১২:৪০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬

ঢাকায় শেষ ঠিকানারও সংকট, কবর সংরক্ষণে গুনতে হয় কোটি টাকা

The gallery was not found!

জীবিত মানুষের মাথা গোঁজার ঠাঁই খুঁজতেই যেখানে হিমশিম খেতে হয়, সেখানে মৃত্যুর পর শেষ ঠিকানার জন্যও ক্রমেই দুর্লভ হয়ে উঠছে রাজধানী ঢাকা। প্রতিদিন বাড়ছে মরদেহ দাফনের সংখ্যা, কিন্তু বাড়ছে না কবরস্থানের জমি। ফলে সাধারণ দাফনের জন্য কয়েকশ থেকে দেড় হাজার টাকার মধ্যে খরচ হলেও প্রিয়জনের কবর দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করতে চাইলে গুনতে হচ্ছে লাখ লাখ টাকা, এমনকি কয়েক কোটি টাকাও। রাজধানীর কোনো কোনো কবরস্থানে ২৫ বছরের জন্য একটি সাধারণ কবর সংরক্ষণে ব্যয় সাড়ে চার কোটি টাকা পর্যন্ত।

ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের কবরস্থান ব্যবস্থাপনার চিত্র বলছে, জায়গার সীমাবদ্ধতা এখন বড় চ্যালেঞ্জ। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) আওতায় রয়েছে সাতটি নিবন্ধিত পাবলিক কবরস্থান। অন্যদিকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) অধীনে রয়েছে পাঁচটি। দুই সিটি করপোরেশনেই সাধারণ দাফনের নিবন্ধন ফি ৫০০ টাকা। তবে কবর খনন, বাঁশ, চাটাই ও শ্রমিকের খরচ যোগ হলে ব্যয় বাড়ে।

দুই সিটির কবর সংরক্ষণে দুই রকম ব্যয়

ডিএনসিসির বনানী কবরস্থানে সাধারণ সারিতে দাফনের পর কবরটি দীর্ঘমেয়াদে সংরক্ষণ করতে চাইলে ব্যয়ের পরিমাণ অনেক বেড়ে যায়। সেখানে ১৫ বছরের জন্য সাধারণ কবর সংরক্ষণে তিন কোটি টাকা এবং ২৫ বছরের জন্য সাড়ে চার কোটি টাকা দিতে হয়। তবে দাফনের আগেই নির্ধারিত নিয়মে সংরক্ষণের ব্যবস্থা করলে ১৫ বছরের জন্য এক কোটি এবং ২৫ বছরের জন্য দেড় কোটি টাকা লাগে।

কবর সংরক্ষণের ব্যয় বেশি রাখার পেছনে রয়েছে সাধারণ মানুষের দাফনের জায়গা নিশ্চিত করার যুক্তি। দীর্ঘমেয়াদে কবর সংরক্ষণে উৎসাহ কমিয়ে জমির ওপর চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে চায় কর্তৃপক্ষ।

মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানেও সংরক্ষণের মেয়াদ অনুযায়ী ফি নির্ধারিত রয়েছে। সেখানে ১৫ বছরের জন্য ২০ লাখ এবং ২৫ বছরের জন্য ৩০ লাখ টাকা দিতে হয়। তবে সাধারণ কবর দেওয়ার পর সেটি দীর্ঘমেয়াদে সংরক্ষণ করতে চাইলে ফি তিন গুণ পর্যন্ত হতে পারে। সে ক্ষেত্রে ২৫ বছরের জন্য ব্যয় দাঁড়ায় ৯০ লাখ টাকা।

অন্যদিকে রায়েরবাজার বধ্যভূমি স্মৃতিসৌধসংলগ্ন কবরস্থানে ১৫ বছরের জন্য ১০ লাখ এবং ২৫ বছরের জন্য ১৫ লাখ টাকা দিয়ে কবর সংরক্ষণের সুযোগ রয়েছে।

ডিএসসিসির কবরস্থানগুলোতেও মেয়াদ অনুযায়ী সংরক্ষণ ফি নির্ধারিত। আজিমপুর কবরস্থানে ১০ বছরের জন্য পাঁচ লাখ, ১৫ বছরের জন্য ১০ লাখ, ২০ বছরের জন্য ১৫ লাখ এবং ২৫ বছরের জন্য ২০ লাখ টাকা দিতে হয়। জুরাইনসহ অন্যান্য কবরস্থানেও নির্ধারিত নীতিমালা অনুযায়ী কবর সংরক্ষণের ব্যবস্থা রয়েছে।

সাধারণ কবরের মেয়াদ সীমিত

কবরস্থানে জায়গার সংকট সামাল দিতে সাধারণ কবরের মেয়াদ সীমিত রাখা হয়েছে। ডিএনসিসির বনানী ও রায়েরবাজার কবরস্থানে সাধারণ কবরের প্রাথমিক মেয়াদ দুই বছর। ডিএসসিসির বিভিন্ন কবরস্থানে সাধারণ কবরের মেয়াদ সাধারণত এক বছর। এরপর নিয়ম অনুযায়ী একই স্থানে অন্য মরদেহ দাফনের ব্যবস্থা করা হয়।

ডিএনসিসির সমাজকল্যাণ ও বস্তি উন্নয়ন বিভাগের কর্মকর্তা গৌতম কুমার বিশ্বাসের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৭ সালের পর থেকে উত্তর সিটি করপোরেশনের আওতায় নতুন করে কবর বিক্রি বন্ধ রয়েছে। বিশেষ ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষের অনুমতি সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে।

আগে থেকে সংরক্ষিত কবরের ক্ষেত্রেও পুনঃদাফনের নিয়ম রয়েছে। বনানী কবরস্থানে নির্ধারিত স্বজনদের পুনঃদাফনের জন্য ৫০ হাজার ৫০০ টাকা দিতে হয়। উত্তর সিটির অন্যান্য কবরস্থানে এ ফি ৩০ হাজার ৫০০ টাকা। দক্ষিণ সিটির আজিমপুর কবরস্থানে পুনঃদাফনের ফি ৫০ হাজার টাকা।

দক্ষিণে জমি কম, দাফনের চাপ বেশি

দুই সিটি করপোরেশনের কবরস্থানের জমির পরিমাণেও উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে। ডিএসসিসির কবরস্থানগুলোর মোট আয়তন প্রায় ৫৯ একর। বিপরীতে ডিএনসিসির কবরস্থানগুলোর আয়তন প্রায় ১৯২ একর। দুই সিটির জনসংখ্যা প্রায় সমান হলেও দক্ষিণে কবরস্থানের জায়গা তুলনামূলকভাবে কম।

ডিএসসিসির প্রধান সমাজকল্যাণ ও বস্তি উন্নয়ন কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোবাশ্বের হাসান জানিয়েছেন, নতুন কবরস্থান স্থাপনের একটি প্রস্তাব করপোরেশন সভায় অনুমোদিত হয়েছে। বর্তমানে জমি নির্বাচনের কাজ চলছে।

দক্ষিণের আজিমপুর কবরস্থানে প্রতিদিন গড়ে ৩০ থেকে ৩৫টি মরদেহ দাফন করা হয়। প্রতিবছর দাফনের সংখ্যা বাড়লেও কবরস্থানের আয়তন না বাড়ায় জায়গা ব্যবস্থাপনায় চাপ তৈরি হচ্ছে। কোথাও নির্ধারিত মাপ বজায় রাখাও কঠিন হয়ে পড়ছে।

সেবায় সীমাবদ্ধতা, ডিজিটাল ব্যবস্থাপনাও অসম্পূর্ণ

কবরস্থানের জায়গার সংকটের পাশাপাশি ব্যবস্থাপনায় রয়েছে জনবল ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত সীমাবদ্ধতা। জুরাইন কবরস্থানে ইমাম ও মুয়াজ্জিনের পদ শূন্য থাকার কথা জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। পর্যাপ্ত নিরাপত্তাকর্মীর অভাবও রয়েছে।

দক্ষিণ সিটির কবরস্থানগুলোতে অনলাইন আবেদনব্যবস্থা পুরোপুরি চালু হয়নি। ফলে অনেক ক্ষেত্রে সরাসরি গিয়ে হাতে লিখে আবেদন করতে হয়। তবে মৃত ব্যক্তির পরিচয় ও দাফনের তথ্য সংরক্ষণে রেজিস্টারের পাশাপাশি কিছু ক্ষেত্রে ডিজিটাল ব্যবস্থাপনাও চালু রয়েছে।

অন্যদিকে অসচ্ছল পরিবারের জন্য নির্ধারিত সাধারণ দাফনব্যবস্থা রয়েছে। বেওয়ারিশ মরদেহ দাফনের প্রকৃত ব্যয় ডিএসসিসি বহন করে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা। বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্যও রয়েছে বিশেষ সুবিধা। উত্তর সিটির বিভিন্ন কবরস্থানে তাঁদের বিনা মূল্যে নির্দিষ্ট মেয়াদে কবর সংরক্ষণের সুযোগ দেওয়া হয়।

সব মিলিয়ে রাজধানীতে কবরস্থানের সংকট এখন কেবল জমির হিসাব নয়; এটি নগর ব্যবস্থাপনা, জনসংখ্যার চাপ ও নাগরিক সেবারও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। সাধারণ দাফনের ব্যয় তুলনামূলক সীমিত থাকলেও দীর্ঘমেয়াদি সংরক্ষণে বিপুল অর্থের প্রয়োজন অনেক পরিবারের জন্য বড় বাস্তবতা। তাই নতুন কবরস্থান স্থাপন, বিদ্যমান জমির পরিকল্পিত ব্যবহার এবং স্বচ্ছ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা জরুরি। জীবনের মতো মৃত্যুর পরও শেষ ঠিকানার নিশ্চয়তা যেন কেবল আর্থিক সামর্থ্যের ওপর নির্ভর না করে, সেই চ্যালেঞ্জই এখন রাজধানীর সামনে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় খবর

বাংলাদেশ ব্যাংক ও মার্কেন্টাইল ব্যাংকের মধ্যে ২ হাজার কোটি টাকার চুক্তি স্বাক্ষর

Business Times24

ঢাকায় শেষ ঠিকানারও সংকট, কবর সংরক্ষণে গুনতে হয় কোটি টাকা

Update Time : ০১:২১:৩৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬

জীবিত মানুষের মাথা গোঁজার ঠাঁই খুঁজতেই যেখানে হিমশিম খেতে হয়, সেখানে মৃত্যুর পর শেষ ঠিকানার জন্যও ক্রমেই দুর্লভ হয়ে উঠছে রাজধানী ঢাকা। প্রতিদিন বাড়ছে মরদেহ দাফনের সংখ্যা, কিন্তু বাড়ছে না কবরস্থানের জমি। ফলে সাধারণ দাফনের জন্য কয়েকশ থেকে দেড় হাজার টাকার মধ্যে খরচ হলেও প্রিয়জনের কবর দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করতে চাইলে গুনতে হচ্ছে লাখ লাখ টাকা, এমনকি কয়েক কোটি টাকাও। রাজধানীর কোনো কোনো কবরস্থানে ২৫ বছরের জন্য একটি সাধারণ কবর সংরক্ষণে ব্যয় সাড়ে চার কোটি টাকা পর্যন্ত।

ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের কবরস্থান ব্যবস্থাপনার চিত্র বলছে, জায়গার সীমাবদ্ধতা এখন বড় চ্যালেঞ্জ। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) আওতায় রয়েছে সাতটি নিবন্ধিত পাবলিক কবরস্থান। অন্যদিকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) অধীনে রয়েছে পাঁচটি। দুই সিটি করপোরেশনেই সাধারণ দাফনের নিবন্ধন ফি ৫০০ টাকা। তবে কবর খনন, বাঁশ, চাটাই ও শ্রমিকের খরচ যোগ হলে ব্যয় বাড়ে।

দুই সিটির কবর সংরক্ষণে দুই রকম ব্যয়

ডিএনসিসির বনানী কবরস্থানে সাধারণ সারিতে দাফনের পর কবরটি দীর্ঘমেয়াদে সংরক্ষণ করতে চাইলে ব্যয়ের পরিমাণ অনেক বেড়ে যায়। সেখানে ১৫ বছরের জন্য সাধারণ কবর সংরক্ষণে তিন কোটি টাকা এবং ২৫ বছরের জন্য সাড়ে চার কোটি টাকা দিতে হয়। তবে দাফনের আগেই নির্ধারিত নিয়মে সংরক্ষণের ব্যবস্থা করলে ১৫ বছরের জন্য এক কোটি এবং ২৫ বছরের জন্য দেড় কোটি টাকা লাগে।

কবর সংরক্ষণের ব্যয় বেশি রাখার পেছনে রয়েছে সাধারণ মানুষের দাফনের জায়গা নিশ্চিত করার যুক্তি। দীর্ঘমেয়াদে কবর সংরক্ষণে উৎসাহ কমিয়ে জমির ওপর চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে চায় কর্তৃপক্ষ।

মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানেও সংরক্ষণের মেয়াদ অনুযায়ী ফি নির্ধারিত রয়েছে। সেখানে ১৫ বছরের জন্য ২০ লাখ এবং ২৫ বছরের জন্য ৩০ লাখ টাকা দিতে হয়। তবে সাধারণ কবর দেওয়ার পর সেটি দীর্ঘমেয়াদে সংরক্ষণ করতে চাইলে ফি তিন গুণ পর্যন্ত হতে পারে। সে ক্ষেত্রে ২৫ বছরের জন্য ব্যয় দাঁড়ায় ৯০ লাখ টাকা।

অন্যদিকে রায়েরবাজার বধ্যভূমি স্মৃতিসৌধসংলগ্ন কবরস্থানে ১৫ বছরের জন্য ১০ লাখ এবং ২৫ বছরের জন্য ১৫ লাখ টাকা দিয়ে কবর সংরক্ষণের সুযোগ রয়েছে।

ডিএসসিসির কবরস্থানগুলোতেও মেয়াদ অনুযায়ী সংরক্ষণ ফি নির্ধারিত। আজিমপুর কবরস্থানে ১০ বছরের জন্য পাঁচ লাখ, ১৫ বছরের জন্য ১০ লাখ, ২০ বছরের জন্য ১৫ লাখ এবং ২৫ বছরের জন্য ২০ লাখ টাকা দিতে হয়। জুরাইনসহ অন্যান্য কবরস্থানেও নির্ধারিত নীতিমালা অনুযায়ী কবর সংরক্ষণের ব্যবস্থা রয়েছে।

সাধারণ কবরের মেয়াদ সীমিত

কবরস্থানে জায়গার সংকট সামাল দিতে সাধারণ কবরের মেয়াদ সীমিত রাখা হয়েছে। ডিএনসিসির বনানী ও রায়েরবাজার কবরস্থানে সাধারণ কবরের প্রাথমিক মেয়াদ দুই বছর। ডিএসসিসির বিভিন্ন কবরস্থানে সাধারণ কবরের মেয়াদ সাধারণত এক বছর। এরপর নিয়ম অনুযায়ী একই স্থানে অন্য মরদেহ দাফনের ব্যবস্থা করা হয়।

ডিএনসিসির সমাজকল্যাণ ও বস্তি উন্নয়ন বিভাগের কর্মকর্তা গৌতম কুমার বিশ্বাসের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৭ সালের পর থেকে উত্তর সিটি করপোরেশনের আওতায় নতুন করে কবর বিক্রি বন্ধ রয়েছে। বিশেষ ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষের অনুমতি সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে।

আগে থেকে সংরক্ষিত কবরের ক্ষেত্রেও পুনঃদাফনের নিয়ম রয়েছে। বনানী কবরস্থানে নির্ধারিত স্বজনদের পুনঃদাফনের জন্য ৫০ হাজার ৫০০ টাকা দিতে হয়। উত্তর সিটির অন্যান্য কবরস্থানে এ ফি ৩০ হাজার ৫০০ টাকা। দক্ষিণ সিটির আজিমপুর কবরস্থানে পুনঃদাফনের ফি ৫০ হাজার টাকা।

দক্ষিণে জমি কম, দাফনের চাপ বেশি

দুই সিটি করপোরেশনের কবরস্থানের জমির পরিমাণেও উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে। ডিএসসিসির কবরস্থানগুলোর মোট আয়তন প্রায় ৫৯ একর। বিপরীতে ডিএনসিসির কবরস্থানগুলোর আয়তন প্রায় ১৯২ একর। দুই সিটির জনসংখ্যা প্রায় সমান হলেও দক্ষিণে কবরস্থানের জায়গা তুলনামূলকভাবে কম।

ডিএসসিসির প্রধান সমাজকল্যাণ ও বস্তি উন্নয়ন কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোবাশ্বের হাসান জানিয়েছেন, নতুন কবরস্থান স্থাপনের একটি প্রস্তাব করপোরেশন সভায় অনুমোদিত হয়েছে। বর্তমানে জমি নির্বাচনের কাজ চলছে।

দক্ষিণের আজিমপুর কবরস্থানে প্রতিদিন গড়ে ৩০ থেকে ৩৫টি মরদেহ দাফন করা হয়। প্রতিবছর দাফনের সংখ্যা বাড়লেও কবরস্থানের আয়তন না বাড়ায় জায়গা ব্যবস্থাপনায় চাপ তৈরি হচ্ছে। কোথাও নির্ধারিত মাপ বজায় রাখাও কঠিন হয়ে পড়ছে।

সেবায় সীমাবদ্ধতা, ডিজিটাল ব্যবস্থাপনাও অসম্পূর্ণ

কবরস্থানের জায়গার সংকটের পাশাপাশি ব্যবস্থাপনায় রয়েছে জনবল ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত সীমাবদ্ধতা। জুরাইন কবরস্থানে ইমাম ও মুয়াজ্জিনের পদ শূন্য থাকার কথা জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। পর্যাপ্ত নিরাপত্তাকর্মীর অভাবও রয়েছে।

দক্ষিণ সিটির কবরস্থানগুলোতে অনলাইন আবেদনব্যবস্থা পুরোপুরি চালু হয়নি। ফলে অনেক ক্ষেত্রে সরাসরি গিয়ে হাতে লিখে আবেদন করতে হয়। তবে মৃত ব্যক্তির পরিচয় ও দাফনের তথ্য সংরক্ষণে রেজিস্টারের পাশাপাশি কিছু ক্ষেত্রে ডিজিটাল ব্যবস্থাপনাও চালু রয়েছে।

অন্যদিকে অসচ্ছল পরিবারের জন্য নির্ধারিত সাধারণ দাফনব্যবস্থা রয়েছে। বেওয়ারিশ মরদেহ দাফনের প্রকৃত ব্যয় ডিএসসিসি বহন করে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা। বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্যও রয়েছে বিশেষ সুবিধা। উত্তর সিটির বিভিন্ন কবরস্থানে তাঁদের বিনা মূল্যে নির্দিষ্ট মেয়াদে কবর সংরক্ষণের সুযোগ দেওয়া হয়।

সব মিলিয়ে রাজধানীতে কবরস্থানের সংকট এখন কেবল জমির হিসাব নয়; এটি নগর ব্যবস্থাপনা, জনসংখ্যার চাপ ও নাগরিক সেবারও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। সাধারণ দাফনের ব্যয় তুলনামূলক সীমিত থাকলেও দীর্ঘমেয়াদি সংরক্ষণে বিপুল অর্থের প্রয়োজন অনেক পরিবারের জন্য বড় বাস্তবতা। তাই নতুন কবরস্থান স্থাপন, বিদ্যমান জমির পরিকল্পিত ব্যবহার এবং স্বচ্ছ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা জরুরি। জীবনের মতো মৃত্যুর পরও শেষ ঠিকানার নিশ্চয়তা যেন কেবল আর্থিক সামর্থ্যের ওপর নির্ভর না করে, সেই চ্যালেঞ্জই এখন রাজধানীর সামনে।