চলতি ফল সেশনে যুক্তরাষ্ট্রের কলেজগুলোতে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের আবেদনে বড় ধরনের পতন দেখা গেছে।
‘কমন অ্যাপ’-এর সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন নীতিমালার পরিবর্তন এবং কড়াকড়ির প্রভাবে আন্তর্জাতিক আবেদনকারীর সংখ্যা প্রায় ১০ শতাংশ কমে গেছে, যা গত এক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় ধস।
পতনের হার: চলতি সেশনে যুক্তরাষ্ট্রের কলেজগুলোতে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের আবেদন কমেছে প্রায় ১০% (সংখ্যায় যা প্রায় ১৬,০০০ কম)।
ঐতিহাসিক চিত্র: ২০১৩ সালে কমন অ্যাপ ডিজিটাল তথ্য সংগ্রহ শুরু করার পর বিগত এক দশকের মধ্যে এটিই সবচেয়ে বড় পতন।
এলাকাভিত্তিক প্রভাব: এশিয়া ও আফ্রিকা থেকে আবেদন কমেছে দুই অঙ্কের হারে। অন্যদিকে ইউরোপীয় শিক্ষার্থীদের আবেদনও ৪% কমেছে।
ভিসা ও অবস্থান নীতি: ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থী ভিসার নিয়মে পরিবর্তন, পড়ালেখার বিষয় বা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবর্তনের ওপর কড়াকড়ি এবং ডিগ্রি শেষ করার পর যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানের সুযোগ সীমিত করাই এই পতনের প্রধান কারণ।
বিশ্বজুড়ে সুপরিচিত ও বাছাইপ্রবণ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের আবেদন কমেছে মাত্র ১%।
মধ্যম সারির বা কম পরিচিত প্রতিষ্ঠানগুলোতে (যেখানে অর্ধেকের বেশি আবেদনকারী ভর্তি হতে পারে) আবেদন কমেছে প্রায় ২০%।
আর্থিক চাপ: বিদেশি শিক্ষার্থী হ্রাস পাওয়ায় দেশটির অনেক বিশ্ববিদ্যালয় বড় ধরনের আর্থিক সংকটের মুখে পড়তে যাচ্ছে।
ফলাফল জমার হার বৃদ্ধি: আগের বছরের তুলনায় স্যাট (SAT) বা অ্যাক্ট (ACT) নম্বর জমা দেওয়া আবেদনকারীর সংখ্যা ১১% বেড়েছে।
নীতি পরিবর্তন: ইয়েল, কলাম্বিয়া ও প্রিন্সটনের মতো বিখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয়গুলো দীর্ঘ পাঁচ বছর পর পরীক্ষা ঐচ্ছিক রাখার নীতি বাতিল করে স্ট্যান্ডার্ডাইজড টেস্ট স্কোর জমা বাধ্যতামূলক করেছে।
বর্তমান অবস্থা: বর্তমানে মোট ৫% কলেজ টেস্ট স্কোর জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক করেছে (যা ২০১৯ সালে ছিল ৫৫%)।
বিদেশি শিক্ষার্থীদের আবেদন কমলেও যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় শিক্ষার্থীদের আবেদনের সংখ্যা ৪% বেড়েছে, যার নেপথ্যে বড় ভূমিকা রেখেছে দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর ৯% বৃদ্ধি।

নিজস্ব প্রতিবেদক 























