১১:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

গ্যাস সংকটে বন্ধ ৩০০ কারখানা, রপ্তানি ক্ষতিগ্রস্ত

The gallery was not found!

দীর্ঘদিনের গ্যাস সংকটে সারা দেশে তিন শতাধিক গার্মেন্ট কারখানা বন্ধ ছিল বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম।

গ্যাস সংকটে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় দেশের রপ্তানি ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও দাবি করেছেন তিনি। একই সঙ্গে ইউরোপের ক্রেতারা বাংলাদেশের রপ্তানি আদেশ প্রতিবেশী দেশগুলোতে সরিয়ে নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

শনিবার (২২ আগস্ট) সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জে বিকেএমইএ কার্যালয়ে গ্যাস সংকট ও এর প্রভাব নিয়ে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আয়োজিত বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন মোহাম্মদ হাতেম।

তিনি বলেন, ‘গ্যাস সংকটের প্রভাবে সারা বাংলাদেশে তিন শতাধিক গার্মেন্ট প্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিল। রপ্তানি আদেশ চলে যাচ্ছে পার্শ্ববর্তী দেশে। নতুন করে রপ্তানি আদেশ আসবে কিনা, সেটা নিয়েও আমরা শঙ্কার মধ্যে আছি। কোনোভাবেই উৎপাদন চালু রাখতে পারছি না।’

সরকারের কাছ থেকে সংকট উত্তরণের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো ব্যাখ্যা না পাওয়ার অভিযোগ করে বিকেএমইএ সভাপতি বলেন, ‘সরকারের উচিত অন্তত প্রতি সপ্তাহে একবার আমাদের ব্রিফিং করা। এরই মধ্যে আমাদের ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ রপ্তানি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এটি আমাদের সরাসরি ক্ষতি। আর পরোক্ষ ক্ষতি হচ্ছে, বায়াররা (ক্রেতারা) পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে অর্ডার নিয়ে যাচ্ছে।’

গ্যাস সংকটের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে মোহাম্মদ হাতেম বলেন, প্রায় এক মাস ধরে দেশের বিভিন্ন এলাকায় গ্যাসের সংকট চলছে। এ সময়ে অনেক কারখানায় উৎপাদন বন্ধ ছিল। জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ১০ আগস্টের পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার আশ্বাস দেয়া হলেও বাস্তবে তা হয়নি। বরং দুই দিন কিছুটা গ্যাস পাওয়ার পর বর্তমানে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। ফলে কারখানাগুলোতে স্বাভাবিক উৎপাদন চালানো সম্ভব হচ্ছে না।

ইউরোপের ক্রেতাদের রপ্তানি আদেশ সরিয়ে নেয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ইউরোপের বড় একটি অর্ডার বাতিল করে পার্শ্ববর্তী দেশে নিয়ে যেতে চাইছে। আমরা সামনের দিনগুলোতে রপ্তানি আদেশ দিতে পারব কিনা, সেটা নিয়েও শঙ্কিত। গ্যাস সংকটের কারণে বেশ কিছু রপ্তানি আদেশ ইতোমধ্যে নিয়ে যাচ্ছে। আমাদের দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে। সরকারকে অনুরোধ করব, এ ব্যাপারে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে।’

বৈঠকে গ্যাস সংকট মোকাবিলা এবং শিল্পকারখানার উৎপাদন স্বাভাবিক রাখতে সরকারের কাছে ছয়টি দাবি তুলে ধরেন ব্যবসায়ী নেতারা।

দাবিগুলো হলো–

১. জুন ও জুলাই মাসের গ্যাস ও বিদ্যুৎ বিল আগামী ১২ মাসে কিস্তিতে পরিশোধের সুযোগ দিতে হবে। এ সময় বিল পরিশোধে ব্যর্থ হলেও কোনো কারখানার সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা যাবে না।

২. গ্যাস সংকটের মধ্যে শিল্পকারখানাগুলো কীভাবে উৎপাদন চালাবে, সে বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা দিতে হবে।

৩. গ্যাস সংকটের বর্তমান পরিস্থিতি ও সংকট সমাধানে সরকারের পদক্ষেপ সম্পর্কে প্রতি সপ্তাহে ব্যবসায়ীদের ব্রিফ করতে হবে।

৪. শিল্পকারখানায় গ্যাসের চাপ স্বাভাবিক রাখতে গণপরিবহনে সিএনজি সরবরাহ বন্ধ রাখতে হবে।

৫. অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে গ্যাসের অপচয় ও অনিয়ম বন্ধ করতে হবে।

৬. চলমান গ্যাস সংকটের কারণে ব্যবসায়ীদের ঋণের কিস্তি আদায় থেকে বিরত থাকার জন্য সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংককে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।

বৈঠক ও সংবাদ সম্মেলনে বিকেএমইএর নির্বাহী প্রেসিডেন্ট ফজলে এহসান শামীম, ভাইস প্রেসিডেন্ট (অর্থ) মোর্শেদ সারওয়ার সোহেল, সাবেক বিজিএমইএ সভাপতি কাজী মনীর, সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট অমল পোদ্দার, ভাইস প্রেসিডেন্ট আশিকুর রহমান এবং পরিচালক নজরুল ইসলাম স্বপন ও মামুনুর রশীদসহ সংগঠনটির অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় খবর

জাতিসংঘে ভাষণ: ইরান নিয়ে ‘বড় সিদ্ধান্ত’ নেওয়ার ঘোষণা ট্রাম্পের

Business Times24

গ্যাস সংকটে বন্ধ ৩০০ কারখানা, রপ্তানি ক্ষতিগ্রস্ত

Update Time : ১১:২২:৫৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬

দীর্ঘদিনের গ্যাস সংকটে সারা দেশে তিন শতাধিক গার্মেন্ট কারখানা বন্ধ ছিল বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম।

গ্যাস সংকটে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় দেশের রপ্তানি ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও দাবি করেছেন তিনি। একই সঙ্গে ইউরোপের ক্রেতারা বাংলাদেশের রপ্তানি আদেশ প্রতিবেশী দেশগুলোতে সরিয়ে নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

শনিবার (২২ আগস্ট) সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জে বিকেএমইএ কার্যালয়ে গ্যাস সংকট ও এর প্রভাব নিয়ে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আয়োজিত বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন মোহাম্মদ হাতেম।

তিনি বলেন, ‘গ্যাস সংকটের প্রভাবে সারা বাংলাদেশে তিন শতাধিক গার্মেন্ট প্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিল। রপ্তানি আদেশ চলে যাচ্ছে পার্শ্ববর্তী দেশে। নতুন করে রপ্তানি আদেশ আসবে কিনা, সেটা নিয়েও আমরা শঙ্কার মধ্যে আছি। কোনোভাবেই উৎপাদন চালু রাখতে পারছি না।’

সরকারের কাছ থেকে সংকট উত্তরণের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো ব্যাখ্যা না পাওয়ার অভিযোগ করে বিকেএমইএ সভাপতি বলেন, ‘সরকারের উচিত অন্তত প্রতি সপ্তাহে একবার আমাদের ব্রিফিং করা। এরই মধ্যে আমাদের ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ রপ্তানি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এটি আমাদের সরাসরি ক্ষতি। আর পরোক্ষ ক্ষতি হচ্ছে, বায়াররা (ক্রেতারা) পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে অর্ডার নিয়ে যাচ্ছে।’

গ্যাস সংকটের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে মোহাম্মদ হাতেম বলেন, প্রায় এক মাস ধরে দেশের বিভিন্ন এলাকায় গ্যাসের সংকট চলছে। এ সময়ে অনেক কারখানায় উৎপাদন বন্ধ ছিল। জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ১০ আগস্টের পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার আশ্বাস দেয়া হলেও বাস্তবে তা হয়নি। বরং দুই দিন কিছুটা গ্যাস পাওয়ার পর বর্তমানে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। ফলে কারখানাগুলোতে স্বাভাবিক উৎপাদন চালানো সম্ভব হচ্ছে না।

ইউরোপের ক্রেতাদের রপ্তানি আদেশ সরিয়ে নেয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ইউরোপের বড় একটি অর্ডার বাতিল করে পার্শ্ববর্তী দেশে নিয়ে যেতে চাইছে। আমরা সামনের দিনগুলোতে রপ্তানি আদেশ দিতে পারব কিনা, সেটা নিয়েও শঙ্কিত। গ্যাস সংকটের কারণে বেশ কিছু রপ্তানি আদেশ ইতোমধ্যে নিয়ে যাচ্ছে। আমাদের দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে। সরকারকে অনুরোধ করব, এ ব্যাপারে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে।’

বৈঠকে গ্যাস সংকট মোকাবিলা এবং শিল্পকারখানার উৎপাদন স্বাভাবিক রাখতে সরকারের কাছে ছয়টি দাবি তুলে ধরেন ব্যবসায়ী নেতারা।

দাবিগুলো হলো–

১. জুন ও জুলাই মাসের গ্যাস ও বিদ্যুৎ বিল আগামী ১২ মাসে কিস্তিতে পরিশোধের সুযোগ দিতে হবে। এ সময় বিল পরিশোধে ব্যর্থ হলেও কোনো কারখানার সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা যাবে না।

২. গ্যাস সংকটের মধ্যে শিল্পকারখানাগুলো কীভাবে উৎপাদন চালাবে, সে বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা দিতে হবে।

৩. গ্যাস সংকটের বর্তমান পরিস্থিতি ও সংকট সমাধানে সরকারের পদক্ষেপ সম্পর্কে প্রতি সপ্তাহে ব্যবসায়ীদের ব্রিফ করতে হবে।

৪. শিল্পকারখানায় গ্যাসের চাপ স্বাভাবিক রাখতে গণপরিবহনে সিএনজি সরবরাহ বন্ধ রাখতে হবে।

৫. অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে গ্যাসের অপচয় ও অনিয়ম বন্ধ করতে হবে।

৬. চলমান গ্যাস সংকটের কারণে ব্যবসায়ীদের ঋণের কিস্তি আদায় থেকে বিরত থাকার জন্য সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংককে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।

বৈঠক ও সংবাদ সম্মেলনে বিকেএমইএর নির্বাহী প্রেসিডেন্ট ফজলে এহসান শামীম, ভাইস প্রেসিডেন্ট (অর্থ) মোর্শেদ সারওয়ার সোহেল, সাবেক বিজিএমইএ সভাপতি কাজী মনীর, সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট অমল পোদ্দার, ভাইস প্রেসিডেন্ট আশিকুর রহমান এবং পরিচালক নজরুল ইসলাম স্বপন ও মামুনুর রশীদসহ সংগঠনটির অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।