০৩:৫৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

হাইতির কেনসকফে সশস্ত্র গ্যাংয়ের হামলায় নিহত ৪৭

The gallery was not found!

হাইতির রাজধানী পোর্ট-অ-প্রিন্সের দক্ষিণের পাহাড়ি কৃষিপ্রধান এলাকা কেনসকফে সশস্ত্র গ্যাংয়ের রাতভর হামলায় অন্তত ৪৭ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ২২ জন। হতাহতের এই হিসাব দিয়েছে হাইতিতে জাতিসংঘের সমন্বিত কার্যালয় বিনুহ। সংস্থাটি সতর্ক করেছে, দুর্গম এলাকায় অনুসন্ধান চলায় সংখ্যাটি আরও বদলাতে পারে।

হামলাটি কোনো বিচ্ছিন্ন অপরাধ নয়। রাজধানীর চারপাশে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ বাড়াতে থাকা গ্যাংগুলোর ধারাবাহিক অভিযানের সর্বশেষ এবং সবচেয়ে রক্তাক্ত উদাহরণ এটি। গত বছরের শুরু থেকে কেনসকফে শত শত মানুষকে হত্যা, ঘরবাড়ি পোড়ানো, অপহরণ, ধর্ষণ ও লুটের অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয় সময় রোববার (২৩ আগস্ট) রাত প্রায় সাড়ে ১০টায় শুরু হয়ে হামলা চলে সোমবার সকাল পর্যন্ত।

প্রথমে কেনসকফের মেয়র জ্যঁ ম্যাসিলন অন্তত ৩০ জন নিহত হওয়ার কথা জানান। হাইতির মানবাধিকার সংগঠন আরএনডিডিএইচের প্রাথমিক হিসাব ছিল ৩০ থেকে ৪০ জন নিহত এবং ১৫ থেকে ২০ জন আহত। পরে জাতিসংঘ ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নিহতের সংখ্যা ৪৭ এবং আহতের সংখ্যা ২২ বলে জানায়।

তাই ৪৭ জনের হিসাবটি বর্তমানে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য হলেও চূড়ান্ত নয়। সংখ্যার এই পার্থক্য কোনো রহস্য নয়; হামলার পর যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা, দুর্গম পাহাড়ি এলাকা এবং ছড়িয়ে থাকা মৃতদেহের কারণে প্রথম কয়েক ঘণ্টায় পূর্ণ হিসাব পাওয়া যায়নি।

কৃষক পরিবারের ১৪ সদস্য নিহত

অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের সঙ্গে কথা বলা কৃষক ম্যাথুরিন পিয়েরে জানিয়েছেন, হামলায় তিনি পরিবারের ১৪ সদস্যকে হারিয়েছেন। আক্রমণকারীরা সাধারণ মানুষের বাড়ি, একটি গির্জা এবং বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালায়। আগুন দেওয়া হয় কয়েকটি বাড়িতে। ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনার মধ্যে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ জ্যঁ উইলিয়াম ‘বিল’ পাপের বাড়িও রয়েছে।

রয়টার্সের ঘটনাস্থলের প্রতিবেদনে রাস্তায় মরদেহ পড়ে থাকার এবং পোড়া গাড়ির পাশে বাসিন্দাদের জড়ো হওয়ার বর্ণনা রয়েছে। একজন বাসিন্দা বলেন, তারা অপমানজনক অবস্থায় বসবাস করছেন, অথচ কর্তৃপক্ষ তাদের জন্য কিছু করছে না।

নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশু কতজন, তা এখনো পৃথকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। হামলায় নিহতদের মধ্যে গ্যাং সদস্য ছিল কি না, সেটিও নিশ্চিত নয়। স্থানীয়রা বলেছেন, তারা মৃতদের মধ্যে কোনো পরিচিত গ্যাং সদস্যকে শনাক্ত করতে পারেননি। ফলে নিহত সবাইকে এখনই বেসামরিক নাগরিক বলা যেমন যাচাইবিহীন হবে, তেমনি তাদের গ্যাং সদস্য বলে সন্দেহ ছড়ানোরও কোনো ভিত্তি নেই। খবর রয়টার্সের।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় খবর

ভবিষ্যৎ অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ খাত হতে পারে ব্লু ইকোনমি: শিক্ষামন্ত্রী

Business Times24

হাইতির কেনসকফে সশস্ত্র গ্যাংয়ের হামলায় নিহত ৪৭

Update Time : ০১:৪৪:৩৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬

হাইতির রাজধানী পোর্ট-অ-প্রিন্সের দক্ষিণের পাহাড়ি কৃষিপ্রধান এলাকা কেনসকফে সশস্ত্র গ্যাংয়ের রাতভর হামলায় অন্তত ৪৭ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ২২ জন। হতাহতের এই হিসাব দিয়েছে হাইতিতে জাতিসংঘের সমন্বিত কার্যালয় বিনুহ। সংস্থাটি সতর্ক করেছে, দুর্গম এলাকায় অনুসন্ধান চলায় সংখ্যাটি আরও বদলাতে পারে।

হামলাটি কোনো বিচ্ছিন্ন অপরাধ নয়। রাজধানীর চারপাশে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ বাড়াতে থাকা গ্যাংগুলোর ধারাবাহিক অভিযানের সর্বশেষ এবং সবচেয়ে রক্তাক্ত উদাহরণ এটি। গত বছরের শুরু থেকে কেনসকফে শত শত মানুষকে হত্যা, ঘরবাড়ি পোড়ানো, অপহরণ, ধর্ষণ ও লুটের অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয় সময় রোববার (২৩ আগস্ট) রাত প্রায় সাড়ে ১০টায় শুরু হয়ে হামলা চলে সোমবার সকাল পর্যন্ত।

প্রথমে কেনসকফের মেয়র জ্যঁ ম্যাসিলন অন্তত ৩০ জন নিহত হওয়ার কথা জানান। হাইতির মানবাধিকার সংগঠন আরএনডিডিএইচের প্রাথমিক হিসাব ছিল ৩০ থেকে ৪০ জন নিহত এবং ১৫ থেকে ২০ জন আহত। পরে জাতিসংঘ ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নিহতের সংখ্যা ৪৭ এবং আহতের সংখ্যা ২২ বলে জানায়।

তাই ৪৭ জনের হিসাবটি বর্তমানে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য হলেও চূড়ান্ত নয়। সংখ্যার এই পার্থক্য কোনো রহস্য নয়; হামলার পর যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা, দুর্গম পাহাড়ি এলাকা এবং ছড়িয়ে থাকা মৃতদেহের কারণে প্রথম কয়েক ঘণ্টায় পূর্ণ হিসাব পাওয়া যায়নি।

কৃষক পরিবারের ১৪ সদস্য নিহত

অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের সঙ্গে কথা বলা কৃষক ম্যাথুরিন পিয়েরে জানিয়েছেন, হামলায় তিনি পরিবারের ১৪ সদস্যকে হারিয়েছেন। আক্রমণকারীরা সাধারণ মানুষের বাড়ি, একটি গির্জা এবং বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালায়। আগুন দেওয়া হয় কয়েকটি বাড়িতে। ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনার মধ্যে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ জ্যঁ উইলিয়াম ‘বিল’ পাপের বাড়িও রয়েছে।

রয়টার্সের ঘটনাস্থলের প্রতিবেদনে রাস্তায় মরদেহ পড়ে থাকার এবং পোড়া গাড়ির পাশে বাসিন্দাদের জড়ো হওয়ার বর্ণনা রয়েছে। একজন বাসিন্দা বলেন, তারা অপমানজনক অবস্থায় বসবাস করছেন, অথচ কর্তৃপক্ষ তাদের জন্য কিছু করছে না।

নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশু কতজন, তা এখনো পৃথকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। হামলায় নিহতদের মধ্যে গ্যাং সদস্য ছিল কি না, সেটিও নিশ্চিত নয়। স্থানীয়রা বলেছেন, তারা মৃতদের মধ্যে কোনো পরিচিত গ্যাং সদস্যকে শনাক্ত করতে পারেননি। ফলে নিহত সবাইকে এখনই বেসামরিক নাগরিক বলা যেমন যাচাইবিহীন হবে, তেমনি তাদের গ্যাং সদস্য বলে সন্দেহ ছড়ানোরও কোনো ভিত্তি নেই। খবর রয়টার্সের।