দেশের অর্থবছরের সময়সীমা জুলাই-জুন থেকে পরিবর্তন করে এপ্রিল-মার্চ করার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় কর্মপন্থা নির্ধারণে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে সরকার। আগামী ২০২৮-২৯ অর্থবছর থেকে নতুন সময়সীমা কার্যকর করার লক্ষ্য সামনে রেখে এই কমিটি গঠন করা হয়েছে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জারি করা প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে প্রধান করে গঠিত কমিটিতে সদস্য হিসেবে রয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ সচিব, আইন ও সংসদ বিষয়ক সচিব এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান।
কমিটিকে অর্থবছরের সময় পরিবর্তনের জন্য প্রয়োজনীয় আইনগত ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ নির্ধারণের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে সংবিধান এবং জেনারেল ক্লজেস অ্যাক্ট, ১৮৯৭-এর প্রয়োজনীয় সংশোধন কীভাবে করা হবে, সে বিষয়ে কর্মপন্থা নির্ধারণ করবে কমিটি।
এ ছাড়া সরকারের আর্থিক ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থায় যেসব প্রযুক্তিগত পরিবর্তন প্রয়োজন হবে, সেগুলো বাস্তবায়নের পরিকল্পনাও নির্ধারণ করবে এই কমিটি। অর্থবছরের সময় পরিবর্তনের কারণে বাজেট প্রণয়ন, হিসাব ব্যবস্থাপনা, সরকারি আয়-ব্যয় এবং রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় যেসব পরিবর্তন প্রয়োজন হবে, সেগুলোও প্রক্রিয়ার অংশ হবে।
নতুন সময়সীমায় যাওয়ার প্রক্রিয়াটি সহজ করতে ২০২৭-২৮ অর্থবছরকে নয় মাসের একটি মধ্যবর্তী অর্থবছর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ ওই অর্থবছর জুলাই ২০২৭ থেকে শুরু হয়ে ২০২৮ সালের মার্চে শেষ হবে। এরপর ২০২৮ সালের ১ এপ্রিল থেকে শুরু হবে নতুন অর্থবছর, যা শেষ হবে পরবর্তী বছরের ৩১ মার্চ।
অর্থবছরের সময় পরিবর্তনের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে অবকাঠামো উন্নয়নকাজের সময়সূচির বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। বর্তমানে অর্থবছর জুলাই মাসে শুরু হওয়ায় বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের গুরুত্বপূর্ণ কাজ জুলাই ও আগস্ট মাস পর্যন্ত গড়ায়। এ সময় দেশে বর্ষা ও ভারী বৃষ্টিপাত থাকায় অনেক এলাকায় নির্মাণকাজ ব্যাহত হয়।
ভারী বৃষ্টির কারণে উন্নয়নকাজে বিলম্বের পাশাপাশি কাজের মান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। একই সঙ্গে সড়ক, সেতু ও অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণ ও সংস্কারকাজ চলাকালে সাধারণ মানুষকেও দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
সরকারের আশা, এপ্রিল-মার্চ অর্থবছর চালু হলে বর্ষা মৌসুম শুরুর আগেই অবকাঠামো উন্নয়নের বড় অংশের কাজ শেষ করা সম্ভব হবে। এতে প্রকল্প বাস্তবায়নের সময়সূচি আরও কার্যকর হবে এবং বর্ষাকালে উন্নয়নকাজের কারণে সৃষ্ট বিভিন্ন সমস্যা কমানো যাবে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ জানিয়েছে, এপ্রিল-মার্চ সময়সীমাকে অর্থবছর করা হলে বর্ষা আসার আগেই গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো উন্নয়নকাজ শেষ করার সুযোগ তৈরি হবে। এর ফলে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে সময় ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর হওয়ার পাশাপাশি কাজের মান উন্নত করার সুযোগও তৈরি হতে পারে।
অর্থবছর পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর এর বাস্তবায়নের জন্য এবার কমিটি গঠন করা হলো। কমিটি প্রয়োজনীয় আইন সংশোধন, প্রশাসনিক ব্যবস্থা এবং সরকারি আর্থিক ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের কর্মপন্থা নির্ধারণ করবে। সেই কর্মপন্থার ভিত্তিতেই ধাপে ধাপে নতুন অর্থবছর চালুর প্রস্তুতি নেওয়া হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক 




















