বাংলাদেশে গাড়ি উৎপাদনের কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা করছে জাপানের টয়োটা তুশো করপোরেশন। পাশাপাশি হাইব্রিড ইলেকট্রিক ভেহিকেল (এইচইভি) উৎপাদন, ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ, দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়েও কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে টয়োটা তুশো করপোরেশনের ভাইস চেয়ারম্যান ইচিরো কাশিতানির নেতৃত্বাধীন একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল। বৈঠকে বাংলাদেশে টয়োটার কার্যক্রম সম্প্রসারণ, সম্ভাব্য বিনিয়োগ ও দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসায়িক পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়। প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন এসব তথ্য জানান।
বৈঠকে টয়োটা তুশো করপোরেশন বাংলাদেশে গাড়ি উৎপাদনের কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনার কথা প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করে। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে বলা হয়, এ ধরনের বিনিয়োগের মাধ্যমে দেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিল্পায়নের গতি বাড়ানো, আধুনিক প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং স্থানীয় পর্যায়ে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে অবদান রাখা সম্ভব হবে।
টয়োটার বিনিয়োগ ও কার্যক্রম সম্প্রসারণের আগ্রহকে স্বাগত জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে বাংলাদেশ সরকার একটি স্থিতিশীল, প্রতিযোগিতামূলক ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে কাজ করছে। বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য প্রয়োজনীয় নীতি সহায়তা, অবকাঠামোগত সুবিধা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
বৈঠকে বাংলাদেশের বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। এসব খাতে টয়োটা তুশো বিনিয়োগে আগ্রহী হলে সরকার প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবে বলে জানান তিনি।
টয়োটার বাংলাদেশে গাড়ি উৎপাদনের পরিকল্পনার পাশাপাশি হাইব্রিড গাড়ি উৎপাদনেও রয়েছে নির্দিষ্ট সময়সূচি। বৈঠকে জানানো হয়, ২০২৭ সালে বাংলাদেশের একটি অর্থনৈতিক অঞ্চলে টয়োটা বাংলাদেশের উদ্যোগে হাইব্রিড ইলেকট্রিক ভেহিকেল উৎপাদন শিল্প গড়ে তোলার কাজ শুরু হবে। ‘বাংলাদেশের সঙ্গে, বাংলাদেশের জন্য’ উন্নয়ন দর্শনকে সামনে রেখে নেওয়া এ প্রকল্প ২০২৯ সালের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ উৎপাদনে যাওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।
দেশের বাজারে টয়োটার উপস্থিতি আরও বাড়ানোর উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ করে দেশের সব বিভাগীয় পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার কাজ চলছে। এতে রাজধানীর বাইরে বিভিন্ন অঞ্চলের গ্রাহকদের জন্য টয়োটার গাড়ি ও সংশ্লিষ্ট সেবা আরও সহজলভ্য হবে।
মানবসম্পদ উন্নয়ন নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়। বিশেষ করে তরুণদের কারিগরি ও পেশাগত প্রশিক্ষণের সুযোগ তৈরি, দক্ষতা উন্নয়ন এবং ভবিষ্যৎ শিল্পের উপযোগী মানবসম্পদ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে টয়োটার আগ্রহের কথা জানানো হয়।
টয়োটার এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের অটোমোবাইল শিল্পে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলতে পারে। গাড়ি সংযোজন ও উৎপাদনের পাশাপাশি যন্ত্রাংশ, কারিগরি সেবা, প্রশিক্ষণ এবং সংশ্লিষ্ট সহায়ক শিল্পেও বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, প্রধানমন্ত্রীর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ এবং এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের বৈদেশিক কর্মসংস্থানবিষয়ক বিশেষ সহকারী মো. শাকিরুল ইসলাম খানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
টয়োটা তুশো করপোরেশনের মোবিলিটি ডিভিশনের সিইও শিগেরু হারাদা, টয়োটা বাংলাদেশ লিমিটেডের প্রেসিডেন্ট প্রেমমিত সিংসহ প্রতিষ্ঠানটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও বৈঠকে অংশ নেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক 




















