গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সাথে সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হয়েছেন দেশের তিন বাহিনীর প্রধান। সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম এবং বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন নবনিযুক্ত রাষ্ট্রপতির সাথে দেখা করেন।
আজ মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দুপুরে বঙ্গভবনে পৃথকভাবে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। সাক্ষাৎকালে তিন বাহিনীর প্রধানগণ মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করায় আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভকামনা জানান। তাঁরা প্রত্যেকে নিজ নিজ বাহিনীর বর্তমান কার্যক্রম, প্রশিক্ষণ এবং উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে বিস্তারিত অবহিত করেন। একই সাথে সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক হিসেবে রাষ্ট্রপতির মূল্যবান দিকনির্দেশনা ও সহযোগিতা কামনা করেন তাঁরা।
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সশস্ত্র বাহিনীর পেশাদারিত্ব এবং বর্তমান কার্যক্রমে গভীর সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “বর্তমান সরকার সশস্ত্র বাহিনীকে একটি আধুনিক ও দক্ষ চতুর্মাত্রিক বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।” রাষ্ট্রপতি আরও আশ্বাস দেন যে, তাঁর কার্যকালে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি বাহিনীর আধুনিকায়ন ও সামগ্রিক উন্নয়নে সরকারের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।
তিন বাহিনীর প্রধানের সাথে এই বৈঠকটি অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে। রাষ্ট্রপ্রধানের দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই ছিল সশস্ত্র বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের সাথে তাঁর প্রথম আনুষ্ঠানিক সৌজন্য সাক্ষাৎ।
রাজধানী ঢাকার প্রধান সড়ক ও মহাসড়কগুলোতে ব্যাটারিচালিত রিকশার চলাচল নিয়ন্ত্রণে সরকার একটি সমন্বিত নীতিমালা প্রণয়ন করতে যাচ্ছে। এই নীতিমালায় রিকশা চলাচলের সুনির্দিষ্ট এলাকা, যানবাহনের কারিগরি মান এবং চালকদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের মতো বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত থাকবে। আজ মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান পার্থ এবং প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন। ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ঢাকার বড় ও প্রধান সড়কগুলোতে ব্যাটারিচালিত রিকশার আধিক্য দেখা গেছে। এতে যাতায়াতে কিছুটা সুবিধা হলেও তীব্র যানজট এবং নিরাপত্তার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। রিকশাগুলোর ব্রেকিং সিস্টেমসহ কারিগরি সক্ষমতা এবং চালকদের ট্রাফিক আইন সম্পর্কে ধারণা না থাকায় দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়ছে। এই শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতেই দ্রুত নীতিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মৎস্য খাতের উন্নয়ন প্রসঙ্গে উপদেষ্টা জানান, কিশোরগঞ্জের কাটিয়াদীতে মৎস্য সপ্তাহের সফল উদ্বোধন করা হয়েছে এবং দেশের মৎস্য উৎপাদনে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৪ জন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে পদক দেওয়া হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, মিঠাপানির মৎস্য উৎপাদনে বাংলাদেশ বিশ্বে বর্তমানে অত্যন্ত শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে সরকারের অন্যতম বৃহৎ সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি ‘ফ্যামিলি কার্ড’-এর দ্বিতীয় পর্যায়ের কার্যক্রম শুরুর ঘোষণা দেওয়া হয়। কিশোরগঞ্জের লতিফাবাদ ইউনিয়ন থেকে এই কার্যক্রমের সূচনা হয়েছে। ডা. জাহেদ উর রহমান জানান, চলতি অর্থবছরে দেশের প্রায় ৪১ লাখ পরিবারকে এই কার্ডের আওতায় আনা হবে, যার জন্য সরকারের ব্যয় হবে প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকা।
উপদেষ্টা এই বিশাল ব্যয়ের যৌক্তিকতা ব্যাখ্যা করে বলেন, পিছিয়ে পড়া মানুষের হাতে অর্থ পৌঁছালে তা বাজারে চাহিদা তৈরি করবে এবং এর মাধ্যমে স্থানীয় ব্যবসা ও শিল্পায়ন ত্বরান্বিত হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, ১৪ হাজার কোটি টাকার এই প্রবাহ অর্থনীতিতে কয়েক গুণ ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সহায়ক হবে। পর্যায়ক্রমে দেশের প্রতিটি পরিবারকে এই কার্ডের আওতায় নিয়ে আসার দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে বলেও তিনি জানিয়েছেন। মূলত দরিদ্র জনগোষ্ঠীর আর্থিক নিরাপত্তা এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক গতিশীলতা নিশ্চিত করাই এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য।

নিজস্ব প্রতিবেদক 






















