ব্যাংকের মুনাফার একটি অংশ থেকে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবেশ ও দুর্যোগ মোকাবিলায় যে সামাজিক বিনিয়োগ হওয়ার কথা, তাতে এবার ভাটা পড়েছে। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে দেশের ব্যাংকগুলো করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) খাতে ব্যয় করেছে ১১৯ কোটি টাকা। গত বছরের একই সময়ে এ ব্যয় ছিল ১৫০ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে সিএসআর ব্যয় কমেছে প্রায় ২১ শতাংশ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, শুধু গত বছরের জুলাই-ডিসেম্বর সময়ের তুলনাতেও চলতি বছরের প্রথমার্ধে ব্যয় কমেছে ৭৯ কোটি টাকা। গত বছরের শেষ ছয় মাসে ব্যাংকগুলো সিএসআর খাতে ব্যয় করেছিল ১৯৮ কোটি টাকা।
সামগ্রিক ব্যয় কমলেও কয়েকটি ব্যাংক সামাজিক দায়বদ্ধতার কার্যক্রমে এগিয়ে রয়েছে। জানুয়ারি-জুন সময়ে সিএসআর ব্যয়ে শীর্ষে ছিল ঢাকা ব্যাংক। ব্যাংকটি ব্যয় করেছে ১২ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। এর মধ্যে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায়ই গেছে ৮ কোটি ৮০ লাখ টাকা। ক্রীড়া ও সংস্কৃতিতে ২ কোটি, স্বাস্থ্য খাতে ৭৯ লাখ এবং শিক্ষায় ৭৭ লাখ টাকা ব্যয় করেছে ব্যাংকটি।
দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা বহুজাতিক স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক ব্যয় করেছে ১১ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় ব্যাংকটির ব্যয় ছিল সর্বোচ্চ—৪ কোটি ৭৬ লাখ টাকা। স্বাস্থ্য খাতে ২ কোটি ৯৪ লাখ এবং শিক্ষায় ১ কোটি ৯১ লাখ টাকা ব্যয় করেছে তারা।
তৃতীয় সর্বোচ্চ ১০ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয় করেছে শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক। এর মধ্যে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় ৭ কোটি ১৫ লাখ এবং শিক্ষা খাতে ২ কোটি ৩১ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোসলেহ উদ্দীন আহমেদ জানান, শীতের কম্বল বিতরণের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের দীর্ঘমেয়াদি বৃত্তি কর্মসূচিতেও তারা অর্থ ব্যয় করেন।
সিএসআর ব্যয়ে এরপর রয়েছে ইউসিবি ৮ কোটি ৯২ লাখ, পূবালী ব্যাংক ৮ কোটি ৬৭ লাখ, ট্রাস্ট ব্যাংক ৮ কোটি ৪৩ লাখ, যমুনা ব্যাংক ৮ কোটি ৭ লাখ, ব্র্যাক ব্যাংক ৭ কোটি ৪১ লাখ, ডাচ্-বাংলা ব্যাংক ৬ কোটি ৩৮ লাখ এবং মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক ৬ কোটি ৮ লাখ টাকা।
কয়েক বছরের ধারাবাহিক পতন
ব্যাংকগুলোর সিএসআর ব্যয়ের দীর্ঘমেয়াদি চিত্রও আশাব্যঞ্জক নয়। ২০২২ সালে এ খাতে ব্যয় হয়েছিল ১ হাজার ১৪৩ কোটি টাকা। ২০২৩ সালে তা কমে ৯২৪ কোটি, ২০২৪ সালে ৬১৫ কোটি ৯৬ লাখ এবং ২০২৫ সালে মাত্র ৩৪৫ কোটি টাকায় নেমে আসে।
ব্যাংক কর্মকর্তাদের মতে, আর্থিক চাপ, মুনাফা কমে যাওয়া এবং কিছু ব্যাংকের লোকসানের কারণে সিএসআর ব্যয় সংকুচিত হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী, কোনো ব্যাংক নিট লোকসানে থাকলে সিএসআর খাতে অর্থ ব্যয় করতে পারে না।
চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে সবচেয়ে বেশি ৪৮ কোটি ৫৩ লাখ টাকা গেছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, অবকাঠামো, ক্রীড়া ও সংস্কৃতি খাতে। স্বাস্থ্য খাতে ব্যয় হয়েছে ৩৪ কোটি ৬৬ লাখ এবং শিক্ষায় ২৪ কোটি ১৩ লাখ টাকা। ফলে ব্যাংকের আর্থিক সক্ষমতার সঙ্গে সামাজিক দায়বদ্ধতার অর্থায়নও এখন ক্রমেই বেশি সম্পর্কিত হয়ে উঠছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক 




















