০২:০৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬

রাশিয়ায় ‘প্লেগ আতঙ্ক’, ল্যাবকর্মীর মৃত্যু ঘিরে রহস্য

The gallery was not found!

রাশিয়ার সাইবেরিয়ায় এক গবেষণাগারের কর্মীর মৃত্যুকে ঘিরে সম্ভাব্য নিউমোনিক প্লেগের সংক্রমণ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ইরকুতস্ক অঞ্চলে দুই শতাধিক মানুষকে চিকিৎসা পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। কয়েকটি হাসপাতালে কোয়ারেন্টিন জারি করা হয়েছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে যুক্তরাষ্ট্রসহ প্রতিবেশী কয়েকটি দেশ।

ইরকুতস্কের একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ২৮ বছর বয়সী দারিয়া শিপিলোভা সম্প্রতি অসুস্থ হয়ে মারা যান। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্লেগের ব্যাকটেরিয়া থাকা একটি টেস্ট টিউব ভেঙে যাওয়ার পর তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। কয়েক দিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর ‘অজ্ঞাত কারণে নিউমোনিয়া’তে তাঁর মৃত্যু হয়।

তবে তাঁর মৃত্যু প্লেগের কারণে হয়েছিল কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। বুরিয়াতিয়া প্রজাতন্ত্রের প্রধান আলেক্সেই ত্সিদেনভ প্রথমে শিপিলোভার মৃত্যুর কারণ প্লেগ বলে জানান। পরে তিনি বলেন, ওই নারী ‘সম্ভবত’ প্লেগে আক্রান্ত হয়ে থাকতে পারেন।

রাশিয়ার স্বাস্থ্য নজরদারি সংস্থা রসপোট্রেবনাদজোর অবশ্য গবেষণাগারে প্লেগের জীবাণু ছড়িয়ে পড়ার প্রমাণ পাওয়ার কথা অস্বীকার করেছে। সংস্থাটি টেস্ট টিউব ভেঙে যাওয়ার মতো কোনো দুর্ঘটনার ঘটনাও নাকচ করেছে। ফলে ঘটনাটি নিয়ে সরকারি বক্তব্য ও বিভিন্ন প্রতিবেদনের মধ্যে তৈরি হয়েছে বিভ্রান্তি।

ওই গবেষণা প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৬০ কর্মীকে আইসোলেশনে রাখা হয়েছে। ইরকুতস্ক ও আশপাশের কয়েকটি হাসপাতালে বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ কিছু জনসমাগম ও অনুষ্ঠান বাতিল করেছে। স্বাস্থ্য নিরাপত্তা নিয়ে সম্ভাব্য লঙ্ঘনের অভিযোগে তদন্তও শুরু হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

পরিস্থিতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, প্রয়োজন হলে রাশিয়াকে সহায়তা করবে ওয়াশিংটন। হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে এবং রাশিয়াকে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওও বলেছেন, ওয়াশিংটন পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। তাঁর মতে, এমন সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়লে দ্রুত বিস্তৃত হতে পারে। তবে যুক্তরাষ্ট্রে তাৎক্ষণিক আতঙ্কের কারণ নেই বলেও জানান তিনি।

প্লেগের জীবাণু Yersinia pestis। সাধারণত আক্রান্ত প্রাণী বা পোকামাকড়ের মাধ্যমে মানুষে সংক্রমণ ঘটে। তবে নিউমোনিক প্লেগ ফুসফুসে সংক্রমণ ঘটাতে পারে এবং ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শে শ্বাসতন্ত্রের কণার মাধ্যমে মানুষ থেকে মানুষে ছড়াতে পারে। দ্রুত চিকিৎসা শুরু হলে অ্যান্টিবায়োটিকে এ রোগের চিকিৎসা সম্ভব।

রাশিয়ার পাশাপাশি কাজাখস্তান, কিরগিজস্তান ও মঙ্গোলিয়াও সীমান্তে স্বাস্থ্য সতর্কতা বাড়িয়েছে বলে জানা গেছে। ইরকুতস্কে প্লেগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধের সরবরাহ নিয়েও উদ্বেগের কথা উঠে এসেছে।

তবে এখন পর্যন্ত বড় আকারের সংক্রমণ বা মহামারির নিশ্চিত প্রমাণ পাওয়া যায়নি। রুশ প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ও গুজবের পরিবর্তে সরকারি স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুসরণ করার আহ্বান জানিয়েছে।

ঘটনাটির কেন্দ্রীয় প্রশ্ন এখন দুটি—শিপিলোভার মৃত্যু আসলে প্লেগের কারণে হয়েছিল কি না এবং গবেষণাগারে সত্যিই কোনো দুর্ঘটনা ঘটেছিল কি না। এসব বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য না আসা পর্যন্ত সাইবেরিয়ায় সম্ভাব্য প্লেগ সংক্রমণ নিয়ে উদ্বেগ থেকেই যাচ্ছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় খবর

পোশাকশ্রমিকদের বিক্ষোভ: সংঘর্ষ, সড়ক অবরোধ; কারখানা বন্ধ, নিরাপত্তায় বিজিবি মোতায়েন

Business Times24

রাশিয়ায় ‘প্লেগ আতঙ্ক’, ল্যাবকর্মীর মৃত্যু ঘিরে রহস্য

Update Time : ০১:১২:৪৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬

রাশিয়ার সাইবেরিয়ায় এক গবেষণাগারের কর্মীর মৃত্যুকে ঘিরে সম্ভাব্য নিউমোনিক প্লেগের সংক্রমণ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ইরকুতস্ক অঞ্চলে দুই শতাধিক মানুষকে চিকিৎসা পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। কয়েকটি হাসপাতালে কোয়ারেন্টিন জারি করা হয়েছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে যুক্তরাষ্ট্রসহ প্রতিবেশী কয়েকটি দেশ।

ইরকুতস্কের একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ২৮ বছর বয়সী দারিয়া শিপিলোভা সম্প্রতি অসুস্থ হয়ে মারা যান। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্লেগের ব্যাকটেরিয়া থাকা একটি টেস্ট টিউব ভেঙে যাওয়ার পর তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। কয়েক দিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর ‘অজ্ঞাত কারণে নিউমোনিয়া’তে তাঁর মৃত্যু হয়।

তবে তাঁর মৃত্যু প্লেগের কারণে হয়েছিল কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। বুরিয়াতিয়া প্রজাতন্ত্রের প্রধান আলেক্সেই ত্সিদেনভ প্রথমে শিপিলোভার মৃত্যুর কারণ প্লেগ বলে জানান। পরে তিনি বলেন, ওই নারী ‘সম্ভবত’ প্লেগে আক্রান্ত হয়ে থাকতে পারেন।

রাশিয়ার স্বাস্থ্য নজরদারি সংস্থা রসপোট্রেবনাদজোর অবশ্য গবেষণাগারে প্লেগের জীবাণু ছড়িয়ে পড়ার প্রমাণ পাওয়ার কথা অস্বীকার করেছে। সংস্থাটি টেস্ট টিউব ভেঙে যাওয়ার মতো কোনো দুর্ঘটনার ঘটনাও নাকচ করেছে। ফলে ঘটনাটি নিয়ে সরকারি বক্তব্য ও বিভিন্ন প্রতিবেদনের মধ্যে তৈরি হয়েছে বিভ্রান্তি।

ওই গবেষণা প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৬০ কর্মীকে আইসোলেশনে রাখা হয়েছে। ইরকুতস্ক ও আশপাশের কয়েকটি হাসপাতালে বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ কিছু জনসমাগম ও অনুষ্ঠান বাতিল করেছে। স্বাস্থ্য নিরাপত্তা নিয়ে সম্ভাব্য লঙ্ঘনের অভিযোগে তদন্তও শুরু হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

পরিস্থিতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, প্রয়োজন হলে রাশিয়াকে সহায়তা করবে ওয়াশিংটন। হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে এবং রাশিয়াকে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওও বলেছেন, ওয়াশিংটন পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। তাঁর মতে, এমন সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়লে দ্রুত বিস্তৃত হতে পারে। তবে যুক্তরাষ্ট্রে তাৎক্ষণিক আতঙ্কের কারণ নেই বলেও জানান তিনি।

প্লেগের জীবাণু Yersinia pestis। সাধারণত আক্রান্ত প্রাণী বা পোকামাকড়ের মাধ্যমে মানুষে সংক্রমণ ঘটে। তবে নিউমোনিক প্লেগ ফুসফুসে সংক্রমণ ঘটাতে পারে এবং ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শে শ্বাসতন্ত্রের কণার মাধ্যমে মানুষ থেকে মানুষে ছড়াতে পারে। দ্রুত চিকিৎসা শুরু হলে অ্যান্টিবায়োটিকে এ রোগের চিকিৎসা সম্ভব।

রাশিয়ার পাশাপাশি কাজাখস্তান, কিরগিজস্তান ও মঙ্গোলিয়াও সীমান্তে স্বাস্থ্য সতর্কতা বাড়িয়েছে বলে জানা গেছে। ইরকুতস্কে প্লেগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধের সরবরাহ নিয়েও উদ্বেগের কথা উঠে এসেছে।

তবে এখন পর্যন্ত বড় আকারের সংক্রমণ বা মহামারির নিশ্চিত প্রমাণ পাওয়া যায়নি। রুশ প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ও গুজবের পরিবর্তে সরকারি স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুসরণ করার আহ্বান জানিয়েছে।

ঘটনাটির কেন্দ্রীয় প্রশ্ন এখন দুটি—শিপিলোভার মৃত্যু আসলে প্লেগের কারণে হয়েছিল কি না এবং গবেষণাগারে সত্যিই কোনো দুর্ঘটনা ঘটেছিল কি না। এসব বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য না আসা পর্যন্ত সাইবেরিয়ায় সম্ভাব্য প্লেগ সংক্রমণ নিয়ে উদ্বেগ থেকেই যাচ্ছে।