অজানায় হারিয়ে যাওয়া লভ্যাংশ কিংবা বহু বছর পড়ে থাকা হাজার কোটি টাকার মূলধন—পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের এই আমানত সুরক্ষায় অবশেষে কঠোর ও যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিচ্ছে সরকার।
বহু প্রতিষ্ঠান যখন সাধারণ মানুষের অর্জিত অর্থ আটকে রেখে কিংবা তছরুপ করে সুবিধা নিচ্ছিল, ঠিক তখনই বিনিয়োগকারীদের মুখে হাসি ফোটাতে ক্যাপিটাল মার্কেট স্টেবিলাইজেশন ফান্ডের (সিএমএসএফ) বিধিমালয় আমূল সংস্কার করা হচ্ছে।
সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) বিদ্যমান নিয়ম বদলে এটিকে জাতীয় সংসদের শক্ত আইনি কাঠামোয় রূপান্তরের প্রক্রিয়া ইতোমধ্যেই শুরু করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়।
নতুন এই সংশোধনী কার্যকর হলে দীর্ঘদিনের আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ঘুচে বাজারে ফিরবে কাঙ্ক্ষিত আস্থা ও স্বচ্ছতা।
নতুন আইনের উল্লেখযোগ্য দিক
আজীবন দাবির অধিকার: বিনিয়োগকারী বা তাঁর বৈধ উত্তরাধিকারীরা যেকোনো সময় নিজেদের পাওনা অদাবি লভ্যাংশ দাবি করতে পারবেন।
দ্রুত অর্থ ফেরত: আবেদন জমা দেওয়ার মাত্র ১৫ দিনের মধ্যে অর্থ নিষ্পত্তির বাধ্যবাধকতা থাকছে।
কোম্পানিমুক্ত সরাসরি আবেদন: লভ্যাংশ পেতে আর সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের দ্বারে ঘুরতে হবে না, সরাসরি সিএমএসএফ-এর কাছেই আবেদন করা যাবে।
ঝুঁকিপূর্ণ বিনিয়োগ বন্ধ: এই তহবিল দিয়ে শেয়ার কিনে বাজার স্থিতিশীল রাখার পুরনো বিধান পুরোপুরি বাতিল হচ্ছে।
কঠোর নজরদারি ও শাস্তি: যেকোনো অনিয়মে বিএসইসি-কে তদন্ত ও নির্দেশনার পূর্ণ ক্ষমতা দেওয়া হচ্ছে; নির্দেশ অমান্যে সর্বনিম্ন ১ লাখ টাকা জরিমানের বিধান রাখা হয়েছে।
স্বচ্ছ পরিচালন ব্যয়: ফান্ডের প্রশাসনিক খরচ মেটানো হবে ব্যাংকে গচ্ছিত অর্থের অর্জিত সুদ থেকে, মূল মূলধন থেকে নয়।
পটভূমি ও বর্তমান সংকট
২০২১ সালে প্রায় ১,২০০ কোটি টাকার তহবিল নিয়ে যাত্রা শুরু করলেও সঠিক ব্যবস্থাপনার অভাবে সিএমএসএফ তার লক্ষ্য পূরণে ব্যর্থ হয়। তালিকাভুক্ত বহু প্রতিষ্ঠান তাদের হাতে থাকা অবণ্টিত ডিভিডেন্ড জমা দেয়নি। ফলে ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিনিয়োগকারীরা ফেরত পেয়েছেন মাত্র ৬ কোটি ৬৬ লাখ টাকা, যা সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মাঝে তীব্র হতাশা তৈরি করে।
অংশীজনদের মূল্যায়ন
ডিএসইর সাবেক প্রেসিডেন্ট আহমেদ রশিদ লালী আমলাতান্ত্রিক নিয়ন্ত্রণের বাইরে এনে ফান্ডটিকে একটি স্বায়ত্তশাসিত সংস্থার অধীনে নতুন নিয়মে পরিচালিত করার পরামর্শ দিয়েছেন।
পুঁজিবাজার বিশ্লেষক মো. আল আমিন বলেছেন, ভালো ও মৌলভিত্তিসম্পন্ন কোম্পানিগুলো থেকে একযোগে সব নগদ অর্থ তুলে নিলে বাজারে তারল্য সংকট দেখা দিতে পারে। তাই ঢালাও প্রয়োগ না করে সতর্ক পদক্ষেপ নিতে হবে।
বিনিয়োগকারীদের গচ্ছিত অর্থের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারলে এই নতুন আইন পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের পরিবেশকে আরও নির্ভরযোগ্য ও সমৃদ্ধ করে তুলবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক 























