০২:০০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নেপালে ভয়াবহ বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪৬৯

The gallery was not found!

নেপালে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪৬৯ জনে দাঁড়িয়েছে। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) নেপাল পুলিশ জানিয়েছে, দেশটির চীন সীমান্তবর্তী দুর্যোগকবলিত এলাকায় এখনো শত শত মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। উদ্ধারকারীরা তাদের সন্ধানে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন। খবর অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের।

এর আগে নেপালে ৩৯০ জন এবং তিব্বতে তিনজনের মৃত্যুর খবর জানিয়েছিল কর্তৃপক্ষ। বুধবারের ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের ঘটনায় নেপাল ও তিব্বতে নিখোঁজ মানুষের সংখ্যা ১ হাজার ৪০০ ছাড়িয়েছিল।

নেপালি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এরই মধ্যে শত শত মানুষকে উদ্ধার করা হয়েছে। রাজধানী কাঠমান্ডুতে কয়েক ডজন মানুষ চিকিৎসাধীন রয়েছেন। নিখোঁজদের মধ্যে বিভিন্ন দেশের নাগরিকও রয়েছেন। তাদের অনেকেই ট্রেকিং বা তীর্থযাত্রার জন্য ওই এলাকায় গিয়েছিলেন।

নেপাল পুলিশ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বুধবারের আকস্মিক বন্যার পর শুক্রবার সকাল পর্যন্ত উদ্ধারকারী দল ৪৬৯টি মরদেহ উদ্ধার করেছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৫৪৫ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন এলাকায় উদ্ধার ও ত্রাণ তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।

নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় রাত ১০টা পর্যন্ত ৯৭৭ জনের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

দুর্যোগের ভয়াবহতা ফুটে উঠেছে বিভিন্ন ছবিতে। নেপালের সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত নুওয়াকোট জেলার ঘরবাড়ি ও সড়ক কাদা ও ধ্বংসাবশেষে ঢেকে গেছে। গাছের সঙ্গে ঝুলে রয়েছে ধ্বংসাবশেষ। কাদায় মাখামাখি অবস্থায় হতভম্ব হয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে বেঁচে যাওয়া মানুষদের।

অন্যদিকে তিব্বতের শিগাতসে এলাকায় নদীর পাশ দিয়ে যাওয়া দুই লেনের একটি সড়ক পুরোপুরি মাটির নিচে চাপা পড়েছে। আকাশ থেকে ধারণ করা ভিডিওতে চীন-নেপাল সীমান্তে একটি হ্রদ তৈরি হয়ে ক্রমেই বড় হওয়ার দৃশ্যও দেখা গেছে। হ্রদের বাঁধ ভেঙে আরও ভয়াবহ বন্যা দেখা দিতে পারে বলে সতর্ক করেছে কর্তৃপক্ষ।

নিউইয়র্ক শহরের একটি রেস্তোরাঁর মালিক রাজন তামাং জানান, কাঠমান্ডুতে থাকা পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে তিনি জানতে পেরেছেন, তার মা ও বোন বন্যায় মারা গেছেন। তবে তার আরও অনেক স্বজন ও বন্ধু এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।

নিউইয়র্কে আয়োজিত এক প্রার্থনা অনুষ্ঠানের পর অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে তিনি বলেন, আমার পরিবারের সদস্যরা তখন ঘুম থেকে উঠছিলেন। তারা কোনো সতর্কবার্তাও পাননি। হঠাৎ বন্যার পানি চলে আসে। তাদের কেউ নিখোঁজ, কেউ প্রাণ হারিয়েছেন, আর মাত্র কয়েকজন বেঁচে আছেন।

সূত্র : অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় খবর
Business Times24

নেপালে ভয়াবহ বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪৬৯

Update Time : ১০:৫৪:২১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬

নেপালে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪৬৯ জনে দাঁড়িয়েছে। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) নেপাল পুলিশ জানিয়েছে, দেশটির চীন সীমান্তবর্তী দুর্যোগকবলিত এলাকায় এখনো শত শত মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। উদ্ধারকারীরা তাদের সন্ধানে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন। খবর অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের।

এর আগে নেপালে ৩৯০ জন এবং তিব্বতে তিনজনের মৃত্যুর খবর জানিয়েছিল কর্তৃপক্ষ। বুধবারের ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের ঘটনায় নেপাল ও তিব্বতে নিখোঁজ মানুষের সংখ্যা ১ হাজার ৪০০ ছাড়িয়েছিল।

নেপালি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এরই মধ্যে শত শত মানুষকে উদ্ধার করা হয়েছে। রাজধানী কাঠমান্ডুতে কয়েক ডজন মানুষ চিকিৎসাধীন রয়েছেন। নিখোঁজদের মধ্যে বিভিন্ন দেশের নাগরিকও রয়েছেন। তাদের অনেকেই ট্রেকিং বা তীর্থযাত্রার জন্য ওই এলাকায় গিয়েছিলেন।

নেপাল পুলিশ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বুধবারের আকস্মিক বন্যার পর শুক্রবার সকাল পর্যন্ত উদ্ধারকারী দল ৪৬৯টি মরদেহ উদ্ধার করেছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৫৪৫ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন এলাকায় উদ্ধার ও ত্রাণ তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।

নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় রাত ১০টা পর্যন্ত ৯৭৭ জনের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

দুর্যোগের ভয়াবহতা ফুটে উঠেছে বিভিন্ন ছবিতে। নেপালের সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত নুওয়াকোট জেলার ঘরবাড়ি ও সড়ক কাদা ও ধ্বংসাবশেষে ঢেকে গেছে। গাছের সঙ্গে ঝুলে রয়েছে ধ্বংসাবশেষ। কাদায় মাখামাখি অবস্থায় হতভম্ব হয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে বেঁচে যাওয়া মানুষদের।

অন্যদিকে তিব্বতের শিগাতসে এলাকায় নদীর পাশ দিয়ে যাওয়া দুই লেনের একটি সড়ক পুরোপুরি মাটির নিচে চাপা পড়েছে। আকাশ থেকে ধারণ করা ভিডিওতে চীন-নেপাল সীমান্তে একটি হ্রদ তৈরি হয়ে ক্রমেই বড় হওয়ার দৃশ্যও দেখা গেছে। হ্রদের বাঁধ ভেঙে আরও ভয়াবহ বন্যা দেখা দিতে পারে বলে সতর্ক করেছে কর্তৃপক্ষ।

নিউইয়র্ক শহরের একটি রেস্তোরাঁর মালিক রাজন তামাং জানান, কাঠমান্ডুতে থাকা পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে তিনি জানতে পেরেছেন, তার মা ও বোন বন্যায় মারা গেছেন। তবে তার আরও অনেক স্বজন ও বন্ধু এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।

নিউইয়র্কে আয়োজিত এক প্রার্থনা অনুষ্ঠানের পর অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে তিনি বলেন, আমার পরিবারের সদস্যরা তখন ঘুম থেকে উঠছিলেন। তারা কোনো সতর্কবার্তাও পাননি। হঠাৎ বন্যার পানি চলে আসে। তাদের কেউ নিখোঁজ, কেউ প্রাণ হারিয়েছেন, আর মাত্র কয়েকজন বেঁচে আছেন।

সূত্র : অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস