০৬:৪৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

৬৪ জেলায় ৩০ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী-হুইপের নতুন দায়িত্ব

The gallery was not found!

দেশের ৬৪ জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, দুর্নীতি ও মাদক নিয়ন্ত্রণ, সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার পাশাপাশি উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড তদারকি ও সমন্বয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন সরকারের ৩০ জন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও ক্ষমতাসীন দলের হুইপ।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি এতে সই করেন।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সংসদ সদস্যরা সংশ্লিষ্ট জেলার স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান এবং অন্যান্য সাংবিধানিক ও আইনগত সংস্থার ক্ষমতা খর্ব না করে সরকারের সার্বিক কার্যক্রম তদারকি ও সমন্বয় করবেন।

সরকারের ভাষ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর গঠিত মন্ত্রিসভা দীর্ঘদিন ধরে লক্ষ্য করছে, আগের সরকারের সময়ে বিভিন্ন জেলার উন্নয়ন বরাদ্দ কাগজে-কলমে থাকলেও ব্যাপক দুর্নীতির মাধ্যমে অর্থ লুটপাট করা হয়েছে। লুট করা অর্থের একটি অংশ বিদেশে পাচার এবং অন্য অংশ মাদক ও সামাজিক অবক্ষয়সহ জননিরাপত্তা ও জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকিপূর্ণ কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত হয়েছে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সরকারের অগ্রাধিকার কর্মসূচির মধ্যে টেকসই উন্নয়ন, সুশাসন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও দুর্নীতি নির্মূলের কথা উল্লেখ করে এসব লক্ষ্য বাস্তবায়নে জেলা পর্যায়ে কার্যকর তদারকি জোরদারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

কোন জেলার দায়িত্বে কে

ইকবাল হাসান মাহমুদ—রাজশাহী ও নাটোর; ডা. আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন—লালমনিরহাট, নীলফামারী ও পঞ্চগড়; আব্দুল আউয়াল মিন্টু—লক্ষ্মীপুর; নিতাই রায় চৌধুরী—চুয়াডাঙ্গা; খন্দকার আবদুল মুক্তাদির—হবিগঞ্জ; আরিফুল হক চৌধুরী—মৌলভীবাজার; মো. শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী—চট্টগ্রাম; এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত—শেরপুর, ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনা; আসাদুল হাবিব দুলু—ঠাকুরগাঁও ও দিনাজপুর; মো. আসাদুজ্জামান—খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাট; জাকারিয়া তাহের—ফেনী ও নোয়াখালী; সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল—মানিকগঞ্জ ও মুন্সীগঞ্জ; সাচিং প্রু—কক্সবাজার; মো. শরীফুল আলম—টাঙ্গাইল ও নরসিংদী; শামা ওবায়েদ ইসলাম—মাদারীপুর ও শরীয়তপুর; অনিন্দ্য ইসলাম অমিত—মেহেরপুর, কুষ্টিয়া ও ঝিনাইদহ; আব্দুল বারী—বগুড়া ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ; সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু—ঢাকা; মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন—খাগড়াছড়ি, বান্দরবান ও রাঙামাটি; হাবিবুর রশিদ—গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জ; মো. রাজীব আহসান—বরগুনা, পটুয়াখালী ও পিরোজপুর; মীর শাহে আলম—রংপুর, গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রাম; ফারজানা শারমিন—সিরাজগঞ্জ ও পাবনা; শেখ ফরিদুল ইসলাম—যশোর, মাগুরা ও নড়াইল; ইয়াসের খান চৌধুরী—জামালপুর ও কিশোরগঞ্জ; আহমেদ সোহেল মঞ্জুর—বরিশাল, ভোলা ও ঝালকাঠি; মোহাম্মদ শামীম কায়সার—জয়পুরহাট ও নওগাঁ; মো. জি কে গউস—সিলেট ও সুনামগঞ্জ; মিয়াঁ নুরুদ্দিন আহম্মেদ—রাজবাড়ী, ফরিদপুর ও গোপালগঞ্জ; এ বি এম আশরাফ উদ্দিন (নিজান)—ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা ও চাঁদপুর।

যে দায়িত্ব পালন করবেন

দায়িত্বপ্রাপ্তরা মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচার নিয়ন্ত্রণ, চোরাচালান প্রতিরোধ, গুরুতর অপরাধ দমন এবং সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলোকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেবেন।

এ ছাড়া সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়ন, দারিদ্র্য বিমোচন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিসহ বিভিন্ন উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড তদারকি ও পরামর্শ দেওয়ার দায়িত্বও তাঁদের ওপর থাকবে। প্রয়োজনে তাঁরা সংশ্লিষ্ট জেলার বিভিন্ন সভায় অংশ নিয়ে পরামর্শ দিতে পারবেন।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, এসব দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান বা অন্য কোনো সাংবিধানিক ও আইনগত সংস্থার আইনগত ক্ষমতা খর্ব হবে না।

দায়িত্ব বণ্টনের সাংবিধানিক ভিত্তি হিসেবে সংবিধানের ৫৫(২) অনুচ্ছেদ এবং কার্যপ্রণালীবিধির পঞ্চম অধ্যায়ের ৩৩ নম্বর বিধির উল্লেখ করা হয়েছে। সরকারের প্রত্যাশা, নতুন এই দায়িত্ব বণ্টনের মাধ্যমে জেলা পর্যায়ে প্রশাসনিক সমন্বয়, উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের তদারকি, আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠার কার্যক্রম আরও জোরদার হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় খবর

নিত্যপণ্যের দামে বাজারের বাজেট এলোমেলো

Business Times24

৬৪ জেলায় ৩০ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী-হুইপের নতুন দায়িত্ব

Update Time : ১০:৫০:০৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬

দেশের ৬৪ জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, দুর্নীতি ও মাদক নিয়ন্ত্রণ, সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার পাশাপাশি উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড তদারকি ও সমন্বয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন সরকারের ৩০ জন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও ক্ষমতাসীন দলের হুইপ।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি এতে সই করেন।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সংসদ সদস্যরা সংশ্লিষ্ট জেলার স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান এবং অন্যান্য সাংবিধানিক ও আইনগত সংস্থার ক্ষমতা খর্ব না করে সরকারের সার্বিক কার্যক্রম তদারকি ও সমন্বয় করবেন।

সরকারের ভাষ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর গঠিত মন্ত্রিসভা দীর্ঘদিন ধরে লক্ষ্য করছে, আগের সরকারের সময়ে বিভিন্ন জেলার উন্নয়ন বরাদ্দ কাগজে-কলমে থাকলেও ব্যাপক দুর্নীতির মাধ্যমে অর্থ লুটপাট করা হয়েছে। লুট করা অর্থের একটি অংশ বিদেশে পাচার এবং অন্য অংশ মাদক ও সামাজিক অবক্ষয়সহ জননিরাপত্তা ও জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকিপূর্ণ কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত হয়েছে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সরকারের অগ্রাধিকার কর্মসূচির মধ্যে টেকসই উন্নয়ন, সুশাসন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও দুর্নীতি নির্মূলের কথা উল্লেখ করে এসব লক্ষ্য বাস্তবায়নে জেলা পর্যায়ে কার্যকর তদারকি জোরদারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

কোন জেলার দায়িত্বে কে

ইকবাল হাসান মাহমুদ—রাজশাহী ও নাটোর; ডা. আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন—লালমনিরহাট, নীলফামারী ও পঞ্চগড়; আব্দুল আউয়াল মিন্টু—লক্ষ্মীপুর; নিতাই রায় চৌধুরী—চুয়াডাঙ্গা; খন্দকার আবদুল মুক্তাদির—হবিগঞ্জ; আরিফুল হক চৌধুরী—মৌলভীবাজার; মো. শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী—চট্টগ্রাম; এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত—শেরপুর, ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনা; আসাদুল হাবিব দুলু—ঠাকুরগাঁও ও দিনাজপুর; মো. আসাদুজ্জামান—খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাট; জাকারিয়া তাহের—ফেনী ও নোয়াখালী; সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল—মানিকগঞ্জ ও মুন্সীগঞ্জ; সাচিং প্রু—কক্সবাজার; মো. শরীফুল আলম—টাঙ্গাইল ও নরসিংদী; শামা ওবায়েদ ইসলাম—মাদারীপুর ও শরীয়তপুর; অনিন্দ্য ইসলাম অমিত—মেহেরপুর, কুষ্টিয়া ও ঝিনাইদহ; আব্দুল বারী—বগুড়া ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ; সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু—ঢাকা; মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন—খাগড়াছড়ি, বান্দরবান ও রাঙামাটি; হাবিবুর রশিদ—গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জ; মো. রাজীব আহসান—বরগুনা, পটুয়াখালী ও পিরোজপুর; মীর শাহে আলম—রংপুর, গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রাম; ফারজানা শারমিন—সিরাজগঞ্জ ও পাবনা; শেখ ফরিদুল ইসলাম—যশোর, মাগুরা ও নড়াইল; ইয়াসের খান চৌধুরী—জামালপুর ও কিশোরগঞ্জ; আহমেদ সোহেল মঞ্জুর—বরিশাল, ভোলা ও ঝালকাঠি; মোহাম্মদ শামীম কায়সার—জয়পুরহাট ও নওগাঁ; মো. জি কে গউস—সিলেট ও সুনামগঞ্জ; মিয়াঁ নুরুদ্দিন আহম্মেদ—রাজবাড়ী, ফরিদপুর ও গোপালগঞ্জ; এ বি এম আশরাফ উদ্দিন (নিজান)—ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা ও চাঁদপুর।

যে দায়িত্ব পালন করবেন

দায়িত্বপ্রাপ্তরা মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচার নিয়ন্ত্রণ, চোরাচালান প্রতিরোধ, গুরুতর অপরাধ দমন এবং সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলোকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেবেন।

এ ছাড়া সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়ন, দারিদ্র্য বিমোচন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিসহ বিভিন্ন উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড তদারকি ও পরামর্শ দেওয়ার দায়িত্বও তাঁদের ওপর থাকবে। প্রয়োজনে তাঁরা সংশ্লিষ্ট জেলার বিভিন্ন সভায় অংশ নিয়ে পরামর্শ দিতে পারবেন।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, এসব দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান বা অন্য কোনো সাংবিধানিক ও আইনগত সংস্থার আইনগত ক্ষমতা খর্ব হবে না।

দায়িত্ব বণ্টনের সাংবিধানিক ভিত্তি হিসেবে সংবিধানের ৫৫(২) অনুচ্ছেদ এবং কার্যপ্রণালীবিধির পঞ্চম অধ্যায়ের ৩৩ নম্বর বিধির উল্লেখ করা হয়েছে। সরকারের প্রত্যাশা, নতুন এই দায়িত্ব বণ্টনের মাধ্যমে জেলা পর্যায়ে প্রশাসনিক সমন্বয়, উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের তদারকি, আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠার কার্যক্রম আরও জোরদার হবে।