০২:৪১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নিয়ন্ত্রণে কোনাবাড়ীর ঝুট গোডাউনের ভয়াবহ আগুন

The gallery was not found!

প্রায় চার ঘণ্টার চেষ্টায় সকাল সাড়ে ৯টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয় ফায়ার সার্ভিস।গাজীপুরের কোনাবাড়ীতে ঝুটের গোডাউনে লাগা আগুন প্রায় চার ঘণ্টার চেষ্টায় নিয়ন্ত্রণে এনেছে ফায়ার সার্ভিস। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে দেউলিয়াবাড়ি এলাকার একটি ঝুটের গোডাউন থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। এ ঘটনায় পুড়ে গেছে ওই গুদামের আশপাশে থাকা আরও ১২টি গোডাউন।

ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, যে গোডাউন থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়, তার আশপাশের গুদামগুলোয় বিপুল পরিমাণ ঝুটসহ বিভিন্ন দাহ্য মালামাল মজুত থাকায় আগুন দ্রুত ভয়াবহ আকার ধারণ করে।

খবর পেয়ে স্থানীয়রা আগুন নেভানোর প্রাথমিক চেষ্টা করেন। পরে ফায়ার সার্ভিসে খবর দেওয়া হলে কোনাবাড়ী ফায়ার স্টেশনের তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। আগুনের তীব্রতা বাড়তে থাকায় সারাবো ফায়ার স্টেশনের আরও তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে যোগ দেয়। পরে ফায়ার সার্ভিসের ছয়টি ইউনিট দীর্ঘ সময় ধরে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে।

গাজীপুর ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক সাইদুল আলম চৌধুরী জানান, প্রায় চার ঘণ্টা চেষ্টার পর বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে।

নিয়ন্ত্রণে কোনাবাড়ীর ঝুট গোডাউনের ভয়াবহ আগুন
এক গুদামের আগুনে পুড়ল আরও ১২ গোডাউন
তিনি জানান, অগ্নিকাণ্ডে কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি। ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও তদন্ত শেষে ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ জানা যাবে। একই সঙ্গে আগুন লাগার সুনির্দিষ্ট কারণও তদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।

ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা জানান, আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পরও গোডাউনগুলোয় থাকা পোড়া ঝুট ও অন্যান্য দাহ্য মালামালের কারণে কোথাও আগুন বা ধোঁয়া রয়েছে কি না, তা পর্যবেক্ষণ করা হয়।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, অগ্নিকাণ্ডে পাশাপাশি থাকা প্রায় ১২টি ঝুটের গোডাউন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব গোডাউনে বিপুল পরিমাণ ঝুট ও বিভিন্ন ধরনের মালামাল মজুত ছিল। আগুনে এসব মালামাল পুড়ে যাওয়ায় ব্যবসায়ীদের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।

তবে অগ্নিকাণ্ডে মোট কত টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, সে বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত হিসাব পাওয়া যায়নি। ক্ষতিগ্রস্ত গোডাউন মালিকরা ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বেশি বলে দাবি করলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত শেষে প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ জানা যাবে।

এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে আগুনের ভয়াবহতা ও ঘন কালো ধোঁয়ায় আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের পাশাপাশি স্থানীয় লোকজনও সহযোগিতা করেন।

স্থানীয়রা জানান, গোডাউনগুলো পাশাপাশি হওয়ায় এবং সেখানে বিপুল পরিমাণ দাহ্য ঝুট মজুত থাকায় আগুন দ্রুত এক গোডাউন থেকে অন্য গোডাউনে ছড়িয়ে পড়ে।

অগ্নিকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো জানা যায়নি। বৈদ্যুতিক ত্রুটি, শর্টসার্কিট নাকি অন্য কোনো কারণে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে, তা তদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।

 

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় খবর
Business Times24

নিয়ন্ত্রণে কোনাবাড়ীর ঝুট গোডাউনের ভয়াবহ আগুন

Update Time : ১২:৩৫:১৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬

প্রায় চার ঘণ্টার চেষ্টায় সকাল সাড়ে ৯টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয় ফায়ার সার্ভিস।গাজীপুরের কোনাবাড়ীতে ঝুটের গোডাউনে লাগা আগুন প্রায় চার ঘণ্টার চেষ্টায় নিয়ন্ত্রণে এনেছে ফায়ার সার্ভিস। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে দেউলিয়াবাড়ি এলাকার একটি ঝুটের গোডাউন থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। এ ঘটনায় পুড়ে গেছে ওই গুদামের আশপাশে থাকা আরও ১২টি গোডাউন।

ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, যে গোডাউন থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়, তার আশপাশের গুদামগুলোয় বিপুল পরিমাণ ঝুটসহ বিভিন্ন দাহ্য মালামাল মজুত থাকায় আগুন দ্রুত ভয়াবহ আকার ধারণ করে।

খবর পেয়ে স্থানীয়রা আগুন নেভানোর প্রাথমিক চেষ্টা করেন। পরে ফায়ার সার্ভিসে খবর দেওয়া হলে কোনাবাড়ী ফায়ার স্টেশনের তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। আগুনের তীব্রতা বাড়তে থাকায় সারাবো ফায়ার স্টেশনের আরও তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে যোগ দেয়। পরে ফায়ার সার্ভিসের ছয়টি ইউনিট দীর্ঘ সময় ধরে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে।

গাজীপুর ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক সাইদুল আলম চৌধুরী জানান, প্রায় চার ঘণ্টা চেষ্টার পর বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে।

নিয়ন্ত্রণে কোনাবাড়ীর ঝুট গোডাউনের ভয়াবহ আগুন
এক গুদামের আগুনে পুড়ল আরও ১২ গোডাউন
তিনি জানান, অগ্নিকাণ্ডে কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি। ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও তদন্ত শেষে ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ জানা যাবে। একই সঙ্গে আগুন লাগার সুনির্দিষ্ট কারণও তদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।

ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা জানান, আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পরও গোডাউনগুলোয় থাকা পোড়া ঝুট ও অন্যান্য দাহ্য মালামালের কারণে কোথাও আগুন বা ধোঁয়া রয়েছে কি না, তা পর্যবেক্ষণ করা হয়।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, অগ্নিকাণ্ডে পাশাপাশি থাকা প্রায় ১২টি ঝুটের গোডাউন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব গোডাউনে বিপুল পরিমাণ ঝুট ও বিভিন্ন ধরনের মালামাল মজুত ছিল। আগুনে এসব মালামাল পুড়ে যাওয়ায় ব্যবসায়ীদের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।

তবে অগ্নিকাণ্ডে মোট কত টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, সে বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত হিসাব পাওয়া যায়নি। ক্ষতিগ্রস্ত গোডাউন মালিকরা ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বেশি বলে দাবি করলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত শেষে প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ জানা যাবে।

এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে আগুনের ভয়াবহতা ও ঘন কালো ধোঁয়ায় আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের পাশাপাশি স্থানীয় লোকজনও সহযোগিতা করেন।

স্থানীয়রা জানান, গোডাউনগুলো পাশাপাশি হওয়ায় এবং সেখানে বিপুল পরিমাণ দাহ্য ঝুট মজুত থাকায় আগুন দ্রুত এক গোডাউন থেকে অন্য গোডাউনে ছড়িয়ে পড়ে।

অগ্নিকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো জানা যায়নি। বৈদ্যুতিক ত্রুটি, শর্টসার্কিট নাকি অন্য কোনো কারণে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে, তা তদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।