১১:৫৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

যুদ্ধের ধাক্কায় অর্ধেকে নেমেছে জনশক্তি রপ্তানি

The gallery was not found!

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ ও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের জনশক্তি রপ্তানি খাতে। বিমান চলাচলে ব্যাঘাত, নিরাপত্তাহীনতা এবং সার্বিক অস্থিরতার কারণে গত সাড়ে পাঁচ মাসে বিদেশে শ্রমিক যাওয়ার হার প্রায় অর্ধেকের কাছাকাছি নেমে এসেছে। এতে করে দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহ ও কর্মসংস্থানে বড় ধরনের সংকটের আশঙ্কা করছেন খাত-সংশ্লিষ্টরা।

প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক তথ্যানুযায়ী, চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত ছড়ানোর পর থেকে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত সাড়ে পাঁচ মাসে বিদেশগামী পুরুষ শ্রমিকের সংখ্যা কমেছে ২ লাখ ৮ হাজার ১৭৮ জন। গত বছরের একই সময়ে ৪ লাখ ৮৫ হাজার ১৩৭ জন পুরুষ কাজের উদ্দেশ্যে বিদেশে গেলেও, চলতি বছরের এ সময়ে তা কমে দাঁড়ায় ২ লাখ ৭৬ হাজার ৯৬৪ জনে।

ধাক্কা সবচেয়ে বেশি সৌদি আরবে

পরিসংখ্যান বলছে, জনশক্তি কমার বড় ধাক্কাটি এসেছে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শ্রমবাজার সৌদি আরব থেকে। গত ১ মার্চ থেকে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত সৌদি আরবে গেছেন ১ লাখ ৩৩ হাজার ২৬৪ জন শ্রমিক। যেখানে আগের বছরের একই সময়ে এই সংখ্যা ছিল ৩ লাখ ২১ হাজার ৪৬৪ জন। অর্থাৎ, কেবল সৌদি আরবেই পুরুষ শ্রমিকের গমন কমেছে ১ লাখ ৮৮ হাজার ২০০ জন।

নারী শ্রমিক গমনে ভিন্ন চিত্র

পুরুষ শ্রমিক গমনে বড় ধস নামলেও নারী শ্রমিকের সংখ্যায় সামান্য বৃদ্ধি দেখা গেছে। গত সাড়ে পাঁচ মাসে বিশ্বের ৪৭টি দেশে ২৭,৯১৫ জন (বা বিগত তথ্য অনুযায়ী ২৫,৯১৫ জন) নারী শ্রমিক কাজের উদ্দেশ্যে দেশ ছেড়েছেন। যা আগের বছরের একই সময়ের (২৩,৯৩৬ জন) তুলনায় কিছুটা বেশি।

সংকটের মূলে তিন কারণ

শ্রমবাজারের বর্তমান পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে ব্র্যাকের অভিবাসন কর্মসূচির প্রধান শরিফুল ইসলাম জানান, সংঘাতের কারণে শ্রমবাজারে বহুমুখী প্রভাব পড়ছে:

নতুন নিয়োগ ও কাজ হারানো: মধ্যপ্রাচ্যে নতুন কর্মসংস্থান ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি যেসব প্রবাসী দৈনিক বা স্বল্পমেয়াদী চুক্তিতে কাজ করতেন, তাদের অনেকেই কাজ হারিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন।

অর্থনৈতিক ল্যান্ডস্কেপ পরিবর্তন: দুবাই বা কাতারের মতো বৈশ্বিক বিনিয়োগ কেন্দ্রগুলোতে যুদ্ধজনিত শঙ্কা তৈরি হওয়ায় রিয়েল এস্টেট ও বাণিজ্য খাতে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। ফলে ভবিষ্যতে নতুন পদ সৃষ্টির সম্ভাবনা কমে আসছে।

নিয়োগকর্তাদের অগ্রাধিকার বদল: যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে বিদেশি নিয়োগকর্তারা কর্মী নেওয়ার ধরন ও অগ্রাধিকার পরিবর্তন করতে পারেন, যা প্রবাসী বাংলাদেশীদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সংঘাত বন্ধ হয়ে পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক না হলে এই মন্দা দীর্ঘ রূপ নিতে পারে, যা সামাল দিতে বাংলাদেশকে বিকল্প শ্রমবাজার খোঁজার পাশাপাশি প্রবাসীদের দক্ষতা বাড়ানোর ওপর জোর দিতে হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় খবর

জাতিসংঘে ভাষণ: ইরান নিয়ে ‘বড় সিদ্ধান্ত’ নেওয়ার ঘোষণা ট্রাম্পের

Business Times24

যুদ্ধের ধাক্কায় অর্ধেকে নেমেছে জনশক্তি রপ্তানি

Update Time : ০১:৪৪:৩৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ ও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের জনশক্তি রপ্তানি খাতে। বিমান চলাচলে ব্যাঘাত, নিরাপত্তাহীনতা এবং সার্বিক অস্থিরতার কারণে গত সাড়ে পাঁচ মাসে বিদেশে শ্রমিক যাওয়ার হার প্রায় অর্ধেকের কাছাকাছি নেমে এসেছে। এতে করে দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহ ও কর্মসংস্থানে বড় ধরনের সংকটের আশঙ্কা করছেন খাত-সংশ্লিষ্টরা।

প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক তথ্যানুযায়ী, চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত ছড়ানোর পর থেকে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত সাড়ে পাঁচ মাসে বিদেশগামী পুরুষ শ্রমিকের সংখ্যা কমেছে ২ লাখ ৮ হাজার ১৭৮ জন। গত বছরের একই সময়ে ৪ লাখ ৮৫ হাজার ১৩৭ জন পুরুষ কাজের উদ্দেশ্যে বিদেশে গেলেও, চলতি বছরের এ সময়ে তা কমে দাঁড়ায় ২ লাখ ৭৬ হাজার ৯৬৪ জনে।

ধাক্কা সবচেয়ে বেশি সৌদি আরবে

পরিসংখ্যান বলছে, জনশক্তি কমার বড় ধাক্কাটি এসেছে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শ্রমবাজার সৌদি আরব থেকে। গত ১ মার্চ থেকে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত সৌদি আরবে গেছেন ১ লাখ ৩৩ হাজার ২৬৪ জন শ্রমিক। যেখানে আগের বছরের একই সময়ে এই সংখ্যা ছিল ৩ লাখ ২১ হাজার ৪৬৪ জন। অর্থাৎ, কেবল সৌদি আরবেই পুরুষ শ্রমিকের গমন কমেছে ১ লাখ ৮৮ হাজার ২০০ জন।

নারী শ্রমিক গমনে ভিন্ন চিত্র

পুরুষ শ্রমিক গমনে বড় ধস নামলেও নারী শ্রমিকের সংখ্যায় সামান্য বৃদ্ধি দেখা গেছে। গত সাড়ে পাঁচ মাসে বিশ্বের ৪৭টি দেশে ২৭,৯১৫ জন (বা বিগত তথ্য অনুযায়ী ২৫,৯১৫ জন) নারী শ্রমিক কাজের উদ্দেশ্যে দেশ ছেড়েছেন। যা আগের বছরের একই সময়ের (২৩,৯৩৬ জন) তুলনায় কিছুটা বেশি।

সংকটের মূলে তিন কারণ

শ্রমবাজারের বর্তমান পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে ব্র্যাকের অভিবাসন কর্মসূচির প্রধান শরিফুল ইসলাম জানান, সংঘাতের কারণে শ্রমবাজারে বহুমুখী প্রভাব পড়ছে:

নতুন নিয়োগ ও কাজ হারানো: মধ্যপ্রাচ্যে নতুন কর্মসংস্থান ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি যেসব প্রবাসী দৈনিক বা স্বল্পমেয়াদী চুক্তিতে কাজ করতেন, তাদের অনেকেই কাজ হারিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন।

অর্থনৈতিক ল্যান্ডস্কেপ পরিবর্তন: দুবাই বা কাতারের মতো বৈশ্বিক বিনিয়োগ কেন্দ্রগুলোতে যুদ্ধজনিত শঙ্কা তৈরি হওয়ায় রিয়েল এস্টেট ও বাণিজ্য খাতে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। ফলে ভবিষ্যতে নতুন পদ সৃষ্টির সম্ভাবনা কমে আসছে।

নিয়োগকর্তাদের অগ্রাধিকার বদল: যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে বিদেশি নিয়োগকর্তারা কর্মী নেওয়ার ধরন ও অগ্রাধিকার পরিবর্তন করতে পারেন, যা প্রবাসী বাংলাদেশীদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সংঘাত বন্ধ হয়ে পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক না হলে এই মন্দা দীর্ঘ রূপ নিতে পারে, যা সামাল দিতে বাংলাদেশকে বিকল্প শ্রমবাজার খোঁজার পাশাপাশি প্রবাসীদের দক্ষতা বাড়ানোর ওপর জোর দিতে হবে।