আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি ও পরিবহন ব্যয়ের চাপে দেশের জ্বালানি সরবরাহ সচল রাখতে বড় অঙ্কের অর্থ পুনর্বিন্যাস করতে হয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনকে (বিপিসি)। ইস্টার্ন রিফাইনারির দ্বিতীয় ইউনিটসহ বিভিন্ন প্রকল্পের জন্য সংরক্ষিত ১৯ হাজার ৫০০ কোটি টাকা আমদানি ব্যয়ে ব্যবহার করেছে সংস্থাটি। পাশাপাশি জ্বালানি আমদানির ব্যয় মেটাতে সরকার বিপিসিকে ৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ঋণ দিয়েছে।
জাতীয় সংসদের সরকারি প্রতিষ্ঠান কমিটির প্রথম বৈঠকে উপস্থাপিত বিপিসির কার্যপত্র অনুযায়ী, গত মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত ছয় মাসে সংস্থাটির লোকসান হয়েছে প্রায় ২২ হাজার ৮৭৬ কোটি টাকা। আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধির পাশাপাশি জাহাজভাড়া ও জ্বালানি পরিবহনের ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় এই আর্থিক চাপ তৈরি হয়েছে।
প্রকল্পের অর্থ পুনর্বিন্যাস
জ্বালানি আমদানি অব্যাহত রাখতে বিভিন্ন প্রকল্পের অর্থ থেকে ১৯ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ব্যবহারের বিষয়টি নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে উন্নয়নকাজের অর্থায়ন নিয়ে। তবে বিপিসি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, প্রকল্পগুলোর প্রয়োজন ও অর্থের সময়সূচি বিবেচনা করেই অর্থ পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে। এতে প্রকল্প বাস্তবায়নে বিঘ্ন ঘটবে না বলে তাঁর দাবি।
অন্যদিকে, ৩০ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থাকে (বাসস) বিপিসি চেয়ারম্যান জানান, আমদানি ব্যয় মেটাতে সরকার ৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ঋণ দিয়েছে। বিপিসি ৫ হাজার কোটি টাকা ঋণ চেয়েছিল। জ্বালানি আমদানির অর্থায়ন, ঋণপত্র খোলা এবং সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতেই এই অর্থ নেওয়া হয়েছে।
অক্টোবরে জ্বালানির দাম অপরিবর্তিত
আন্তর্জাতিক বাজারের চাপ সামাল দিতে গত ২১ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হওয়া মূল্যই অক্টোবর মাসে বহাল রেখেছে সরকার। বর্তমানে প্রতি লিটার ডিজেল ১৩৫ টাকা, কেরোসিন ১৫৫ টাকা, অকটেন ১৬৫ টাকা ও পেট্রোল ১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
বিপিসির হিসাব অনুযায়ী, মূল্যবৃদ্ধির পরও ডিজেল আমদানির ব্যয় ও বিক্রয়মূল্যের মধ্যে বড় ব্যবধান রয়েছে। সংস্থাটির চেয়ারম্যানের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ডিজেল কিনতে প্রতি লিটারে প্রায় ২০৫ টাকা ব্যয় হলেও বিক্রি হচ্ছে ১৩৫ টাকায়।
মজুদ বাড়ানোর পরিকল্পনা
বর্তমানে বিপিসি ও এর আওতাধীন কোম্পানিগুলোর ৬৪টি ডিপো ও স্থাপনায় জ্বালানি মজুদের সক্ষমতা প্রায় ১৬ লাখ টন। এতে ৪০ থেকে ৪৫ দিনের চাহিদা মেটানো সম্ভব। এই সক্ষমতা ৯০ দিনে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সরবরাহ নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত ৬ লাখ ৯৫ হাজার টন গ্যাস অয়েল ও জেট ফুয়েল আমদানির নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
জ্বালানি সরবরাহ সচল রাখা এখন বিপিসির প্রধান অগ্রাধিকার। তবে প্রকল্পের অর্থায়ন, ক্রমবর্ধমান আমদানি ব্যয় ও দীর্ঘমেয়াদি মজুদ সক্ষমতা বৃদ্ধির মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করাই হবে সংস্থাটির সামনে বড় চ্যালেঞ্জ।

নিজস্ব প্রতিবেদক 





















