১১:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কর্ণফুলীর কোল ঘেঁষে নান্দনিক পর্যটন জোন, বদলে যাচ্ছে চট্টগ্রাম

The gallery was not found!

পাহাড়, সমুদ্র আর নদীর অপূর্ব মিলনমেলা চট্টগ্রাম শহর ঘিরে যুক্ত হতে যাচ্ছে বিনোদনের এক নতুন অধ্যায়। বন্দর নগরীর যানজট নিরসন এবং বিনোদনের সুযোগ বাড়াতে বাকলিয়া এলাকায় কর্ণফুলী নদীর তীরে গড়ে তোলা হচ্ছে ৩ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি অত্যাধুনিক পর্যটন জোন। চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) বাস্তবায়নাধীন ‘কালুরঘাট সেতু থেকে চাকতাই খাল’ মেরিন ড্রাইভ সড়ক প্রকল্পের অংশ হিসেবে এই মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়িত হচ্ছে।

বিনোদন ও যোগাযোগের নতুন দিগন্ত

প্রকল্পটির মূল লক্ষ্য কেবল সড়ক তৈরি নয়, বরং নগরবাসীকে প্রকৃতির ছোঁয়া দেওয়া এবং যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আনা।

হাঁটার পথ ও বিনোদন: শাহ আমানত সেতু থেকে বলিরহাট পর্যন্ত থাকছে ৫ কিলোমিটারের সুবিশাল ওয়াকওয়ে। পাশাপাশি শিশুদের বিনোদন ব্যবস্থা এবং মানসম্মত রেস্টুরেন্ট গড়ে তোলা হবে, যা সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

যানজটমুক্ত যোগাযোগ: ৯.৫ কিলোমিটার দীর্ঘ চার লেনের এই মেরিন ড্রাইভ সড়কটি ঢাকা-চট্টগ্রাম ও চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ককে সরাসরি সংযুক্ত করবে। এর ফলে কাপ্তাই, রাঙ্গুনিয়া ও বোয়ালখালীর যানবাহনগুলো শহরের কেন্দ্রস্থলে না ঢুকে বাইপাস দিয়ে সরাসরি বিমানবন্দর ও পতেঙ্গা পৌঁছাতে পারবে।

জলাবদ্ধতা ও নদী রক্ষা: চাক্তাই খালের মুখে স্লুইস গেট ও আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থার মাধ্যমে শহরের জলাবদ্ধতা নিরসন এবং নদীতীর সুরক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও বিশেষজ্ঞ মতামত

বাকলিয়া চট্টগ্রাম শহরের অন্যতম জনবহুল ও অনুন্নত এলাকা হওয়া সত্ত্বেও সেখানে আগে বিনোদনের সুনির্দিষ্ট কোনো ব্যবস্থা ছিল না।

নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, এই পর্যটন জোনটি বাস্তবায়িত হলে পুরো বাকলিয়ার চেহারা বদলে যাবে এবং স্থানীয় জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে। তবে পর্যটন কেন্দ্রটিকে টেকসই করতে নদী দূষণ মুক্ত রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন পরিবেশবিদরা। পাশাপাশি বাণিজ্য সংশ্লিষ্টরা এই প্রকল্প ত্বরান্বিত করতে প্রয়োজনে যৌথ বা বেসরকারি পর্যটন বিনিয়োগের পরামর্শ দিয়েছেন।

সাড়ে ৯ কিলোমিটার দীর্ঘ এই মেরিন ড্রাইভের ৯২ শতাংশ কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। সিডিএ-র এই মাস্টারপ্ল্যান পূর্ণাঙ্গ রূপ পেলে তা শুধু পর্যটন খাতেই নয়, বরং চট্টগ্রামের নগর যোগাযোগ ও অর্থনৈতিক সামর্থ্যে এক অভাবনীয় রূপান্তর আনবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় খবর

জাতিসংঘে ভাষণ: ইরান নিয়ে ‘বড় সিদ্ধান্ত’ নেওয়ার ঘোষণা ট্রাম্পের

Business Times24

কর্ণফুলীর কোল ঘেঁষে নান্দনিক পর্যটন জোন, বদলে যাচ্ছে চট্টগ্রাম

Update Time : ১০:৪০:৩৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬

পাহাড়, সমুদ্র আর নদীর অপূর্ব মিলনমেলা চট্টগ্রাম শহর ঘিরে যুক্ত হতে যাচ্ছে বিনোদনের এক নতুন অধ্যায়। বন্দর নগরীর যানজট নিরসন এবং বিনোদনের সুযোগ বাড়াতে বাকলিয়া এলাকায় কর্ণফুলী নদীর তীরে গড়ে তোলা হচ্ছে ৩ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি অত্যাধুনিক পর্যটন জোন। চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) বাস্তবায়নাধীন ‘কালুরঘাট সেতু থেকে চাকতাই খাল’ মেরিন ড্রাইভ সড়ক প্রকল্পের অংশ হিসেবে এই মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়িত হচ্ছে।

বিনোদন ও যোগাযোগের নতুন দিগন্ত

প্রকল্পটির মূল লক্ষ্য কেবল সড়ক তৈরি নয়, বরং নগরবাসীকে প্রকৃতির ছোঁয়া দেওয়া এবং যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আনা।

হাঁটার পথ ও বিনোদন: শাহ আমানত সেতু থেকে বলিরহাট পর্যন্ত থাকছে ৫ কিলোমিটারের সুবিশাল ওয়াকওয়ে। পাশাপাশি শিশুদের বিনোদন ব্যবস্থা এবং মানসম্মত রেস্টুরেন্ট গড়ে তোলা হবে, যা সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

যানজটমুক্ত যোগাযোগ: ৯.৫ কিলোমিটার দীর্ঘ চার লেনের এই মেরিন ড্রাইভ সড়কটি ঢাকা-চট্টগ্রাম ও চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ককে সরাসরি সংযুক্ত করবে। এর ফলে কাপ্তাই, রাঙ্গুনিয়া ও বোয়ালখালীর যানবাহনগুলো শহরের কেন্দ্রস্থলে না ঢুকে বাইপাস দিয়ে সরাসরি বিমানবন্দর ও পতেঙ্গা পৌঁছাতে পারবে।

জলাবদ্ধতা ও নদী রক্ষা: চাক্তাই খালের মুখে স্লুইস গেট ও আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থার মাধ্যমে শহরের জলাবদ্ধতা নিরসন এবং নদীতীর সুরক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও বিশেষজ্ঞ মতামত

বাকলিয়া চট্টগ্রাম শহরের অন্যতম জনবহুল ও অনুন্নত এলাকা হওয়া সত্ত্বেও সেখানে আগে বিনোদনের সুনির্দিষ্ট কোনো ব্যবস্থা ছিল না।

নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, এই পর্যটন জোনটি বাস্তবায়িত হলে পুরো বাকলিয়ার চেহারা বদলে যাবে এবং স্থানীয় জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে। তবে পর্যটন কেন্দ্রটিকে টেকসই করতে নদী দূষণ মুক্ত রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন পরিবেশবিদরা। পাশাপাশি বাণিজ্য সংশ্লিষ্টরা এই প্রকল্প ত্বরান্বিত করতে প্রয়োজনে যৌথ বা বেসরকারি পর্যটন বিনিয়োগের পরামর্শ দিয়েছেন।

সাড়ে ৯ কিলোমিটার দীর্ঘ এই মেরিন ড্রাইভের ৯২ শতাংশ কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। সিডিএ-র এই মাস্টারপ্ল্যান পূর্ণাঙ্গ রূপ পেলে তা শুধু পর্যটন খাতেই নয়, বরং চট্টগ্রামের নগর যোগাযোগ ও অর্থনৈতিক সামর্থ্যে এক অভাবনীয় রূপান্তর আনবে।