০৬:৪৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

গ্যাস সংকটে ভোগান্তি, বৈদ্যুতিক চুলায় ভরসা  

The gallery was not found!

রাজধানীর বাসাবাড়িতে রান্নার চুলা জ্বালানো নিয়ে বাড়ছে ভোগান্তি। দিনের বড় একটি সময় পাইপলাইনে গ্যাসের চাপ এতটাই কম থাকছে যে চুলা জ্বালানো কঠিন হয়ে পড়ছে। কোথাও কোথাও আবার দীর্ঘ সময় গ্যাস থাকছেই না। ফলে রান্নার কাজ সচল রাখতে বাধ্য হয়ে বিকল্প জ্বালানির দিকে ঝুঁকছেন নগরবাসী। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে বৈদ্যুতিক কুকার।

উত্তরা, মিরপুর, মোহাম্মদপুর, বাড্ডা, রামপুরাসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, সকালে রান্নার সময় গ্যাসের চাপ কম থাকায় স্বাভাবিকভাবে রান্না করা যাচ্ছে না। অনেক পরিবারকে রান্নার সময় পরিবর্তন করতে হচ্ছে। কেউ বৈদ্যুতিক চুলা কিনছেন, কেউ রাইস কুকার, আবার কেউ সিলিন্ডার গ্যাস ব্যবহার করছেন। এতে একদিকে যেমন দুর্ভোগ বাড়ছে, অন্যদিকে বাড়ছে সংসারের খরচ।

উত্তরা ৩ নম্বর সেক্টরের বাসিন্দা জেসমিন আলমের রান্নাঘরের চিত্রই বর্তমান সংকটের একটি উদাহরণ। সকাল ৮টার দিকে রান্না শুরু করতে গিয়ে কোনো কোনো দিন গ্যাসের চুলা জ্বালানোই সম্ভব হয় না। দিনের বেশিরভাগ সময় গ্যাসের চাপ কম থাকায় স্বাভাবিকভাবে রান্না করা কঠিন হয়ে পড়ে।
শেষ পর্যন্ত প্রায় ৭ হাজার ৫০০ টাকা খরচ করে একটি ইনফ্রারেড কুকার কিনেছেন তিনি। সঙ্গে নিয়েছেন রাইস কুকারও। গ্যাস সংকটের আগে এসব যন্ত্র তার রান্নাঘরে তেমন প্রয়োজন ছিল না।

শুধু জেসমিন নন, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার বহু পরিবার এখন একই পরিস্থিতির মুখোমুখি। দীর্ঘ সময় গ্যাসের চাপ কম থাকায় পাইপলাইনের গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল পরিবারগুলোকে বাধ্য হয়ে বিকল্প রান্নার ব্যবস্থা করতে হচ্ছে। ফলে একটি সাময়িক গ্যাস সংকটই অনেক পরিবারের জন্য বাড়তি ব্যয়ের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

গত ২২ জুলাই দেশের ভাসমান এলএনজি সংরক্ষণ ও পুনঃগ্যাসীকরণ ইউনিট—এফএসআরইউ থেকে গ্যাস সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার পর পরিস্থিতির অবনতি হয়। এর ফলে জাতীয় গ্রিডে প্রতিদিন প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন ঘনফুট এলএনজি সরবরাহ কমে যায়। এই ঘাটতি মোট গ্যাস সরবরাহের প্রায় ১৭ শতাংশের সমান।
গ্যাসের সরবরাহ কমে যাওয়ার সরাসরি প্রভাব পড়ে ঢাকার বিতরণ ব্যবস্থায়। দিনের বেলায় বিভিন্ন এলাকায় পাইপলাইনে গ্যাসের চাপ প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কমে যায়।

চলতি সপ্তাহে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও কয়েক সপ্তাহের সংকটে এরই মধ্যে বদলে গেছে নগরবাসীর রান্নার অভ্যাস। গ্যাসের অনিশ্চয়তার কারণে অনেক পরিবার এখন রান্নাঘরে বিকল্প ব্যবস্থা রাখাকে প্রয়োজনীয় মনে করছে।

অর্থাৎ, গ্যাস সংকট শুধু চুলার আগুন কমিয়ে দেয়নি; বাড়িয়েছে বিকল্প জ্বালানির ওপর নির্ভরতাও।

গ্যাস সংকটের সবচেয়ে দৃশ্যমান প্রভাব পড়েছে বৈদ্যুতিক রান্নার সরঞ্জামের বাজারে। খাতসংশ্লিষ্টদের হিসাবে, দেশে বৈদ্যুতিক কুকারের বার্ষিক বাজার ২০০ কোটি টাকারও কম। তবে সাম্প্রতিক সংকটে ইনফ্রারেড ও রাইস কুকারের বিক্রি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

আরএফএলের প্রধান বিপণন কর্মকর্তা মুর্শিদ মুনিম বলেন, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ইনফ্রারেড কুকারের চাহিদা দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে। রাইস কুকারের বিক্রি বেড়েছে প্রায় ২০০ থেকে ৩০০ শতাংশ। মানুষ গ্যাসের চুলা থেকে বৈদ্যুতিক কুকারের দিকে যেতে শুরু করেছে।

ইনফ্রারেড কুকারের জনপ্রিয়তার একটি কারণ হলো এতে সাধারণ হাঁড়ি-পাতিল ব্যবহার করা যায়। অন্যদিকে ইনডাকশন কুকারের জন্য নির্দিষ্ট ধরনের হাঁড়ি ও প্যান প্রয়োজন হওয়ায় এর চাহিদা তুলনামূলক ধীরগতিতে বাড়ছে।

চাহিদা সামাল দিতে আরএফএল উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ১০০ শতাংশ বাড়িয়েছে। কিন্তু এরপরও বাজারের চাহিদার সঙ্গে তাল মেলাতে সরবরাহে ঘাটতি তৈরি হয়েছে।

গ্যাস সংকটের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বাড়তি ব্যয়ের চাপ। আগে যে পরিবার পাইপলাইনের গ্যাসেই রান্নার কাজ শেষ করত, এখন তাদের বৈদ্যুতিক কুকার বা রাইস কুকার কিনতে হচ্ছে। আবার গ্যাসের চাপ দীর্ঘ সময় কম থাকলে কেউ কেউ সিলিন্ডার গ্যাসও ব্যবহার করছেন।

একটি ইনফ্রারেড কুকারের দাম সাধারণত ৩ হাজার ৫০০ থেকে ৬ হাজার টাকা। উন্নত মডেলের দাম আরও বেশি। ওয়ালটনের বিভিন্ন মডেলের ইনডাকশন ও ইনফ্রারেড কুকারের দাম ৩ হাজার ৭৯০ থেকে ৫ হাজার ৭৯০ টাকার মধ্যে।

ফলে গ্যাস সংকট মোকাবিলায় তাৎক্ষণিক সমাধান হিসেবে বৈদ্যুতিক চুলা কিনলেও নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবারকে দিতে হচ্ছে এককালীন বাড়তি খরচ।
এর সঙ্গে যোগ হচ্ছে বিদ্যুৎ বিল। ফলে গ্যাসের সংকট অনেক পরিবারের রান্নার ব্যয়কে সরাসরি প্রভাবিত করছে।

অন্যদিকে বৈদ্যুতিক কুকারের বাজারে থাকা দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলোও চাহিদার পরিবর্তন লক্ষ্য করছে। ওয়ালটন, আরএফএল, কিয়ামসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান দেশে বৈদ্যুতিক কুকার উৎপাদন ও বাজারজাত করছে। পাশাপাশি আমদানিনির্ভর ছোট প্রতিষ্ঠানও রয়েছে।

তবে সব প্রতিষ্ঠানে চাহিদা সমানভাবে বাড়েনি। কিয়াম মেটাল ইন্ডাস্ট্রিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মতিয়ার রহমান হায়দার জানিয়েছেন, গ্যাস সংকট তাদের বৈদ্যুতিক কুকারের বিক্রিতে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলেনি। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবসার বড় অংশ অন্যান্য রান্নার সরঞ্জামনির্ভর।

সাম্প্রতিক গ্যাস সংকট আবারও সামনে এনেছে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তার প্রশ্ন। এলএনজি সরবরাহে সামান্য বিঘ্ন ঘটলেই যদি রাজধানীর লাখো মানুষ রান্না নিয়ে বিপাকে পড়েন, তাহলে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার সক্ষমতা ও বিকল্প পরিকল্পনা নিয়ে নতুন করে ভাবার প্রয়োজন রয়েছে।

গ্যাসের সরবরাহ বাড়ানোর পাশাপাশি পাইপলাইন ও বিতরণব্যবস্থার সক্ষমতা উন্নত করা জরুরি। একই সঙ্গে দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান, এলএনজি সরবরাহের স্থিতিশীলতা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর বিষয়েও গুরুত্ব দিতে হবে। কারণ রান্নাঘরের চুলায় আগুন জ্বলছে কি না—এটি শুধু একটি পরিবারের স্বস্তির বিষয় নয়। গ্যাসের সংকট দীর্ঘায়িত হলে এর প্রভাব পড়ে মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়, শিল্প উৎপাদন, বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং সামগ্রিক অর্থনীতিতে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় খবর

নিত্যপণ্যের দামে বাজারের বাজেট এলোমেলো

Business Times24

গ্যাস সংকটে ভোগান্তি, বৈদ্যুতিক চুলায় ভরসা  

Update Time : ০৮:০৫:১৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬

রাজধানীর বাসাবাড়িতে রান্নার চুলা জ্বালানো নিয়ে বাড়ছে ভোগান্তি। দিনের বড় একটি সময় পাইপলাইনে গ্যাসের চাপ এতটাই কম থাকছে যে চুলা জ্বালানো কঠিন হয়ে পড়ছে। কোথাও কোথাও আবার দীর্ঘ সময় গ্যাস থাকছেই না। ফলে রান্নার কাজ সচল রাখতে বাধ্য হয়ে বিকল্প জ্বালানির দিকে ঝুঁকছেন নগরবাসী। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে বৈদ্যুতিক কুকার।

উত্তরা, মিরপুর, মোহাম্মদপুর, বাড্ডা, রামপুরাসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, সকালে রান্নার সময় গ্যাসের চাপ কম থাকায় স্বাভাবিকভাবে রান্না করা যাচ্ছে না। অনেক পরিবারকে রান্নার সময় পরিবর্তন করতে হচ্ছে। কেউ বৈদ্যুতিক চুলা কিনছেন, কেউ রাইস কুকার, আবার কেউ সিলিন্ডার গ্যাস ব্যবহার করছেন। এতে একদিকে যেমন দুর্ভোগ বাড়ছে, অন্যদিকে বাড়ছে সংসারের খরচ।

উত্তরা ৩ নম্বর সেক্টরের বাসিন্দা জেসমিন আলমের রান্নাঘরের চিত্রই বর্তমান সংকটের একটি উদাহরণ। সকাল ৮টার দিকে রান্না শুরু করতে গিয়ে কোনো কোনো দিন গ্যাসের চুলা জ্বালানোই সম্ভব হয় না। দিনের বেশিরভাগ সময় গ্যাসের চাপ কম থাকায় স্বাভাবিকভাবে রান্না করা কঠিন হয়ে পড়ে।
শেষ পর্যন্ত প্রায় ৭ হাজার ৫০০ টাকা খরচ করে একটি ইনফ্রারেড কুকার কিনেছেন তিনি। সঙ্গে নিয়েছেন রাইস কুকারও। গ্যাস সংকটের আগে এসব যন্ত্র তার রান্নাঘরে তেমন প্রয়োজন ছিল না।

শুধু জেসমিন নন, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার বহু পরিবার এখন একই পরিস্থিতির মুখোমুখি। দীর্ঘ সময় গ্যাসের চাপ কম থাকায় পাইপলাইনের গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল পরিবারগুলোকে বাধ্য হয়ে বিকল্প রান্নার ব্যবস্থা করতে হচ্ছে। ফলে একটি সাময়িক গ্যাস সংকটই অনেক পরিবারের জন্য বাড়তি ব্যয়ের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

গত ২২ জুলাই দেশের ভাসমান এলএনজি সংরক্ষণ ও পুনঃগ্যাসীকরণ ইউনিট—এফএসআরইউ থেকে গ্যাস সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার পর পরিস্থিতির অবনতি হয়। এর ফলে জাতীয় গ্রিডে প্রতিদিন প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন ঘনফুট এলএনজি সরবরাহ কমে যায়। এই ঘাটতি মোট গ্যাস সরবরাহের প্রায় ১৭ শতাংশের সমান।
গ্যাসের সরবরাহ কমে যাওয়ার সরাসরি প্রভাব পড়ে ঢাকার বিতরণ ব্যবস্থায়। দিনের বেলায় বিভিন্ন এলাকায় পাইপলাইনে গ্যাসের চাপ প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কমে যায়।

চলতি সপ্তাহে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও কয়েক সপ্তাহের সংকটে এরই মধ্যে বদলে গেছে নগরবাসীর রান্নার অভ্যাস। গ্যাসের অনিশ্চয়তার কারণে অনেক পরিবার এখন রান্নাঘরে বিকল্প ব্যবস্থা রাখাকে প্রয়োজনীয় মনে করছে।

অর্থাৎ, গ্যাস সংকট শুধু চুলার আগুন কমিয়ে দেয়নি; বাড়িয়েছে বিকল্প জ্বালানির ওপর নির্ভরতাও।

গ্যাস সংকটের সবচেয়ে দৃশ্যমান প্রভাব পড়েছে বৈদ্যুতিক রান্নার সরঞ্জামের বাজারে। খাতসংশ্লিষ্টদের হিসাবে, দেশে বৈদ্যুতিক কুকারের বার্ষিক বাজার ২০০ কোটি টাকারও কম। তবে সাম্প্রতিক সংকটে ইনফ্রারেড ও রাইস কুকারের বিক্রি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

আরএফএলের প্রধান বিপণন কর্মকর্তা মুর্শিদ মুনিম বলেন, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ইনফ্রারেড কুকারের চাহিদা দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে। রাইস কুকারের বিক্রি বেড়েছে প্রায় ২০০ থেকে ৩০০ শতাংশ। মানুষ গ্যাসের চুলা থেকে বৈদ্যুতিক কুকারের দিকে যেতে শুরু করেছে।

ইনফ্রারেড কুকারের জনপ্রিয়তার একটি কারণ হলো এতে সাধারণ হাঁড়ি-পাতিল ব্যবহার করা যায়। অন্যদিকে ইনডাকশন কুকারের জন্য নির্দিষ্ট ধরনের হাঁড়ি ও প্যান প্রয়োজন হওয়ায় এর চাহিদা তুলনামূলক ধীরগতিতে বাড়ছে।

চাহিদা সামাল দিতে আরএফএল উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ১০০ শতাংশ বাড়িয়েছে। কিন্তু এরপরও বাজারের চাহিদার সঙ্গে তাল মেলাতে সরবরাহে ঘাটতি তৈরি হয়েছে।

গ্যাস সংকটের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বাড়তি ব্যয়ের চাপ। আগে যে পরিবার পাইপলাইনের গ্যাসেই রান্নার কাজ শেষ করত, এখন তাদের বৈদ্যুতিক কুকার বা রাইস কুকার কিনতে হচ্ছে। আবার গ্যাসের চাপ দীর্ঘ সময় কম থাকলে কেউ কেউ সিলিন্ডার গ্যাসও ব্যবহার করছেন।

একটি ইনফ্রারেড কুকারের দাম সাধারণত ৩ হাজার ৫০০ থেকে ৬ হাজার টাকা। উন্নত মডেলের দাম আরও বেশি। ওয়ালটনের বিভিন্ন মডেলের ইনডাকশন ও ইনফ্রারেড কুকারের দাম ৩ হাজার ৭৯০ থেকে ৫ হাজার ৭৯০ টাকার মধ্যে।

ফলে গ্যাস সংকট মোকাবিলায় তাৎক্ষণিক সমাধান হিসেবে বৈদ্যুতিক চুলা কিনলেও নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবারকে দিতে হচ্ছে এককালীন বাড়তি খরচ।
এর সঙ্গে যোগ হচ্ছে বিদ্যুৎ বিল। ফলে গ্যাসের সংকট অনেক পরিবারের রান্নার ব্যয়কে সরাসরি প্রভাবিত করছে।

অন্যদিকে বৈদ্যুতিক কুকারের বাজারে থাকা দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলোও চাহিদার পরিবর্তন লক্ষ্য করছে। ওয়ালটন, আরএফএল, কিয়ামসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান দেশে বৈদ্যুতিক কুকার উৎপাদন ও বাজারজাত করছে। পাশাপাশি আমদানিনির্ভর ছোট প্রতিষ্ঠানও রয়েছে।

তবে সব প্রতিষ্ঠানে চাহিদা সমানভাবে বাড়েনি। কিয়াম মেটাল ইন্ডাস্ট্রিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মতিয়ার রহমান হায়দার জানিয়েছেন, গ্যাস সংকট তাদের বৈদ্যুতিক কুকারের বিক্রিতে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলেনি। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবসার বড় অংশ অন্যান্য রান্নার সরঞ্জামনির্ভর।

সাম্প্রতিক গ্যাস সংকট আবারও সামনে এনেছে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তার প্রশ্ন। এলএনজি সরবরাহে সামান্য বিঘ্ন ঘটলেই যদি রাজধানীর লাখো মানুষ রান্না নিয়ে বিপাকে পড়েন, তাহলে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার সক্ষমতা ও বিকল্প পরিকল্পনা নিয়ে নতুন করে ভাবার প্রয়োজন রয়েছে।

গ্যাসের সরবরাহ বাড়ানোর পাশাপাশি পাইপলাইন ও বিতরণব্যবস্থার সক্ষমতা উন্নত করা জরুরি। একই সঙ্গে দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান, এলএনজি সরবরাহের স্থিতিশীলতা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর বিষয়েও গুরুত্ব দিতে হবে। কারণ রান্নাঘরের চুলায় আগুন জ্বলছে কি না—এটি শুধু একটি পরিবারের স্বস্তির বিষয় নয়। গ্যাসের সংকট দীর্ঘায়িত হলে এর প্রভাব পড়ে মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়, শিল্প উৎপাদন, বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং সামগ্রিক অর্থনীতিতে।