০২:০৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬

আইপিও ছাড়াই পুঁজিবাজারে বেসরকারি কোম্পানি, খুলছে নতুন দরজা

The gallery was not found!

পুঁজিবাজারে আসতে আর বাধ্যতামূলকভাবে আইপিওর দরজায় কড়া নাড়তে হবে না বেসরকারি কোম্পানিকে। সাড়ে ১৬ বছর বন্ধ থাকার পর আবারও সরাসরি তালিকাভুক্তির সুযোগ ফিরিয়ে আনল সরকার।

অর্থাৎ নতুন শেয়ার ইস্যু করে বাজার থেকে অর্থ সংগ্রহ না করেও নির্দিষ্ট শর্ত পূরণকারী বেসরকারি ও বহুজাতিক কোম্পানি সরাসরি স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত হতে পারবে।

পুঁজিবাজারে বড় ও প্রতিষ্ঠিত কোম্পানির অংশগ্রহণ বাড়াতে সরকারের এ সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।

তবে নতুন অর্থ না তুলেই কোনো কোম্পানি বাজারে এলে তার শেয়ারের প্রাথমিক মূল্য কীভাবে নির্ধারিত হবে, বিদ্যমান মালিকেরা শেয়ার বিক্রি করলে কোম্পানির লাভ কোথায় এবং বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ কীভাবে সুরক্ষিত থাকবে—এসব প্রশ্নও সামনে এসেছে।

ফলে নতুন সুযোগটি বাজারকে কতটা গভীর করবে, নাকি পুরোনো ঝুঁকি আবারও ফিরিয়ে আনবে, সেটিই এখন বড় বিষয়।

গত সোমবার অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ ২০১০ সালের ১ ফেব্রুয়ারি জারি করা বেসরকারি কোম্পানির সরাসরি তালিকাভুক্তির ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে আদেশ জারি করেছে।

এতে করে ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে সরকারি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি নির্দিষ্ট শর্ত পূরণকারী বেসরকারি ও বহুজাতিক কোম্পানির সরাসরি তালিকাভুক্তির সুযোগ তৈরি হয়েছে।

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যানের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের আদেশে বলা হয়েছে, পুঁজিবাজারের টেকসই উন্নয়নের স্বার্থে সরকারি, বেসরকারি ও বহুজাতিক কোম্পানিকে স্টক এক্সচেঞ্জে সরাসরি তালিকাভুক্তির বিষয়ে আগের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হলো।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ভালো কোম্পানি তালিকাভুক্ত হলে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের সুযোগ বাড়বে। বর্তমানে যেসব বড় ও প্রতিষ্ঠিত কোম্পানি পুঁজিবাজারের বাইরে রয়েছে, তাদের একটি অংশকে বাজারে আনা গেলে তালিকাভুক্ত কোম্পানির সংখ্যা ও বৈচিত্র্য বাড়তে পারে। পাশাপাশি তালিকাভুক্তির শর্ত মানতে গিয়ে কোম্পানিগুলোকে আর্থিক হিসাব, তথ্য প্রকাশ ও করপোরেট সুশাসনের ক্ষেত্রে আরও স্বচ্ছ হতে হবে।

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) বিশেষ ফেলো ফাহমিদা খাতুন মনে করেন, ভালো কোম্পানি তালিকাভুক্ত হলে বিনিয়োগকারীরা ব্যবসার মালিকানায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন।

এতে বিনিয়োগের বিকল্প বাড়বে এবং দীর্ঘ মেয়াদে পুঁজিবাজারের ভিত্তি শক্ত হতে পারে।

তবে সরাসরি তালিকাভুক্তির ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় পার্থক্য হলো—কোম্পানির হাতে নতুন অর্থ আসা বাধ্যতামূলক নয়। বিদ্যমান মালিক বা শেয়ারধারীরা তাঁদের শেয়ার বিক্রি করলে সেই অর্থ কোম্পানির কাছে না গিয়ে বিক্রেতার কাছেই যাবে। ফলে কোম্পানি তালিকাভুক্ত হলেও ব্যবসা সম্প্রসারণ বা নতুন বিনিয়োগের জন্য সরাসরি কোনো মূলধন পাবে না।

অন্যদিকে নতুন শেয়ার ইস্যু করা হলে কোম্পানি অর্থ সংগ্রহ করতে পারবে। এ কারণে তালিকাভুক্তির ধরন, শেয়ার বিক্রির কাঠামো এবং অর্থ কোথায় যাচ্ছে—এসব তথ্য বিনিয়োগকারীদের কাছে পরিষ্কারভাবে প্রকাশের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

সরাসরি তালিকাভুক্তির আরেকটি বড় প্রশ্ন শেয়ারের দাম নির্ধারণ। আইপিওতে নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শেয়ারের মূল্য নির্ধারণের সুযোগ থাকলেও সরাসরি তালিকাভুক্তির ক্ষেত্রে বাজারে প্রবেশের সময় কীভাবে একটি গ্রহণযোগ্য দাম তৈরি হবে, তা গুরুত্বপূর্ণ। ভুল মূল্য নির্ধারণ হলে একদিকে বিনিয়োগকারীর ক্ষতির ঝুঁকি তৈরি হতে পারে, অন্যদিকে অস্বাভাবিক দরবৃদ্ধি বা কারসাজির সুযোগও তৈরি হতে পারে।

এই ঝুঁকি কমাতে নতুন বিধিমালার খসড়ায় বেশ কিছু নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। রেফারেন্স মূল্যের ভিত্তিতে ফ্লোর প্রাইস নির্ধারণ, তালিকাভুক্তির প্রথম ৩০ মিনিটে শুধু ক্রেতাদের দরপ্রস্তাবের সুযোগ এবং প্রথম দুই কার্যদিবসে বিশেষ লেনদেনব্যবস্থার প্রস্তাব রয়েছে।

এ ছাড়া নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত শেয়ার বিক্রিতে বিধিনিষেধ, তালিকাভুক্তির প্রথম পাঁচ কার্যদিবসে একক আদেশে সর্বোচ্চ ১ হাজার শেয়ার কেনাবেচার সীমা এবং তালিকাভুক্তির পর এক বছর পর্যন্ত কোম্পানির স্পনসর ও পরিচালকদের শেয়ার পুনঃক্রয়ে নিষেধাজ্ঞার প্রস্তাব করা হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার এ বিষয়ে জরুরি কমিশন সভায় বসছে বিএসইসি। সভায় ‘বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (স্টক এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে সিকিউরিটিজের সরাসরি তালিকাভুক্তি) বিধিমালা, ২০২৬’-এর খসড়া অনুমোদনের কথা রয়েছে। অনুমোদনের পর খসড়াটি জনমত যাচাইয়ের জন্য বিএসইসির ওয়েবসাইট ও সংবাদপত্রে প্রকাশ করা হবে।

তবে সরাসরি তালিকাভুক্তির সুযোগ সব কোম্পানির জন্য উন্মুক্ত হচ্ছে না। প্রস্তাবিত বিধিমালায় বড় ও প্রতিষ্ঠিত কোম্পানিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। শতভাগ বা সংখ্যাগরিষ্ঠ সরকারি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান, সরকারের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ কমপক্ষে ১০ শতাংশ মালিকানা থাকা কোম্পানি, কমপক্ষে ৫১ শতাংশ বিদেশি মালিকানাধীন কোম্পানি এবং ৫০০ কোটি টাকা বা তার বেশি বার্ষিক লেনদেন বা সম্পদ থাকা বড় দেশীয় কোম্পানি এ সুযোগ পেতে পারে। নির্দিষ্ট শর্ত পূরণকারী টেলিকম ও তথ্যপ্রযুক্তি অবকাঠামো প্রতিষ্ঠানও এর আওতায় আসতে পারে।

এর আগে ২০০৬ সালে বিএসইসি সরাসরি তালিকাভুক্তির বিধান চালু করেছিল। কিন্তু ২০১০ সালের পুঁজিবাজারের অস্বাভাবিক উত্থান ও পরবর্তী ধসের পর শেয়ারের মূল্য নির্ধারণ, কারসাজি ও বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। একপর্যায়ে বেসরকারি কোম্পানির সরাসরি তালিকাভুক্তির পথ বন্ধ হয়ে যায়। ২০১০ সালে খুলনা পাওয়ার ছিল সর্বশেষ বেসরকারি কোম্পানি, যা এ পদ্ধতিতে তালিকাভুক্ত হয়েছিল।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আল-আমিন সরকারের সিদ্ধান্তকে বাজারের জন্য ইতিবাচক বলে মনে করেন। তবে তাঁর সতর্কতা, অতীতে যে সমস্যার কারণে সরাসরি তালিকাভুক্তি বন্ধ করা হয়েছিল, এবার যেন সেসব সমস্যার পুনরাবৃত্তি না ঘটে। অযোগ্য বা দুর্বল কোম্পানি যাতে এই সুযোগ নিয়ে পুঁজিবাজারে ঢুকতে না পারে, সে বিষয়ে কঠোর নজরদারি জরুরি।

সাড়ে ১৬ বছর পর বন্ধ দরজা আবার খুলেছে। এখন সেই দরজা দিয়ে কারা প্রবেশ করবে এবং প্রবেশের পর বাজারে তাদের প্রভাব কী হবে—সেটিই হয়ে উঠছে পুঁজিবাজারের নতুন পরীক্ষা। ভালো কোম্পানি এলে বাজারে গতি ও বৈচিত্র্য বাড়বে; আর নিয়ন্ত্রণ দুর্বল হলে পুরোনো অনিয়মই নতুন কাঠামোয় ফিরে আসতে পারে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় খবর

পোশাকশ্রমিকদের বিক্ষোভ: সংঘর্ষ, সড়ক অবরোধ; কারখানা বন্ধ, নিরাপত্তায় বিজিবি মোতায়েন

Business Times24

আইপিও ছাড়াই পুঁজিবাজারে বেসরকারি কোম্পানি, খুলছে নতুন দরজা

Update Time : ১২:৩৫:১৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬

পুঁজিবাজারে আসতে আর বাধ্যতামূলকভাবে আইপিওর দরজায় কড়া নাড়তে হবে না বেসরকারি কোম্পানিকে। সাড়ে ১৬ বছর বন্ধ থাকার পর আবারও সরাসরি তালিকাভুক্তির সুযোগ ফিরিয়ে আনল সরকার।

অর্থাৎ নতুন শেয়ার ইস্যু করে বাজার থেকে অর্থ সংগ্রহ না করেও নির্দিষ্ট শর্ত পূরণকারী বেসরকারি ও বহুজাতিক কোম্পানি সরাসরি স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত হতে পারবে।

পুঁজিবাজারে বড় ও প্রতিষ্ঠিত কোম্পানির অংশগ্রহণ বাড়াতে সরকারের এ সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।

তবে নতুন অর্থ না তুলেই কোনো কোম্পানি বাজারে এলে তার শেয়ারের প্রাথমিক মূল্য কীভাবে নির্ধারিত হবে, বিদ্যমান মালিকেরা শেয়ার বিক্রি করলে কোম্পানির লাভ কোথায় এবং বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ কীভাবে সুরক্ষিত থাকবে—এসব প্রশ্নও সামনে এসেছে।

ফলে নতুন সুযোগটি বাজারকে কতটা গভীর করবে, নাকি পুরোনো ঝুঁকি আবারও ফিরিয়ে আনবে, সেটিই এখন বড় বিষয়।

গত সোমবার অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ ২০১০ সালের ১ ফেব্রুয়ারি জারি করা বেসরকারি কোম্পানির সরাসরি তালিকাভুক্তির ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে আদেশ জারি করেছে।

এতে করে ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে সরকারি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি নির্দিষ্ট শর্ত পূরণকারী বেসরকারি ও বহুজাতিক কোম্পানির সরাসরি তালিকাভুক্তির সুযোগ তৈরি হয়েছে।

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যানের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের আদেশে বলা হয়েছে, পুঁজিবাজারের টেকসই উন্নয়নের স্বার্থে সরকারি, বেসরকারি ও বহুজাতিক কোম্পানিকে স্টক এক্সচেঞ্জে সরাসরি তালিকাভুক্তির বিষয়ে আগের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হলো।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ভালো কোম্পানি তালিকাভুক্ত হলে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের সুযোগ বাড়বে। বর্তমানে যেসব বড় ও প্রতিষ্ঠিত কোম্পানি পুঁজিবাজারের বাইরে রয়েছে, তাদের একটি অংশকে বাজারে আনা গেলে তালিকাভুক্ত কোম্পানির সংখ্যা ও বৈচিত্র্য বাড়তে পারে। পাশাপাশি তালিকাভুক্তির শর্ত মানতে গিয়ে কোম্পানিগুলোকে আর্থিক হিসাব, তথ্য প্রকাশ ও করপোরেট সুশাসনের ক্ষেত্রে আরও স্বচ্ছ হতে হবে।

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) বিশেষ ফেলো ফাহমিদা খাতুন মনে করেন, ভালো কোম্পানি তালিকাভুক্ত হলে বিনিয়োগকারীরা ব্যবসার মালিকানায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন।

এতে বিনিয়োগের বিকল্প বাড়বে এবং দীর্ঘ মেয়াদে পুঁজিবাজারের ভিত্তি শক্ত হতে পারে।

তবে সরাসরি তালিকাভুক্তির ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় পার্থক্য হলো—কোম্পানির হাতে নতুন অর্থ আসা বাধ্যতামূলক নয়। বিদ্যমান মালিক বা শেয়ারধারীরা তাঁদের শেয়ার বিক্রি করলে সেই অর্থ কোম্পানির কাছে না গিয়ে বিক্রেতার কাছেই যাবে। ফলে কোম্পানি তালিকাভুক্ত হলেও ব্যবসা সম্প্রসারণ বা নতুন বিনিয়োগের জন্য সরাসরি কোনো মূলধন পাবে না।

অন্যদিকে নতুন শেয়ার ইস্যু করা হলে কোম্পানি অর্থ সংগ্রহ করতে পারবে। এ কারণে তালিকাভুক্তির ধরন, শেয়ার বিক্রির কাঠামো এবং অর্থ কোথায় যাচ্ছে—এসব তথ্য বিনিয়োগকারীদের কাছে পরিষ্কারভাবে প্রকাশের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

সরাসরি তালিকাভুক্তির আরেকটি বড় প্রশ্ন শেয়ারের দাম নির্ধারণ। আইপিওতে নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শেয়ারের মূল্য নির্ধারণের সুযোগ থাকলেও সরাসরি তালিকাভুক্তির ক্ষেত্রে বাজারে প্রবেশের সময় কীভাবে একটি গ্রহণযোগ্য দাম তৈরি হবে, তা গুরুত্বপূর্ণ। ভুল মূল্য নির্ধারণ হলে একদিকে বিনিয়োগকারীর ক্ষতির ঝুঁকি তৈরি হতে পারে, অন্যদিকে অস্বাভাবিক দরবৃদ্ধি বা কারসাজির সুযোগও তৈরি হতে পারে।

এই ঝুঁকি কমাতে নতুন বিধিমালার খসড়ায় বেশ কিছু নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। রেফারেন্স মূল্যের ভিত্তিতে ফ্লোর প্রাইস নির্ধারণ, তালিকাভুক্তির প্রথম ৩০ মিনিটে শুধু ক্রেতাদের দরপ্রস্তাবের সুযোগ এবং প্রথম দুই কার্যদিবসে বিশেষ লেনদেনব্যবস্থার প্রস্তাব রয়েছে।

এ ছাড়া নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত শেয়ার বিক্রিতে বিধিনিষেধ, তালিকাভুক্তির প্রথম পাঁচ কার্যদিবসে একক আদেশে সর্বোচ্চ ১ হাজার শেয়ার কেনাবেচার সীমা এবং তালিকাভুক্তির পর এক বছর পর্যন্ত কোম্পানির স্পনসর ও পরিচালকদের শেয়ার পুনঃক্রয়ে নিষেধাজ্ঞার প্রস্তাব করা হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার এ বিষয়ে জরুরি কমিশন সভায় বসছে বিএসইসি। সভায় ‘বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (স্টক এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে সিকিউরিটিজের সরাসরি তালিকাভুক্তি) বিধিমালা, ২০২৬’-এর খসড়া অনুমোদনের কথা রয়েছে। অনুমোদনের পর খসড়াটি জনমত যাচাইয়ের জন্য বিএসইসির ওয়েবসাইট ও সংবাদপত্রে প্রকাশ করা হবে।

তবে সরাসরি তালিকাভুক্তির সুযোগ সব কোম্পানির জন্য উন্মুক্ত হচ্ছে না। প্রস্তাবিত বিধিমালায় বড় ও প্রতিষ্ঠিত কোম্পানিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। শতভাগ বা সংখ্যাগরিষ্ঠ সরকারি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান, সরকারের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ কমপক্ষে ১০ শতাংশ মালিকানা থাকা কোম্পানি, কমপক্ষে ৫১ শতাংশ বিদেশি মালিকানাধীন কোম্পানি এবং ৫০০ কোটি টাকা বা তার বেশি বার্ষিক লেনদেন বা সম্পদ থাকা বড় দেশীয় কোম্পানি এ সুযোগ পেতে পারে। নির্দিষ্ট শর্ত পূরণকারী টেলিকম ও তথ্যপ্রযুক্তি অবকাঠামো প্রতিষ্ঠানও এর আওতায় আসতে পারে।

এর আগে ২০০৬ সালে বিএসইসি সরাসরি তালিকাভুক্তির বিধান চালু করেছিল। কিন্তু ২০১০ সালের পুঁজিবাজারের অস্বাভাবিক উত্থান ও পরবর্তী ধসের পর শেয়ারের মূল্য নির্ধারণ, কারসাজি ও বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। একপর্যায়ে বেসরকারি কোম্পানির সরাসরি তালিকাভুক্তির পথ বন্ধ হয়ে যায়। ২০১০ সালে খুলনা পাওয়ার ছিল সর্বশেষ বেসরকারি কোম্পানি, যা এ পদ্ধতিতে তালিকাভুক্ত হয়েছিল।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আল-আমিন সরকারের সিদ্ধান্তকে বাজারের জন্য ইতিবাচক বলে মনে করেন। তবে তাঁর সতর্কতা, অতীতে যে সমস্যার কারণে সরাসরি তালিকাভুক্তি বন্ধ করা হয়েছিল, এবার যেন সেসব সমস্যার পুনরাবৃত্তি না ঘটে। অযোগ্য বা দুর্বল কোম্পানি যাতে এই সুযোগ নিয়ে পুঁজিবাজারে ঢুকতে না পারে, সে বিষয়ে কঠোর নজরদারি জরুরি।

সাড়ে ১৬ বছর পর বন্ধ দরজা আবার খুলেছে। এখন সেই দরজা দিয়ে কারা প্রবেশ করবে এবং প্রবেশের পর বাজারে তাদের প্রভাব কী হবে—সেটিই হয়ে উঠছে পুঁজিবাজারের নতুন পরীক্ষা। ভালো কোম্পানি এলে বাজারে গতি ও বৈচিত্র্য বাড়বে; আর নিয়ন্ত্রণ দুর্বল হলে পুরোনো অনিয়মই নতুন কাঠামোয় ফিরে আসতে পারে।