দেশের বাজারে একসঙ্গে দুই ধরনের জ্বালানি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দরে পরিবর্তন এসেছে। সরকার বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম প্রতি লিটারে ৫ টাকা বাড়িয়েছে। একই দিনে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) বেসরকারি খাতের তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) সিলিন্ডারের দাম ১৩ টাকা কমিয়েছে।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এখন থেকে বোতলজাত প্রতি লিটার সয়াবিন তেল সর্বোচ্চ ২০৪ টাকায় বিক্রি হবে। এর আগে এই তেলের নির্ধারিত দাম ছিল ১৯৯ টাকা। তবে পামওয়েলের দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠকের পর সয়াবিন তেলের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়। বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম, আমদানি ব্যয় এবং দেশের বাজারের সামগ্রিক মূল্য পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। গত ২৯ এপ্রিল প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম ৪ টাকা বাড়িয়ে ১৯৯ টাকা করা হয়েছিল। এর আগে দাম ছিল ১৯৫ টাকা। এবার আবারও লিটারে ৫ টাকা বাড়ানো হলো।
অন্যদিকে, ভোক্তা পর্যায়ে বেসরকারি খাতের ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১৩ টাকা কমিয়েছে বিইআরসি। নতুন নির্ধারিত দাম ১ হাজার ৫৮৫ টাকা। গত মাসে এই সিলিন্ডারের দাম ছিল ১ হাজার ৫৯৮ টাকা। অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানে দাম কমেছে ১৩ টাকা।
একই সঙ্গে অন্যান্য ওজনের এলপিজির দামও সমন্বয় করা হয়েছে। যানবাহনে ব্যবহৃত অটোগ্যাসের দামও কমেছে। প্রতি লিটার অটোগ্যাসের দাম ৭৩ টাকা ৬৭ পয়সা থেকে কমিয়ে ৭৩ টাকা ৯ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে।
তবে সরকারি কোম্পানির সরবরাহ করা সাড়ে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। এই সিলিন্ডারের দাম ৮২৫ টাকা। বাজারে সরকারি এলপিজির সরবরাহ সীমিত হওয়ায় সাধারণ ভোক্তাদের বড় অংশ বেসরকারি কোম্পানির সিলিন্ডারের ওপর নির্ভরশীল।
বিইআরসি জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে এলপিজির মূল্য এবং আমদানি ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ব্যয়ের ওপর ভিত্তি করে প্রতি মাসে এলপিজি ও অটোগ্যাসের দাম সমন্বয় করা হয়। ২০২১ সালের এপ্রিল থেকে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মাসভিত্তিক এই মূল্য নির্ধারণ করে আসছে কমিশন।
এলপিজির প্রধান উপাদান প্রোপেন ও বিউটেন বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করা হয়। আন্তর্জাতিক বাজারে এসব উপাদানের দাম নির্ধারণে সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি সৌদি আরামকোর প্রকাশিত কনট্রাক্ট প্রাইস বা সৌদি সিপি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। আমদানি ব্যয়, ডলারের বিনিময় হার ও অন্যান্য খরচ বিবেচনায় নিয়ে দেশের বাজারে এলপিজির দাম নির্ধারণ করে বিইআরসি।
তবে নির্ধারিত দামে বাজারে এলপিজি বিক্রি না হওয়ার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। ফলে বিইআরসির ঘোষিত দাম কমলেও এর পুরো সুবিধা ভোক্তারা পাবেন কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
এদিকে সয়াবিন তেলের দাম নতুন করে বাড়ায় সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন বাজার খরচে চাপ বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে রান্নার কাজে নিয়মিত ভোজ্য তেল ব্যবহারকারী পরিবারগুলোর মাসিক ব্যয় বাড়তে পারে। অন্যদিকে এলপিজির দাম কমায় সিলিন্ডার ব্যবহারকারীরা কিছুটা আর্থিক স্বস্তি পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
একদিকে নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোজ্য তেলের দাম বাড়ানো এবং অন্যদিকে রান্নার অন্যতম জ্বালানি এলপিজির দাম কমানোর ফলে বাজারে ভোক্তাদের ওপর এর সামগ্রিক প্রভাব কতটা পড়ে, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বিশেষ করে নতুন নির্ধারিত দাম বাস্তবে বাজারে কতটা কার্যকর হয়, তা নির্ভর করবে ব্যবসায়ীদের মূল্য বাস্তবায়ন এবং বাজার তদারকির ওপর।

নিজস্ব প্রতিবেদক 






















