১২:৪১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬

লোহিত সাগরের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেতে হুতিদের বিরুদ্ধে অভিযানের ছক সৌদি আরবের

The gallery was not found!

লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ বাব আল-মান্দেব প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেতে ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের পরিকল্পনা করছে সৌদি আরব। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে অভিযান শুরুর প্রস্তুতি চলছে। উপকূলীয় এলাকায় সীমিত আক্রমণ অথবা একাধিক রণাঙ্গনে সমন্বিত অভিযান—দুটি বিকল্প বিবেচনা করছে রিয়াদ। সংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক ও পশ্চিমা কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, ইয়েমেনের সৌদি-সমর্থিত বাহিনী স্থল অভিযান পরিচালনা করবে এবং সৌদি আরব বিমান হামলার মাধ্যমে সহায়তা দেবে। অভিযানের পরিধি অনুযায়ী এক লাখের বেশি ইয়েমেনি সেনা মোতায়েন হতে পারে।

দুই পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা

রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সৌদি আরবের প্রথম পরিকল্পনায় বাব আল-মান্দেব প্রণালির আশপাশে সীমিত সামরিক অভিযান চালানোর কথা রয়েছে। দ্বিতীয় পরিকল্পনায় আল-বায়দা, মারিব, তাইজ ও আল-জাওফসহ ইয়েমেনের বিভিন্ন এলাকায় একযোগে হামলা চালানোর বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।

গত মাসে উপকূলীয় এলাকায় অগ্রসর হয়ে বাব আল-মান্দেবের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার দাবি করেছে হুতিরা। গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথের নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতে থাকলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহনে প্রভাব বিস্তারের সুযোগ বাড়বে বলে মনে করছে রিয়াদ।

অভিযান শুরুর নির্দিষ্ট সময় এখনো চূড়ান্ত হয়নি। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ধারণা, এক সপ্তাহের মধ্যে এটি শুরু হতে পারে। আবার যুক্তরাষ্ট্রের নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরও অভিযান পিছিয়ে যেতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা, সরাসরি অংশগ্রহণ অনিশ্চিত

সৌদি আরবকে গোয়েন্দা তথ্য ও সামরিক পরামর্শ দিয়ে সহায়তা করছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সরাসরি বিমান হামলার মতো সামরিক সহায়তার অনুরোধে সাড়া দেননি বলে রয়টার্সের আগের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সৌদি আরবের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি করা তুরস্ক ও পাকিস্তানও সামরিক সরঞ্জাম দিয়ে সহযোগিতা করছে। পাকিস্তানের চারটি কার্গো বিমানে আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা, হালকা কামান, ড্রোন ও ড্রোন প্রতিরোধী সরঞ্জাম ইয়েমেনের এডেনে পাঠানো হয়েছে। তবে ইয়েমেনে সরাসরি যুদ্ধে অংশ নিতে সেনা পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়নি ইসলামাবাদ।

সৌদি আরবের উদ্বেগের আরেকটি কারণ হলো, হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা থেকে তেল স্থাপনাসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো রক্ষা করা। এদিকে লোহিত সাগরের বন্দরনগরী ইয়ানবুর নিরাপত্তায় প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ও সেনা পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে ফ্রান্স।

অভিযানের সাফল্য নিয়ে সংশয়

ইয়েমেনের বিভিন্ন সরকারপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে বিভক্তি সৌদি পরিকল্পনার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে। বিশ্লেষক মোহাম্মদ আলবাশার মতে, হুতিদের মতো সুসংগঠিত বাহিনীর বিরুদ্ধে দীর্ঘমেয়াদি অভিযান চালানোর মতো প্রস্তুতি অনেক হুতিবিরোধী বাহিনীর নেই।

২০১৫ সালে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে হস্তক্ষেপ করেছিল। পরে ২০২২ সালে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও চলতি বছর ইরান যুদ্ধের প্রভাবে উত্তেজনা আবার বাড়ে।

লোহিত সাগরের দক্ষিণ প্রান্তে অবস্থিত বাব আল-মান্দেব প্রণালি এশিয়া ও ভূমধ্যসাগরের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথ। হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ থাকায় এর কৌশলগত গুরুত্ব আরও বেড়েছে। ফলে সৌদি অভিযানের পরিধি, হুতিদের প্রতিরোধ এবং আঞ্চলিক শক্তিগুলোর ভূমিকা এই নৌপথের নিরাপত্তার ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় খবর

বাংলাদেশ ব্যাংক ও মার্কেন্টাইল ব্যাংকের মধ্যে ২ হাজার কোটি টাকার চুক্তি স্বাক্ষর

Business Times24

লোহিত সাগরের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেতে হুতিদের বিরুদ্ধে অভিযানের ছক সৌদি আরবের

Update Time : ১২:৫০:৪৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬

লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ বাব আল-মান্দেব প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেতে ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের পরিকল্পনা করছে সৌদি আরব। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে অভিযান শুরুর প্রস্তুতি চলছে। উপকূলীয় এলাকায় সীমিত আক্রমণ অথবা একাধিক রণাঙ্গনে সমন্বিত অভিযান—দুটি বিকল্প বিবেচনা করছে রিয়াদ। সংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক ও পশ্চিমা কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, ইয়েমেনের সৌদি-সমর্থিত বাহিনী স্থল অভিযান পরিচালনা করবে এবং সৌদি আরব বিমান হামলার মাধ্যমে সহায়তা দেবে। অভিযানের পরিধি অনুযায়ী এক লাখের বেশি ইয়েমেনি সেনা মোতায়েন হতে পারে।

দুই পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা

রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সৌদি আরবের প্রথম পরিকল্পনায় বাব আল-মান্দেব প্রণালির আশপাশে সীমিত সামরিক অভিযান চালানোর কথা রয়েছে। দ্বিতীয় পরিকল্পনায় আল-বায়দা, মারিব, তাইজ ও আল-জাওফসহ ইয়েমেনের বিভিন্ন এলাকায় একযোগে হামলা চালানোর বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।

গত মাসে উপকূলীয় এলাকায় অগ্রসর হয়ে বাব আল-মান্দেবের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার দাবি করেছে হুতিরা। গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথের নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতে থাকলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহনে প্রভাব বিস্তারের সুযোগ বাড়বে বলে মনে করছে রিয়াদ।

অভিযান শুরুর নির্দিষ্ট সময় এখনো চূড়ান্ত হয়নি। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ধারণা, এক সপ্তাহের মধ্যে এটি শুরু হতে পারে। আবার যুক্তরাষ্ট্রের নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরও অভিযান পিছিয়ে যেতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা, সরাসরি অংশগ্রহণ অনিশ্চিত

সৌদি আরবকে গোয়েন্দা তথ্য ও সামরিক পরামর্শ দিয়ে সহায়তা করছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সরাসরি বিমান হামলার মতো সামরিক সহায়তার অনুরোধে সাড়া দেননি বলে রয়টার্সের আগের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সৌদি আরবের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি করা তুরস্ক ও পাকিস্তানও সামরিক সরঞ্জাম দিয়ে সহযোগিতা করছে। পাকিস্তানের চারটি কার্গো বিমানে আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা, হালকা কামান, ড্রোন ও ড্রোন প্রতিরোধী সরঞ্জাম ইয়েমেনের এডেনে পাঠানো হয়েছে। তবে ইয়েমেনে সরাসরি যুদ্ধে অংশ নিতে সেনা পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়নি ইসলামাবাদ।

সৌদি আরবের উদ্বেগের আরেকটি কারণ হলো, হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা থেকে তেল স্থাপনাসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো রক্ষা করা। এদিকে লোহিত সাগরের বন্দরনগরী ইয়ানবুর নিরাপত্তায় প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ও সেনা পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে ফ্রান্স।

অভিযানের সাফল্য নিয়ে সংশয়

ইয়েমেনের বিভিন্ন সরকারপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে বিভক্তি সৌদি পরিকল্পনার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে। বিশ্লেষক মোহাম্মদ আলবাশার মতে, হুতিদের মতো সুসংগঠিত বাহিনীর বিরুদ্ধে দীর্ঘমেয়াদি অভিযান চালানোর মতো প্রস্তুতি অনেক হুতিবিরোধী বাহিনীর নেই।

২০১৫ সালে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে হস্তক্ষেপ করেছিল। পরে ২০২২ সালে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও চলতি বছর ইরান যুদ্ধের প্রভাবে উত্তেজনা আবার বাড়ে।

লোহিত সাগরের দক্ষিণ প্রান্তে অবস্থিত বাব আল-মান্দেব প্রণালি এশিয়া ও ভূমধ্যসাগরের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথ। হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ থাকায় এর কৌশলগত গুরুত্ব আরও বেড়েছে। ফলে সৌদি অভিযানের পরিধি, হুতিদের প্রতিরোধ এবং আঞ্চলিক শক্তিগুলোর ভূমিকা এই নৌপথের নিরাপত্তার ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।