যুদ্ধ পরিস্থিতি, চরম অর্থনৈতিক সংকট এবং প্রশাসনিক ক্ষমতার পুনর্গঠনের টানাপোড়েনের মধ্যেই ইরানে আবারও প্রকাশ্যে এসেছে বাধ্যতামূলক হিজাব ইস্যু। একদিকে কট্টরপন্থী ও রক্ষণশীল দলগুলোর হিজাব আইন কঠোরভাবে কার্যকর করার জোরালো দাবি, অন্যদিকে রাস্তায় নারীদের প্রকাশ্য অমান্য আন্দোলন—সব মিলিয়ে এক কঠিন রাজনৈতিক সামাজিক দ্বন্দ্বে পড়েছে দেশটির সরকার।
রাজধানী তেহরানসহ প্রধান প্রধান শহরগুলোতে অনেক নারীকে খোলা চুলে রাস্তায় চলাফেরা করতে দেখা যাচ্ছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, তেহরান, ইসফাহান ও শিরাজের মতো শহরে নারীরা দলবদ্ধভাবে মাথায় হিজাব ছাড়াই স্কুটার ও বাইক চালাচ্ছেন।
সিএনএন-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুদ্ধের উত্তেজনার মধ্যে আয়োজিত সরকারপন্থী বিভিন্ন সমাবেশ ও রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমেও বহু নারীকে মাথা অনাবৃত অবস্থায় দেখা গেছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কট্টরপন্থীদের চাপের মুখে তেহরান প্রশাসন সম্প্রতি কঠোর কিছু ব্যবস্থা নিতে শুরু করেছে।
বাধ্যতামূলক হিজাব আইন না মানা এবং গ্রাহকদের হিজাব পরতে উৎসাহিত না করার অভিযোগে তেহরান এবং পূর্বাঞ্চলীয় দক্ষিণ খোরাসান প্রদেশে অন্তত ১৭টির বেশি ক্যাফে ও রেস্তোরাঁ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
তেহরানের প্রসিকিউটর কার্যালয় থেকে ক্যাফে, রেস্তোরাঁ ও অনুপযুক্ত পোশাক বিক্রি করা দোকানগুলোর বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
কট্টরপন্থীরা হিজাববিরোধী অবস্থানকে পশ্চিমা শক্তি ও ইসরায়েলের ধর্মীয় মূল্যবোধ দুর্বল করার ‘রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র’ হিসেবে আখ্যা দিচ্ছেন।
তবে আইন ও বলপ্রয়োগের মাধ্যমে পোশাকেরীতি চাপিয়ে দেওয়ার বিষয়ে প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান ভিন্নধর্মী ও কৌশলগত অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, আইন ও জোর করে কি মানুষের আচরণ বা বিশ্বাস পরিবর্তন করা সম্ভব? আচরণ পরিবর্তন মূলত সাংস্কৃতিক ও বিশ্বাসের বিষয়; বলপ্রয়োগ করে মানুষের মধ্যে বিশ্বাস সৃষ্টি করা যায় না।
আইনি অস্পষ্টতা: ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর হিজাব বাধ্যতামূলক করা হয়। কিন্তু দণ্ডবিধির ৬৩৮ ধারায় জনসমক্ষে হিজাববিহীন উপস্থিতিকে অপরাধ বলা হলেও ‘ইসলামি হিজাব’-এর সুনির্দিষ্ট কোনো সংজ্ঞা উল্লেখ নেই।
দ্বিধাদ্বন্দ্বে সরকার: অর্থনৈতিক সংকট ও যুদ্ধের মুখে নতুন করে বড় কোনো গণ-অসন্তোষ তৈরি হওয়ার আশঙ্কায় সরকার এই মুহূর্তে নারীদের বিরুদ্ধে ব্যাপক আকারের কঠোর দমন অভিযান চালাতে ইতস্তত করছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক 






















