১২:৫০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬

সেনাবাহিনীতে বাধ্যতামূলক নিয়োগের বিরুদ্ধে হারেদিদের বিক্ষোভ, পুলিশকে ‘নাৎসি’ ও ‘সন্ত্রাসী’ আখ্যা

The gallery was not found!

ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীতে (আইডিএফ) হারেদি তরুণদের বাধ্যতামূলকভাবে অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।

দেশটির তেল হাশোমের এলাকায় আইডিএফের নিয়োগ কার্যালয়ের বাইরে বিক্ষোভকারীরা অবস্থান নিয়ে নতুন নিয়োগপ্রত্যাশী তরুণদের সেনাবাহিনীতে যোগদানে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করছেন বলে পুলিশের অভিযোগ।

ইসরায়েলি পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, বিক্ষোভের কারণে ওই এলাকার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ জনতা নিয়ন্ত্রণের বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়। বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে আলোচনা ও সমঝোতার চেষ্টা করা হলেও তাঁরা ঘটনাস্থল ছাড়তে রাজি হননি। একপর্যায়ে পুলিশের সঙ্গে তাঁদের উত্তেজনা আরও বাড়ে।

পুলিশের অভিযোগ, বিক্ষোভকারীরা কর্মকর্তাদের উদ্দেশে ‘নাৎসি’ ও ‘সন্ত্রাসী’ শব্দ ব্যবহার করে স্লোগান দেন এবং তাঁদের মুখোমুখি অবস্থান নেন। অন্যদিকে, বিক্ষোভকারীদের মূল দাবি হচ্ছে, ধর্মীয় শিক্ষায় নিয়োজিত হারেদি তরুণদের সামরিক বাধ্যবাধকতা থেকে অব্যাহতি দেওয়া।

ইসরায়েলি সম্প্রচারমাধ্যম চ্যানেল-১২ নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রোববার প্রায় ২৩০ জন হারেদি পুরুষের আইডিএফে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে। তাঁদের নিয়োগপ্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করেই তেল হাশোমেরের সেনা নিয়োগ কার্যালয়ের বাইরে এই বিক্ষোভের আয়োজন করা হয়। নিয়োগপ্রক্রিয়ায় অংশ নিতে আসা তরুণদের ভয়ভীতি দেখানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।

আদালতের রায়ের পর নিয়োগ নিয়ে নতুন চাপ

হারেদি সম্প্রদায়ের সামরিক নিয়োগ থেকে অব্যাহতির বিষয়টি ইসরায়েলের রাজনীতি ও সমাজে দীর্ঘদিনের বিতর্ক। দেশটির সাধারণ আইনে প্রাপ্তবয়স্ক নারী-পুরুষের জন্য সামরিক দায়িত্ব বাধ্যতামূলক হলেও ঐতিহাসিকভাবে হারেদি ধর্মীয় শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ ছাড় চালু ছিল। ইয়েশিভা নামের ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পূর্ণকালীন অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরা সামরিক দায়িত্ব পিছিয়ে দেওয়ার সুযোগ পেতেন। সময়ের সঙ্গে এই সুবিধা অনেক ক্ষেত্রে কার্যত সামরিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতির রূপ নেয়।

২০২৪ সালের ২৫ জুন ইসরায়েলের সুপ্রিম কোর্ট এক ঐতিহাসিক রায়ে জানান, হারেদি ইয়েশিভা শিক্ষার্থীদের সামরিক বাহিনীতে নিয়োগ থেকে সামগ্রিকভাবে অব্যাহতি দেওয়ার কোনো কার্যকর আইনি ভিত্তি নেই। আদালত সরকারকে প্রচলিত সামরিক নিয়োগ আইন কার্যকর করার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে যেসব শিক্ষার্থী বৈধ ছাড় ছাড়া সামরিক দায়িত্ব পালন করছেন না, তাঁদের ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য রাষ্ট্রীয় ভর্তুকি বন্ধের বিষয়টিও রায়ের অন্তর্ভুক্ত ছিল।

এই রায়ের পর সরকার ও হারেদি সম্প্রদায়ের মধ্যে বিরোধ আরও গভীর হয়। একদিকে আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়ন এবং সামরিক নিয়োগে সমতা নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে, অন্যদিকে হারেদি ধর্মীয় নেতারা তাঁদের জীবনধারা ও ধর্মীয় শিক্ষাব্যবস্থার স্বাতন্ত্র্য রক্ষার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন। তাঁদের একটি বড় অংশ মনে করেন, সামরিক বাহিনীর পরিবেশে যুক্ত হলে ধর্মীয় অনুশাসন ও ঐতিহ্য বজায় রাখা কঠিন হতে পারে।

জনবল সংকট ও রিজার্ভ সেনাদের ওপর চাপ

হারেদিদের নিয়োগের প্রশ্নটি এখন শুধু ধর্মীয় স্বাধীনতা বা রাজনৈতিক বিরোধের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। গাজা যুদ্ধসহ একাধিক ফ্রন্টে ইসরায়েলের সামরিক তৎপরতা অব্যাহত থাকায় আইডিএফের জনবল চাহিদা বেড়েছে। বিশেষ করে যুদ্ধের পাশাপাশি নিয়মিত সামরিক দায়িত্ব ও রিজার্ভ বাহিনীর সদস্যদের ওপর দীর্ঘমেয়াদি দায়িত্বের চাপ তৈরি হয়েছে।

ইসরায়েল ডেমোক্রেসি ইনস্টিটিউটের ২০২৫ সালের তথ্য অনুযায়ী, দেশটির সামরিক বাহিনীতে বাধ্যতামূলক দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে প্রায় ১২ হাজার সেনার ঘাটতি ছিল। এর মধ্যে ৬ হাজার থেকে সাড়ে ৭ হাজার সেনা প্রয়োজন ছিল যুদ্ধকালীন দায়িত্বে এবং বাকিরা যুদ্ধ-সহায়ক কাজে। একই প্রতিষ্ঠানের তথ্যে বলা হয়, ২০২৫ সালে ইসরায়েলি রিজার্ভ সেনারা গড়ে ১১০ দিন দায়িত্ব পালন করেছেন।

এ পরিস্থিতিতে হারেদি তরুণদের সামরিক বাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জোরালো হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্ব পালনকারী সাধারণ ও রিজার্ভ সেনাদের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে, দেশের নিরাপত্তার দায়িত্ব কেন সমাজের সব সম্প্রদায়ের মধ্যে সমানভাবে বণ্টিত হবে না। তাঁদের মতে, একটি সম্প্রদায়ের বড় অংশ সামরিক দায়িত্বের বাইরে থাকলে অন্যদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়।

তবে হারেদি সম্প্রদায়ের সবাই সামরিক নিয়োগের বিরোধী নন। তাঁদের মধ্যেও সামরিক বাহিনীতে যোগ দেওয়া এবং ধর্মীয় জীবনধারা বজায় রেখে দায়িত্ব পালনের বিষয়ে বিভিন্ন উদ্যোগ রয়েছে। ১ নভেম্বরের নিয়োগ কার্যক্রমেও দুই শতাধিক হারেদি পুরুষের অংশ নেওয়ার কথা জানিয়েছে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম। ফলে সম্প্রদায়টির ভেতরেও সামরিক দায়িত্ব নিয়ে মতপার্থক্য রয়েছে।

রাজনৈতিক সমীকরণেও বাড়ছে জটিলতা

হারেদি নিয়োগের বিরোধিতা ইসরায়েলের ক্ষমতাসীন রাজনীতির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ। দেশটির রাজনীতিতে হারেদি দলগুলোর উল্লেখযোগ্য প্রভাব রয়েছে। ধর্মীয় দলগুলোর সমর্থন সরকারের সংসদীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় সামরিক নিয়োগের প্রশ্নে কঠোর অবস্থান নেওয়া সরকারের জন্য রাজনৈতিকভাবে জটিল।

অন্যদিকে, সামরিক দায়িত্বে সমতা প্রতিষ্ঠার দাবিতে বিরোধী রাজনৈতিক দল ও বিভিন্ন নাগরিক সংগঠন দীর্ঘদিন ধরে চাপ দিয়ে আসছে। ফলে বিষয়টি এখন আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়ন, ধর্মীয় অধিকার, জাতীয় নিরাপত্তা এবং রাজনৈতিক ক্ষমতার ভারসাম্যের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে।

রোববারের (১ নভেম্বর) বিক্ষোভে পুলিশের হস্তক্ষেপ এবং নিয়োগপ্রত্যাশী তরুণদের ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ এই বিরোধের নতুন মাত্রা সামনে এনেছে। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেয় এবং কয়েকটি সড়কে যান চলাচল বন্ধ রাখা হয়।

সব মিলিয়ে, হারেদি সম্প্রদায়ের সামরিক নিয়োগ নিয়ে ইসরায়েল এখন এক জটিল সামাজিক ও সাংবিধানিক বাস্তবতার মুখোমুখি। একদিকে সামরিক বাহিনীর জনবল চাহিদা, অন্যদিকে ধর্মীয় সম্প্রদায়ের দীর্ঘদিনের অবস্থান এবং আদালতের নির্দেশ—এই তিনটি বিষয়কে সমন্বয় করা সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। তেল হাশোমেরের বিক্ষোভ সেই বিরোধেরই সর্বশেষ প্রকাশ। এ সংকটের সমাধান শুধু সামরিক নিয়োগের পরিধি বাড়ানোর ওপর নয়, বরং ইসরায়েলের বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে দায়িত্ব ও অধিকার বণ্টনের ভবিষ্যৎ কাঠামোর ওপরও নির্ভর করছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় খবর

জনতা ইন্স্যুরেন্সের আর্থিক অগ্রযাত্রা, নয় মাসে আয় বেড়ে ১.৩৬ টাকা

Business Times24

সেনাবাহিনীতে বাধ্যতামূলক নিয়োগের বিরুদ্ধে হারেদিদের বিক্ষোভ, পুলিশকে ‘নাৎসি’ ও ‘সন্ত্রাসী’ আখ্যা

Update Time : ১১:৫০:৫৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬

ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীতে (আইডিএফ) হারেদি তরুণদের বাধ্যতামূলকভাবে অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।

দেশটির তেল হাশোমের এলাকায় আইডিএফের নিয়োগ কার্যালয়ের বাইরে বিক্ষোভকারীরা অবস্থান নিয়ে নতুন নিয়োগপ্রত্যাশী তরুণদের সেনাবাহিনীতে যোগদানে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করছেন বলে পুলিশের অভিযোগ।

ইসরায়েলি পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, বিক্ষোভের কারণে ওই এলাকার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ জনতা নিয়ন্ত্রণের বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়। বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে আলোচনা ও সমঝোতার চেষ্টা করা হলেও তাঁরা ঘটনাস্থল ছাড়তে রাজি হননি। একপর্যায়ে পুলিশের সঙ্গে তাঁদের উত্তেজনা আরও বাড়ে।

পুলিশের অভিযোগ, বিক্ষোভকারীরা কর্মকর্তাদের উদ্দেশে ‘নাৎসি’ ও ‘সন্ত্রাসী’ শব্দ ব্যবহার করে স্লোগান দেন এবং তাঁদের মুখোমুখি অবস্থান নেন। অন্যদিকে, বিক্ষোভকারীদের মূল দাবি হচ্ছে, ধর্মীয় শিক্ষায় নিয়োজিত হারেদি তরুণদের সামরিক বাধ্যবাধকতা থেকে অব্যাহতি দেওয়া।

ইসরায়েলি সম্প্রচারমাধ্যম চ্যানেল-১২ নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রোববার প্রায় ২৩০ জন হারেদি পুরুষের আইডিএফে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে। তাঁদের নিয়োগপ্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করেই তেল হাশোমেরের সেনা নিয়োগ কার্যালয়ের বাইরে এই বিক্ষোভের আয়োজন করা হয়। নিয়োগপ্রক্রিয়ায় অংশ নিতে আসা তরুণদের ভয়ভীতি দেখানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।

আদালতের রায়ের পর নিয়োগ নিয়ে নতুন চাপ

হারেদি সম্প্রদায়ের সামরিক নিয়োগ থেকে অব্যাহতির বিষয়টি ইসরায়েলের রাজনীতি ও সমাজে দীর্ঘদিনের বিতর্ক। দেশটির সাধারণ আইনে প্রাপ্তবয়স্ক নারী-পুরুষের জন্য সামরিক দায়িত্ব বাধ্যতামূলক হলেও ঐতিহাসিকভাবে হারেদি ধর্মীয় শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ ছাড় চালু ছিল। ইয়েশিভা নামের ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পূর্ণকালীন অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরা সামরিক দায়িত্ব পিছিয়ে দেওয়ার সুযোগ পেতেন। সময়ের সঙ্গে এই সুবিধা অনেক ক্ষেত্রে কার্যত সামরিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতির রূপ নেয়।

২০২৪ সালের ২৫ জুন ইসরায়েলের সুপ্রিম কোর্ট এক ঐতিহাসিক রায়ে জানান, হারেদি ইয়েশিভা শিক্ষার্থীদের সামরিক বাহিনীতে নিয়োগ থেকে সামগ্রিকভাবে অব্যাহতি দেওয়ার কোনো কার্যকর আইনি ভিত্তি নেই। আদালত সরকারকে প্রচলিত সামরিক নিয়োগ আইন কার্যকর করার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে যেসব শিক্ষার্থী বৈধ ছাড় ছাড়া সামরিক দায়িত্ব পালন করছেন না, তাঁদের ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য রাষ্ট্রীয় ভর্তুকি বন্ধের বিষয়টিও রায়ের অন্তর্ভুক্ত ছিল।

এই রায়ের পর সরকার ও হারেদি সম্প্রদায়ের মধ্যে বিরোধ আরও গভীর হয়। একদিকে আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়ন এবং সামরিক নিয়োগে সমতা নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে, অন্যদিকে হারেদি ধর্মীয় নেতারা তাঁদের জীবনধারা ও ধর্মীয় শিক্ষাব্যবস্থার স্বাতন্ত্র্য রক্ষার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন। তাঁদের একটি বড় অংশ মনে করেন, সামরিক বাহিনীর পরিবেশে যুক্ত হলে ধর্মীয় অনুশাসন ও ঐতিহ্য বজায় রাখা কঠিন হতে পারে।

জনবল সংকট ও রিজার্ভ সেনাদের ওপর চাপ

হারেদিদের নিয়োগের প্রশ্নটি এখন শুধু ধর্মীয় স্বাধীনতা বা রাজনৈতিক বিরোধের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। গাজা যুদ্ধসহ একাধিক ফ্রন্টে ইসরায়েলের সামরিক তৎপরতা অব্যাহত থাকায় আইডিএফের জনবল চাহিদা বেড়েছে। বিশেষ করে যুদ্ধের পাশাপাশি নিয়মিত সামরিক দায়িত্ব ও রিজার্ভ বাহিনীর সদস্যদের ওপর দীর্ঘমেয়াদি দায়িত্বের চাপ তৈরি হয়েছে।

ইসরায়েল ডেমোক্রেসি ইনস্টিটিউটের ২০২৫ সালের তথ্য অনুযায়ী, দেশটির সামরিক বাহিনীতে বাধ্যতামূলক দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে প্রায় ১২ হাজার সেনার ঘাটতি ছিল। এর মধ্যে ৬ হাজার থেকে সাড়ে ৭ হাজার সেনা প্রয়োজন ছিল যুদ্ধকালীন দায়িত্বে এবং বাকিরা যুদ্ধ-সহায়ক কাজে। একই প্রতিষ্ঠানের তথ্যে বলা হয়, ২০২৫ সালে ইসরায়েলি রিজার্ভ সেনারা গড়ে ১১০ দিন দায়িত্ব পালন করেছেন।

এ পরিস্থিতিতে হারেদি তরুণদের সামরিক বাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জোরালো হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্ব পালনকারী সাধারণ ও রিজার্ভ সেনাদের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে, দেশের নিরাপত্তার দায়িত্ব কেন সমাজের সব সম্প্রদায়ের মধ্যে সমানভাবে বণ্টিত হবে না। তাঁদের মতে, একটি সম্প্রদায়ের বড় অংশ সামরিক দায়িত্বের বাইরে থাকলে অন্যদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়।

তবে হারেদি সম্প্রদায়ের সবাই সামরিক নিয়োগের বিরোধী নন। তাঁদের মধ্যেও সামরিক বাহিনীতে যোগ দেওয়া এবং ধর্মীয় জীবনধারা বজায় রেখে দায়িত্ব পালনের বিষয়ে বিভিন্ন উদ্যোগ রয়েছে। ১ নভেম্বরের নিয়োগ কার্যক্রমেও দুই শতাধিক হারেদি পুরুষের অংশ নেওয়ার কথা জানিয়েছে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম। ফলে সম্প্রদায়টির ভেতরেও সামরিক দায়িত্ব নিয়ে মতপার্থক্য রয়েছে।

রাজনৈতিক সমীকরণেও বাড়ছে জটিলতা

হারেদি নিয়োগের বিরোধিতা ইসরায়েলের ক্ষমতাসীন রাজনীতির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ। দেশটির রাজনীতিতে হারেদি দলগুলোর উল্লেখযোগ্য প্রভাব রয়েছে। ধর্মীয় দলগুলোর সমর্থন সরকারের সংসদীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় সামরিক নিয়োগের প্রশ্নে কঠোর অবস্থান নেওয়া সরকারের জন্য রাজনৈতিকভাবে জটিল।

অন্যদিকে, সামরিক দায়িত্বে সমতা প্রতিষ্ঠার দাবিতে বিরোধী রাজনৈতিক দল ও বিভিন্ন নাগরিক সংগঠন দীর্ঘদিন ধরে চাপ দিয়ে আসছে। ফলে বিষয়টি এখন আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়ন, ধর্মীয় অধিকার, জাতীয় নিরাপত্তা এবং রাজনৈতিক ক্ষমতার ভারসাম্যের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে।

রোববারের (১ নভেম্বর) বিক্ষোভে পুলিশের হস্তক্ষেপ এবং নিয়োগপ্রত্যাশী তরুণদের ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ এই বিরোধের নতুন মাত্রা সামনে এনেছে। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেয় এবং কয়েকটি সড়কে যান চলাচল বন্ধ রাখা হয়।

সব মিলিয়ে, হারেদি সম্প্রদায়ের সামরিক নিয়োগ নিয়ে ইসরায়েল এখন এক জটিল সামাজিক ও সাংবিধানিক বাস্তবতার মুখোমুখি। একদিকে সামরিক বাহিনীর জনবল চাহিদা, অন্যদিকে ধর্মীয় সম্প্রদায়ের দীর্ঘদিনের অবস্থান এবং আদালতের নির্দেশ—এই তিনটি বিষয়কে সমন্বয় করা সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। তেল হাশোমেরের বিক্ষোভ সেই বিরোধেরই সর্বশেষ প্রকাশ। এ সংকটের সমাধান শুধু সামরিক নিয়োগের পরিধি বাড়ানোর ওপর নয়, বরং ইসরায়েলের বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে দায়িত্ব ও অধিকার বণ্টনের ভবিষ্যৎ কাঠামোর ওপরও নির্ভর করছে।