের মধ্যে আরও একটি বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। নতুন ঋণের বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে না চাইলেও তিনি বলেন, ‘আলোচনা চলছে।’
সরকারের এই উদ্যোগ এমন এক সময়ে সামনে এসেছে, যখন আন্তর্জাতিক জ্বালানিবাজারের অস্থিরতা বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর অর্থনীতির জন্য বাড়তি ঝুঁকি তৈরি করছে। জ্বালানির দাম ও আমদানি ব্যয় বেড়ে গেলে বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ বাড়ে। পাশাপাশি বিদ্যুৎ উৎপাদন, পরিবহন, শিল্পের উৎপাদন ব্যয় এবং সরকারের ভর্তুকি ব্যয়েও এর প্রভাব পড়তে পারে। ফলে নতুন বৈদেশিক অর্থায়ন সংগ্রহকে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষার গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আগের ঋণ কর্মসূচি থেকে সরে নতুন উদ্যোগ
বাংলাদেশের সঙ্গে আইএমএফের আগের ঋণ কর্মসূচির অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে। তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে সংস্থাটি ৪ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারের ঋণ প্রস্তাব অনুমোদন করে। পরে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে কর্মসূচির পরিমাণ বাড়িয়ে ৫ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করা হয়।
তবে মেয়াদ শেষ হওয়ার আট মাস আগেই চলতি বছরের মে মাসে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার ওই কর্মসূচি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এরপর নতুন একটি ঋণ প্যাকেজের জন্য আবেদন করা হয়। গত ৩ জুন এক বিবৃতিতে আইএমএফের বাংলাদেশ মিশনপ্রধান ইভো ক্রজনার এ বিষয়ে জানান।
আগের ৪ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারের ঋণ কর্মসূচির আওতায় বাংলাদেশ পাঁচ কিস্তিতে মোট ৩ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার পেয়েছে। অর্থাৎ অনুমোদিত অর্থের পুরোটা ছাড় হওয়ার আগেই পুরোনো কর্মসূচি থেকে সরে এসে নতুন অর্থায়নের পথে হাঁটছে সরকার।
নতুন ঋণের পরিমাণ, শর্ত, মেয়াদ কিংবা অর্থ ছাড়ের সম্ভাব্য সময় সম্পর্কে এখনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। ফলে নতুন কর্মসূচির আর্থিক কাঠামো এবং বাংলাদেশের জন্য এর সম্ভাব্য সুবিধা নির্ধারণে আইএমএফের সঙ্গে চলমান আলোচনার ফল গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক 




















