০২:০০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নেপালে বন্যা-ভূমিধসে ৩৬২ মৃত্যু, নিখোঁজ প্রায় ১,৪০০

The gallery was not found!

হিমালয়ের বুকের এক মুহূর্তের পরিবর্তন বদলে দিয়েছে হাজারো মানুষের জীবন। নেপাল-চীন সীমান্তের রাসুয়া এলাকায় আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে নেপালে ৩৫৯ জন এবং তিব্বতে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। দুই অঞ্চল মিলিয়ে নিখোঁজের সংখ্যা ১,৪০০ ছাড়িয়েছে।

উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকায় হতাহতের সংখ্যা আরও পরিবর্তিত হতে পারে। গত বুধবার সকালে শুরু হওয়া এই দুর্যেোগে নিখোঁজদের মধ্যে স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি বিদেশি পর্যটক, তীর্থযাত্রী ও শ্রমিক রয়েছেন। ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, মালয়েশিয়া, ইউক্রেনসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিকের নাম নিখোঁজের তালিকায় এসেছে। অনেকেই কৈলাস-মানস সরোবরের পথে ছিলেন।

এই বিপর্যয়ের প্রথম দিকে কারণ নিয়ে তৈরি হয়েছিল নানা প্রশ্ন। হিমবাহের হ্রদ ভেঙে বন্যা, তুষারধস, ভূমিধস এমনকি ভূমিকম্প—বিভিন্ন সম্ভাবনা সামনে এসেছিল। কিন্তু গতকাল বৃহস্পতিবার স্যাটেলাইট ছবি, ঘটনাস্থলের ভিডিও, নদীর গতিপ্রবাহের তথ্য এবং বিজ্ঞানীদের প্রাথমিক বিশ্লেষণে যে ব্যাখ্যাটি সবচেয়ে জোরালো হয়ে উঠেছে তা হলো—নেপালের অংশে একটি বিশাল বরফ-পাথরের ধস লেন্দে নদীর প্রবাহ সাময়িকভাবে আটকে দেয়।

এতে প্রাকৃতিক বাঁধের মতো একটি বাধা তৈরি হয়। পরে সেই বাধা ভেঙে বিপুল পানি, বরফ, কাদা ও পাথর একসঙ্গে নিচের দিকে নেমে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও ধ্বংসপ্রবাহ সৃষ্টি করে। তবে ঘটনাটির প্রতিটি ধাপ এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত হয়নি। বিশেষ করে ভূমিকম্পটি ধসের সূত্রপাত ঘটিয়েছিল কি না এবং অস্থায়ী প্রাকৃতিক বাঁধটি ঠিক কীভাবে তৈরি ও ভেঙেছিল, তা নিয়ে বিজ্ঞানীরা এখনো কাজ করছেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় খবর
Business Times24

নেপালে বন্যা-ভূমিধসে ৩৬২ মৃত্যু, নিখোঁজ প্রায় ১,৪০০

Update Time : ১০:২৬:০২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬

হিমালয়ের বুকের এক মুহূর্তের পরিবর্তন বদলে দিয়েছে হাজারো মানুষের জীবন। নেপাল-চীন সীমান্তের রাসুয়া এলাকায় আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে নেপালে ৩৫৯ জন এবং তিব্বতে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। দুই অঞ্চল মিলিয়ে নিখোঁজের সংখ্যা ১,৪০০ ছাড়িয়েছে।

উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকায় হতাহতের সংখ্যা আরও পরিবর্তিত হতে পারে। গত বুধবার সকালে শুরু হওয়া এই দুর্যেোগে নিখোঁজদের মধ্যে স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি বিদেশি পর্যটক, তীর্থযাত্রী ও শ্রমিক রয়েছেন। ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, মালয়েশিয়া, ইউক্রেনসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিকের নাম নিখোঁজের তালিকায় এসেছে। অনেকেই কৈলাস-মানস সরোবরের পথে ছিলেন।

এই বিপর্যয়ের প্রথম দিকে কারণ নিয়ে তৈরি হয়েছিল নানা প্রশ্ন। হিমবাহের হ্রদ ভেঙে বন্যা, তুষারধস, ভূমিধস এমনকি ভূমিকম্প—বিভিন্ন সম্ভাবনা সামনে এসেছিল। কিন্তু গতকাল বৃহস্পতিবার স্যাটেলাইট ছবি, ঘটনাস্থলের ভিডিও, নদীর গতিপ্রবাহের তথ্য এবং বিজ্ঞানীদের প্রাথমিক বিশ্লেষণে যে ব্যাখ্যাটি সবচেয়ে জোরালো হয়ে উঠেছে তা হলো—নেপালের অংশে একটি বিশাল বরফ-পাথরের ধস লেন্দে নদীর প্রবাহ সাময়িকভাবে আটকে দেয়।

এতে প্রাকৃতিক বাঁধের মতো একটি বাধা তৈরি হয়। পরে সেই বাধা ভেঙে বিপুল পানি, বরফ, কাদা ও পাথর একসঙ্গে নিচের দিকে নেমে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও ধ্বংসপ্রবাহ সৃষ্টি করে। তবে ঘটনাটির প্রতিটি ধাপ এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত হয়নি। বিশেষ করে ভূমিকম্পটি ধসের সূত্রপাত ঘটিয়েছিল কি না এবং অস্থায়ী প্রাকৃতিক বাঁধটি ঠিক কীভাবে তৈরি ও ভেঙেছিল, তা নিয়ে বিজ্ঞানীরা এখনো কাজ করছেন।