০৪:৫৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

এলএনজি সংরক্ষণ ও গ্যাসে রূপান্তরে বিনিয়োগে আগ্রহী যুক্তরাষ্ট্র

The gallery was not found!

বাংলাদেশে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সংরক্ষণ ও তা পুনরায় গ্যাসে রূপান্তরের অবকাঠামো বা ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) প্রকল্পে বিনিয়োগে আগ্রহ দেখিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বড় অবকাঠামো প্রকল্পে স্বচ্ছ ও প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ নিশ্চিত করা হলে মার্কিন কোম্পানিগুলোর বিনিয়োগ আগ্রহ আরও বাড়বে বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) ঢাকার মতিঝিলে এফবিসিসিআই কার্যালয়ে বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এ আগ্রহের কথা জানান। বৈঠকে দুই দেশের বাণিজ্য সম্প্রসারণ, জ্বালানি খাতে অংশীদারত্ব, বাংলাদেশে মার্কিন বিনিয়োগ এবং সাম্প্রতিক নীতি সংস্কার নিয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠকে মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, বড় অবকাঠামো প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও উন্মুক্ত প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করা জরুরি। এতে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়বে। বাংলাদেশে কাজ করতে মার্কিন কোম্পানিগুলো আগ্রহী উল্লেখ করে তিনি তাদের উন্মুক্ত প্রতিযোগিতার সুযোগ দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন।

জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, এফএসআরইউ প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়ন এবং নির্ভরযোগ্য সরবরাহের সক্ষমতা দেখাতে পারলে মার্কিন কোম্পানিগুলোর প্রস্তাব গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে। কম সময়ে কার্যকর সরবরাহ পরিকল্পনা দিতে পারলে প্রতিযোগিতায় তাদের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে।

বাংলাদেশের গ্যাসের চাহিদা পূরণে এলএনজির গুরুত্ব ক্রমেই বাড়ছে। বর্তমানে মহেশখালীতে দুটি ভাসমান টার্মিনালের মাধ্যমে আমদানি করা এলএনজি গ্রহণ, সংরক্ষণ ও গ্যাসে রূপান্তর করা হচ্ছে। চলতি বছর এসব টার্মিনাল থেকে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক শত শত মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ হয়েছে।

বৈঠকে জানানো হয়, ২০২৬ থেকে ২০৩৮ সাল পর্যন্ত ১৩ বছরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ১১৭টি এলএনজি কার্গো আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ। ফলে দুই দেশের জ্বালানি সহযোগিতার পাশাপাশি এলএনজি অবকাঠামোয় মার্কিন বিনিয়োগের সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, নতুন বিনিয়োগ এলে এলএনজি আমদানি ও সরবরাহ অবকাঠামোর সক্ষমতা বাড়তে পারে। একই সঙ্গে প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রতিযোগিতা থাকলে ব্যয়, দক্ষতা ও দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় খবর

ভবিষ্যৎ অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ খাত হতে পারে ব্লু ইকোনমি: শিক্ষামন্ত্রী

Business Times24

এলএনজি সংরক্ষণ ও গ্যাসে রূপান্তরে বিনিয়োগে আগ্রহী যুক্তরাষ্ট্র

Update Time : ০৮:৫২:১৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বাংলাদেশে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সংরক্ষণ ও তা পুনরায় গ্যাসে রূপান্তরের অবকাঠামো বা ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) প্রকল্পে বিনিয়োগে আগ্রহ দেখিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বড় অবকাঠামো প্রকল্পে স্বচ্ছ ও প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ নিশ্চিত করা হলে মার্কিন কোম্পানিগুলোর বিনিয়োগ আগ্রহ আরও বাড়বে বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) ঢাকার মতিঝিলে এফবিসিসিআই কার্যালয়ে বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এ আগ্রহের কথা জানান। বৈঠকে দুই দেশের বাণিজ্য সম্প্রসারণ, জ্বালানি খাতে অংশীদারত্ব, বাংলাদেশে মার্কিন বিনিয়োগ এবং সাম্প্রতিক নীতি সংস্কার নিয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠকে মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, বড় অবকাঠামো প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও উন্মুক্ত প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করা জরুরি। এতে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়বে। বাংলাদেশে কাজ করতে মার্কিন কোম্পানিগুলো আগ্রহী উল্লেখ করে তিনি তাদের উন্মুক্ত প্রতিযোগিতার সুযোগ দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন।

জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, এফএসআরইউ প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়ন এবং নির্ভরযোগ্য সরবরাহের সক্ষমতা দেখাতে পারলে মার্কিন কোম্পানিগুলোর প্রস্তাব গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে। কম সময়ে কার্যকর সরবরাহ পরিকল্পনা দিতে পারলে প্রতিযোগিতায় তাদের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে।

বাংলাদেশের গ্যাসের চাহিদা পূরণে এলএনজির গুরুত্ব ক্রমেই বাড়ছে। বর্তমানে মহেশখালীতে দুটি ভাসমান টার্মিনালের মাধ্যমে আমদানি করা এলএনজি গ্রহণ, সংরক্ষণ ও গ্যাসে রূপান্তর করা হচ্ছে। চলতি বছর এসব টার্মিনাল থেকে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক শত শত মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ হয়েছে।

বৈঠকে জানানো হয়, ২০২৬ থেকে ২০৩৮ সাল পর্যন্ত ১৩ বছরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ১১৭টি এলএনজি কার্গো আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ। ফলে দুই দেশের জ্বালানি সহযোগিতার পাশাপাশি এলএনজি অবকাঠামোয় মার্কিন বিনিয়োগের সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, নতুন বিনিয়োগ এলে এলএনজি আমদানি ও সরবরাহ অবকাঠামোর সক্ষমতা বাড়তে পারে। একই সঙ্গে প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রতিযোগিতা থাকলে ব্যয়, দক্ষতা ও দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।