০২:৪০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সৌদি তেল ট্যাংকারে হুথি হামলা, বৈশ্বিক তেল সরবরাহে নতুন দুশ্চিন্তা

The gallery was not found!

সৌদি আরবের বন্দরনগরী ইয়ানবুর উপকূলে সৌদি মালিকানাধীন একটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এই হামলার পেছনে নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা জানিয়েছে ইরান সমর্থিত গোষ্ঠী হুথি। তাদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারির দাবি, ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের যৌথ হামলায় সৌদি বাহরি কোম্পানির ওই তেলবাহী জাহাজটিকে সুনির্দিষ্টভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হয়।

হুথিদের দাবি, হামলাটি সরাসরি জাহাজে আঘাত হানে এবং এতে ট্যাংকারে আগুন ধরে যায়। হামলার পর আশপাশে থাকা কয়েকটি জাহাজ ওই এলাকা ছেড়ে চলে যায় বলেও দাবি করেছে গোষ্ঠীটি।

এর আগে যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক বাণিজ্য পরিচালনা সংস্থা জানিয়েছিল, ইয়ানবুর প্রায় ৬৩ নটিক্যাল মাইল (প্রায় ১১৭ কিলোমিটার) পশ্চিমে একটি ট্যাংকারে অজ্ঞাত কোনো বস্তু আঘাত হানার পর জাহাজটির প্রধান ডেকে আগুন ধরে যায়। তবে জাহাজের সব ক্রু নিরাপদে রয়েছেন এবং এ ঘটনায় পরিবেশগত ক্ষতির কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

সৌদি নৌপরিবহন কোম্পানি বাহরিও ‘আমজান’ জাহাজটি একটি বৈরী সামুদ্রিক ঘটনার সঙ্গে জড়িত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, জাহাজটির সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে। সব ক্রু নিরাপদ আছেন এবং কেউ আহত হননি।

হুথিরা জানিয়েছে, সৌদি জাহাজ চলাচলের ওপর তাদের ঘোষিত নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে এই হামলা চালানো হয়েছে। গত মাসে সৌদি-সংশ্লিষ্ট জাহাজের বিরুদ্ধে লোহিত সাগরে নৌ অবরোধ ঘোষণা করার পর থেকে তারা সৌদি জাহাজ ও তেল অবকাঠামোকে ধারাবাহিকভাবে লক্ষ্যবস্তু করছে।

হামলার একই দিনে সৌদি বাহিনীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ইয়েমেনের পূর্বাঞ্চলীয় এলাকায় আরও দুটি হামলা চালানোর দাবি করেছে হুথিরা।

তাদের দাবি, এর একটি হামলায় সৌদি ভূখণ্ড থেকে ইয়েমেনি সরকারি বাহিনীর জন্য সামরিক সরঞ্জাম নিয়ে যাওয়া একটি বড় সামরিক বহরকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে লক্ষ্য করা হয়। এতে ১০টির বেশি অস্ত্রবাহী ট্রাক ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে বলে দাবি করেছে তারা। আরেকটি হামলায় পূর্ব ইয়েমেনের আল-কানাইস এলাকায় সৌদি বাহিনীর অবস্থান লক্ষ্য করা হয়।

লোহিত সাগরের এই হামলা সৌদি আরবের তেল রপ্তানি নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। ইয়ানবু সৌদি আরবের প্রধান লোহিত সাগরীয় তেল বন্দর। হরমুজ প্রণালীতে চলাচল ব্যাহত হওয়ার পর সৌদি আরবের তেল রপ্তানির একটি গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প পথ হয়ে উঠেছে ইয়ানবু। ফলে এই এলাকায় জাহাজ চলাচলে হুথিদের হামলা ও অবরোধের প্রভাব পড়লে সৌদি তেল সরবরাহ এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও চাপ তৈরি হতে পারে।

লোহিত সাগরের বাব আল-মান্দেব প্রণালীও বৈশ্বিক বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ। এই প্রণালী লোহিত সাগরকে এডেন উপসাগর ও ভারত মহাসাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে। সাম্প্রতিক সংঘাত ও হুথিদের হামলার কারণে এ পথে জাহাজ চলাচল নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় খবর
Business Times24

সৌদি তেল ট্যাংকারে হুথি হামলা, বৈশ্বিক তেল সরবরাহে নতুন দুশ্চিন্তা

Update Time : ১২:৫৫:১১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬

সৌদি আরবের বন্দরনগরী ইয়ানবুর উপকূলে সৌদি মালিকানাধীন একটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এই হামলার পেছনে নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা জানিয়েছে ইরান সমর্থিত গোষ্ঠী হুথি। তাদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারির দাবি, ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের যৌথ হামলায় সৌদি বাহরি কোম্পানির ওই তেলবাহী জাহাজটিকে সুনির্দিষ্টভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হয়।

হুথিদের দাবি, হামলাটি সরাসরি জাহাজে আঘাত হানে এবং এতে ট্যাংকারে আগুন ধরে যায়। হামলার পর আশপাশে থাকা কয়েকটি জাহাজ ওই এলাকা ছেড়ে চলে যায় বলেও দাবি করেছে গোষ্ঠীটি।

এর আগে যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক বাণিজ্য পরিচালনা সংস্থা জানিয়েছিল, ইয়ানবুর প্রায় ৬৩ নটিক্যাল মাইল (প্রায় ১১৭ কিলোমিটার) পশ্চিমে একটি ট্যাংকারে অজ্ঞাত কোনো বস্তু আঘাত হানার পর জাহাজটির প্রধান ডেকে আগুন ধরে যায়। তবে জাহাজের সব ক্রু নিরাপদে রয়েছেন এবং এ ঘটনায় পরিবেশগত ক্ষতির কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

সৌদি নৌপরিবহন কোম্পানি বাহরিও ‘আমজান’ জাহাজটি একটি বৈরী সামুদ্রিক ঘটনার সঙ্গে জড়িত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, জাহাজটির সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে। সব ক্রু নিরাপদ আছেন এবং কেউ আহত হননি।

হুথিরা জানিয়েছে, সৌদি জাহাজ চলাচলের ওপর তাদের ঘোষিত নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে এই হামলা চালানো হয়েছে। গত মাসে সৌদি-সংশ্লিষ্ট জাহাজের বিরুদ্ধে লোহিত সাগরে নৌ অবরোধ ঘোষণা করার পর থেকে তারা সৌদি জাহাজ ও তেল অবকাঠামোকে ধারাবাহিকভাবে লক্ষ্যবস্তু করছে।

হামলার একই দিনে সৌদি বাহিনীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ইয়েমেনের পূর্বাঞ্চলীয় এলাকায় আরও দুটি হামলা চালানোর দাবি করেছে হুথিরা।

তাদের দাবি, এর একটি হামলায় সৌদি ভূখণ্ড থেকে ইয়েমেনি সরকারি বাহিনীর জন্য সামরিক সরঞ্জাম নিয়ে যাওয়া একটি বড় সামরিক বহরকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে লক্ষ্য করা হয়। এতে ১০টির বেশি অস্ত্রবাহী ট্রাক ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে বলে দাবি করেছে তারা। আরেকটি হামলায় পূর্ব ইয়েমেনের আল-কানাইস এলাকায় সৌদি বাহিনীর অবস্থান লক্ষ্য করা হয়।

লোহিত সাগরের এই হামলা সৌদি আরবের তেল রপ্তানি নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। ইয়ানবু সৌদি আরবের প্রধান লোহিত সাগরীয় তেল বন্দর। হরমুজ প্রণালীতে চলাচল ব্যাহত হওয়ার পর সৌদি আরবের তেল রপ্তানির একটি গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প পথ হয়ে উঠেছে ইয়ানবু। ফলে এই এলাকায় জাহাজ চলাচলে হুথিদের হামলা ও অবরোধের প্রভাব পড়লে সৌদি তেল সরবরাহ এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও চাপ তৈরি হতে পারে।

লোহিত সাগরের বাব আল-মান্দেব প্রণালীও বৈশ্বিক বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ। এই প্রণালী লোহিত সাগরকে এডেন উপসাগর ও ভারত মহাসাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে। সাম্প্রতিক সংঘাত ও হুথিদের হামলার কারণে এ পথে জাহাজ চলাচল নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।