০৬:৪৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

চিনি-তেল-আটা-ময়দা-ডিমের বাড়তি দামে চাপে ক্রেতা

The gallery was not found!

সবজির বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। কমেছে বেশ কিছু সবজির দাম, স্বাভাবিক হয়েছে কাঁচা মরিচের বাজারও। কিন্তু এই স্বস্তি টিকছে না নিত্যপ্রয়োজনীয় মুদি পণ্যের বাড়তি দামে।

চিনি, ভোজ্যতেল, আটা, ময়দা ও ডিমের দাম বেড়ে যাওয়ায় সংসারের খরচ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। শুধু দাম বাড়াই নয়, চিনি ও বোতলজাত ভোজ্যতেলের সরবরাহ কমে যাওয়ায় বাজারে তৈরি হয়েছে নতুন অস্থিরতা।

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

ময়দায় কেজিতে বেড়েছে ১০ টাকা

গত ১৫ থেকে ২০ দিনের ব্যবধানে প্যাকেটজাত ময়দার দাম কেজিতে বেড়েছে ১০ টাকা। বর্তমানে প্রতি কেজি ময়দা বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকায়। অথচ কিছুদিন আগেও এর দাম ছিল ৭০ টাকা। দুই কেজির প্যাকেটের গায়ে লেখা দামও ১৪০ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ১৬০ টাকা।

চিনির বাজারে দামও বাড়ছে, সরবরাহও কমছে

চিনির বাজারে একসঙ্গে বেড়েছে দাম ও সংকট। বর্তমানে খুচরা বাজারে প্রতি কেজি চিনি বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১২৫ টাকায়। মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে দাম বেড়েছে প্রায় ১০ টাকা। প্যাকেটজাত চিনির সর্বোচ্চ খুচরা মূল্যও ১১০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১২০ টাকা করা হয়েছে।

মালিবাগ বাজারের বিক্রেতা চিশতি জানান, কয়েক দিনের ব্যবধানে ডিলাররা ৫০ কেজির এক বস্তা চিনির দাম ৯০০ থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত বাড়িয়েছেন। প্যাকেটজাত চিনির দামও কেজিতে বেড়েছে ১০ টাকা।

দাম বাড়লেও অনেক দোকানে মিলছে না চিনি। সরবরাহ কমে যাওয়ায় ক্রেতাদের এক দোকান থেকে অন্য দোকানে ঘুরতে হচ্ছে।

বিক্রেতাদের দাবি, মিলগেট ও পাইকারি পর্যায়ে দাম বেড়ে যাওয়ার কারণেই খুচরা বাজারে চিনির দাম বেড়েছে। একই সঙ্গে মিলগেট থেকে সরবরাহও কমেছে।

তেলেও সরবরাহ সংকটের শঙ্কা

ভোজ্যতেলের বাজারেও দেখা দিয়েছে অস্থিরতা। খোলা সয়াবিন তেল এখন প্রতি লিটার ১৮৫ থেকে ১৯০ টাকা এবং খোলা পাম তেল ১৬৫ থেকে ১৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সরকার নির্ধারিত বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম প্রতি লিটার ২০০ টাকা।

বোতলজাত তেলের দাম এখনো না বাড়লেও অনেক দোকানে চাহিদা অনুযায়ী তেল পাওয়া যাচ্ছে না। খুচরা বিক্রেতাদের অভিযোগ, দাম বাড়ানোর প্রস্তুতি হিসেবে কোম্পানিগুলো সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে।

সবজিতে কিছুটা স্বস্তি

মুদি বাজারের অস্বস্তির মধ্যেই সবজির বাজারে মিলেছে কিছুটা স্বস্তির খবর। কয়েক সপ্তাহ আগে সরবরাহ ঘাটতির কারণে অনেক সবজির দাম কেজিতে ১০০ টাকা ছাড়িয়ে গিয়েছিল। এখন সরবরাহ বাড়ায় বেশির ভাগ সবজির দাম নেমে এসেছে ৫০ থেকে ৬০ টাকার মধ্যে।

পটোল, পেঁপে ও ঢ্যাঁড়সের দাম তুলনামূলক কম। কাঁচা মরিচের বাজারও অনেকটা স্বাভাবিক হয়েছে। খুচরা বাজারে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ ৮০ থেকে ১২০ টাকা এবং কারওয়ান বাজারে পাইকারিতে ৬০ থেকে ৭০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

ব্যবসায়ী খন্দকার আজিজুল বলেন, ভারত থেকে কাঁচা মরিচ আমদানির সুযোগ দেওয়ার পর সরবরাহ বেড়েছে। এতে দামও কমেছে।

পেঁয়াজ-আলু স্থির, ডিমে নেই স্বস্তি

পেঁয়াজের বাজারে কয়েক সপ্তাহ ধরে বড় কোনো পরিবর্তন নেই। মানভেদে প্রতি কেজি পেঁয়াজ ৫৫ থেকে ৬০ টাকা। আলুও ২৫ থেকে ৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। কোথাও কোথাও ভ্যানে পাঁচ কেজি আলু ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

তবে ডিমের দাম এখনো আগের উচ্চমূল্যেই রয়েছে। প্রতি ডজন ডিম ১৫০ টাকা এবং চারটি ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কিছু পাড়া-মহল্লার দোকানে ডজনপ্রতি দাম ১৬০ টাকা পর্যন্ত উঠেছে।

ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি ১৮০ থেকে ২০০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩০০ থেকে ৩২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

সবজির স্বস্তি ঢেকে দিচ্ছে মুদি পণ্যের চাপ

সবজির দাম কিছুটা কমলেও চিনি, তেল, আটা, ময়দা ও ডিমের বাড়তি দাম বাজারের সামগ্রিক চিত্রে স্বস্তি ফিরতে দিচ্ছে না। তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সরবরাহ কমে যাওয়ার উদ্বেগ।

ফলে বাজারে এখন যেন দুই রকম চিত্র—সবজির ঝুড়িতে কিছুটা স্বস্তি, আর মুদি বাজারে বাড়তি দামের চাপ। সাধারণ ক্রেতার প্রশ্ন, কয়েকটি পণ্যের দাম কমলেই যদি অন্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়তে থাকে, তাহলে বাজারে স্বস্তি ফিরবে কবে?

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় খবর

নিত্যপণ্যের দামে বাজারের বাজেট এলোমেলো

Business Times24

চিনি-তেল-আটা-ময়দা-ডিমের বাড়তি দামে চাপে ক্রেতা

Update Time : ১১:৪৫:৩০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬

সবজির বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। কমেছে বেশ কিছু সবজির দাম, স্বাভাবিক হয়েছে কাঁচা মরিচের বাজারও। কিন্তু এই স্বস্তি টিকছে না নিত্যপ্রয়োজনীয় মুদি পণ্যের বাড়তি দামে।

চিনি, ভোজ্যতেল, আটা, ময়দা ও ডিমের দাম বেড়ে যাওয়ায় সংসারের খরচ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। শুধু দাম বাড়াই নয়, চিনি ও বোতলজাত ভোজ্যতেলের সরবরাহ কমে যাওয়ায় বাজারে তৈরি হয়েছে নতুন অস্থিরতা।

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

ময়দায় কেজিতে বেড়েছে ১০ টাকা

গত ১৫ থেকে ২০ দিনের ব্যবধানে প্যাকেটজাত ময়দার দাম কেজিতে বেড়েছে ১০ টাকা। বর্তমানে প্রতি কেজি ময়দা বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকায়। অথচ কিছুদিন আগেও এর দাম ছিল ৭০ টাকা। দুই কেজির প্যাকেটের গায়ে লেখা দামও ১৪০ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ১৬০ টাকা।

চিনির বাজারে দামও বাড়ছে, সরবরাহও কমছে

চিনির বাজারে একসঙ্গে বেড়েছে দাম ও সংকট। বর্তমানে খুচরা বাজারে প্রতি কেজি চিনি বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১২৫ টাকায়। মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে দাম বেড়েছে প্রায় ১০ টাকা। প্যাকেটজাত চিনির সর্বোচ্চ খুচরা মূল্যও ১১০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১২০ টাকা করা হয়েছে।

মালিবাগ বাজারের বিক্রেতা চিশতি জানান, কয়েক দিনের ব্যবধানে ডিলাররা ৫০ কেজির এক বস্তা চিনির দাম ৯০০ থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত বাড়িয়েছেন। প্যাকেটজাত চিনির দামও কেজিতে বেড়েছে ১০ টাকা।

দাম বাড়লেও অনেক দোকানে মিলছে না চিনি। সরবরাহ কমে যাওয়ায় ক্রেতাদের এক দোকান থেকে অন্য দোকানে ঘুরতে হচ্ছে।

বিক্রেতাদের দাবি, মিলগেট ও পাইকারি পর্যায়ে দাম বেড়ে যাওয়ার কারণেই খুচরা বাজারে চিনির দাম বেড়েছে। একই সঙ্গে মিলগেট থেকে সরবরাহও কমেছে।

তেলেও সরবরাহ সংকটের শঙ্কা

ভোজ্যতেলের বাজারেও দেখা দিয়েছে অস্থিরতা। খোলা সয়াবিন তেল এখন প্রতি লিটার ১৮৫ থেকে ১৯০ টাকা এবং খোলা পাম তেল ১৬৫ থেকে ১৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সরকার নির্ধারিত বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম প্রতি লিটার ২০০ টাকা।

বোতলজাত তেলের দাম এখনো না বাড়লেও অনেক দোকানে চাহিদা অনুযায়ী তেল পাওয়া যাচ্ছে না। খুচরা বিক্রেতাদের অভিযোগ, দাম বাড়ানোর প্রস্তুতি হিসেবে কোম্পানিগুলো সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে।

সবজিতে কিছুটা স্বস্তি

মুদি বাজারের অস্বস্তির মধ্যেই সবজির বাজারে মিলেছে কিছুটা স্বস্তির খবর। কয়েক সপ্তাহ আগে সরবরাহ ঘাটতির কারণে অনেক সবজির দাম কেজিতে ১০০ টাকা ছাড়িয়ে গিয়েছিল। এখন সরবরাহ বাড়ায় বেশির ভাগ সবজির দাম নেমে এসেছে ৫০ থেকে ৬০ টাকার মধ্যে।

পটোল, পেঁপে ও ঢ্যাঁড়সের দাম তুলনামূলক কম। কাঁচা মরিচের বাজারও অনেকটা স্বাভাবিক হয়েছে। খুচরা বাজারে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ ৮০ থেকে ১২০ টাকা এবং কারওয়ান বাজারে পাইকারিতে ৬০ থেকে ৭০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

ব্যবসায়ী খন্দকার আজিজুল বলেন, ভারত থেকে কাঁচা মরিচ আমদানির সুযোগ দেওয়ার পর সরবরাহ বেড়েছে। এতে দামও কমেছে।

পেঁয়াজ-আলু স্থির, ডিমে নেই স্বস্তি

পেঁয়াজের বাজারে কয়েক সপ্তাহ ধরে বড় কোনো পরিবর্তন নেই। মানভেদে প্রতি কেজি পেঁয়াজ ৫৫ থেকে ৬০ টাকা। আলুও ২৫ থেকে ৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। কোথাও কোথাও ভ্যানে পাঁচ কেজি আলু ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

তবে ডিমের দাম এখনো আগের উচ্চমূল্যেই রয়েছে। প্রতি ডজন ডিম ১৫০ টাকা এবং চারটি ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কিছু পাড়া-মহল্লার দোকানে ডজনপ্রতি দাম ১৬০ টাকা পর্যন্ত উঠেছে।

ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি ১৮০ থেকে ২০০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩০০ থেকে ৩২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

সবজির স্বস্তি ঢেকে দিচ্ছে মুদি পণ্যের চাপ

সবজির দাম কিছুটা কমলেও চিনি, তেল, আটা, ময়দা ও ডিমের বাড়তি দাম বাজারের সামগ্রিক চিত্রে স্বস্তি ফিরতে দিচ্ছে না। তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সরবরাহ কমে যাওয়ার উদ্বেগ।

ফলে বাজারে এখন যেন দুই রকম চিত্র—সবজির ঝুড়িতে কিছুটা স্বস্তি, আর মুদি বাজারে বাড়তি দামের চাপ। সাধারণ ক্রেতার প্রশ্ন, কয়েকটি পণ্যের দাম কমলেই যদি অন্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়তে থাকে, তাহলে বাজারে স্বস্তি ফিরবে কবে?