০৫:৫৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

স্পেনে নেকড়েদের দলে শৈশব কাটানো সেই রদ্রিগেজের চিরবিদায়

The gallery was not found!

সভ্য সমাজের নির্মমতা এড়িয়ে একসময় আশ্রয় নিয়েছিলেন প্রকৃতির কোলে; এক যুগেরও বেশি সময় কাটিয়েছেন বুনো নেকড়েদের সঙ্গে। রুডইয়ার্ড কিপলিংয়ের কল্পকাহিনির ‘মোগলি’কে বাস্তবে রূপ দেওয়া স্পেনের আলোচিত সেই ব্যক্তিত্ব মার্কোস রদ্রিগেজ পানতোজা আর নেই। ৮০ বছর বয়সে স্পেনের ওউরেন্স প্রদেশে অবসান ঘটলো তাঁর বৈচিত্র্যময় ও করুণ জীবন অধ্যায়ের।

শৈশবের ট্র্যাজেডি ও পাহাড়ে নির্বাসন

অসহায় শৈশব: মায়ের মৃত্যু ও বাবার নির্মম নির্যাতনের পর ১৯৫৪ সালে মাত্র সাত বছর বয়সে রদ্রিগেজকে সিয়েরা মোরেনা পাহাড়ি এলাকায় ছাগল চরানোর কাজে পাঠানো হয়।

একাকীত্ব: পাহাড়ের এক বৃদ্ধ ছাগলপালকের কাছ থেকে আগুন জ্বালানো ও জীবনধারণের কিছু কৌশল শেখার পর, ওই বৃদ্ধের মৃত্যু হলে একাকী পড়ে যান অবুঝ শিশু রদ্রিগেজ।

নেকড়েদের দলে ‘পরিবারের সদস্য’

জীবজন্তুর অনুকরণ: বেঁচে থাকার তাড়নায় তিনি পশুপাখিদের অনুকরণ শুরু করেন। কোন ফল বা মূল খাওয়া যায়, তা শিখতেন বুনো প্রাণীদের দেখে।

মা নেকড়ের ভালোবাসা: একসময় এক মা নেকড়ে তাঁর শাবকদের সঙ্গে রদ্রিগেজকেও খাবার দেওয়া শুরু করে। এরপর তাকে চেটে দিয়ে পরিবারের সদস্য হিসেবে গ্রহণ করে।

অন্যান্য বুনো সঙ্গী: ছাগলের দুধ দেওয়ার কারণে পাহাড়ে একটি সাপও তাঁর সার্বক্ষণিক সঙ্গী হয়ে ওঠে।

সভ্য সমাজে প্রত্যাবর্তন ও নতুন আতঙ্ক

উদ্ধার অভিযান: ১৯৬৫ সালে ১৯ বছর বয়সে স্প্যানিশ সিভিল গার্ড তাকে পাহাড় থেকে অর্ধনগ্ন ও কথা বলতে অক্ষম অবস্থায় উদ্ধার করে।

মানুষের সমাজের ভয়: পাহাড়ের বুনো জীবনের পর শহরের কোলাহল, গাড়ির শব্দ, এমনকি বিছানায় ঘুমানোও তাকে আতঙ্কিত করত। এতিমখানায় তাকে আবার সোজা হয়ে হাঁটা ও কথা বলা শেখানো হয়।

পরবর্তী জীবন ও ট্র্যাজিক সমাপ্তি

অসামঞ্জস্য জীবন: বড় হয়ে সেনাবাহিনী, রাখাল ও হোটেলশিল্পে কাজ করলেও আধুনিক সভ্যতার জটিলতার সঙ্গে তিনি কখনোই নিজেকে পুরোপুরি মানিয়ে নিতে পারেননি।

প্রকৃতিতে প্রত্যাখ্যানে কষ্ট: বহু বছর পর পাহাড়ে ফিরে গিয়ে দেখেন বুনো পরিবেশ বিলুপ্ত হয়ে সেখানে বাড়িঘর তৈরি হয়েছে। সবচেয়ে বড় আঘাত ছিল—পুরোনো নেকড়ের দলও তাকে আর চিনতে পারেনি।

২০১০ সালে এই অসাধারণ জীবনকাহিনী নিয়ে নির্মিত হয় বিখ্যাত স্প্যানিশ চলচ্চিত্র ‘Entrelobos’ (Among Wolves), যা তাঁকে বিশ্বজুড়ে অমর করে রাখে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় খবর

ভবিষ্যৎ অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ খাত হতে পারে ব্লু ইকোনমি: শিক্ষামন্ত্রী

Business Times24

স্পেনে নেকড়েদের দলে শৈশব কাটানো সেই রদ্রিগেজের চিরবিদায়

Update Time : ০৭:১৪:৩১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬

সভ্য সমাজের নির্মমতা এড়িয়ে একসময় আশ্রয় নিয়েছিলেন প্রকৃতির কোলে; এক যুগেরও বেশি সময় কাটিয়েছেন বুনো নেকড়েদের সঙ্গে। রুডইয়ার্ড কিপলিংয়ের কল্পকাহিনির ‘মোগলি’কে বাস্তবে রূপ দেওয়া স্পেনের আলোচিত সেই ব্যক্তিত্ব মার্কোস রদ্রিগেজ পানতোজা আর নেই। ৮০ বছর বয়সে স্পেনের ওউরেন্স প্রদেশে অবসান ঘটলো তাঁর বৈচিত্র্যময় ও করুণ জীবন অধ্যায়ের।

শৈশবের ট্র্যাজেডি ও পাহাড়ে নির্বাসন

অসহায় শৈশব: মায়ের মৃত্যু ও বাবার নির্মম নির্যাতনের পর ১৯৫৪ সালে মাত্র সাত বছর বয়সে রদ্রিগেজকে সিয়েরা মোরেনা পাহাড়ি এলাকায় ছাগল চরানোর কাজে পাঠানো হয়।

একাকীত্ব: পাহাড়ের এক বৃদ্ধ ছাগলপালকের কাছ থেকে আগুন জ্বালানো ও জীবনধারণের কিছু কৌশল শেখার পর, ওই বৃদ্ধের মৃত্যু হলে একাকী পড়ে যান অবুঝ শিশু রদ্রিগেজ।

নেকড়েদের দলে ‘পরিবারের সদস্য’

জীবজন্তুর অনুকরণ: বেঁচে থাকার তাড়নায় তিনি পশুপাখিদের অনুকরণ শুরু করেন। কোন ফল বা মূল খাওয়া যায়, তা শিখতেন বুনো প্রাণীদের দেখে।

মা নেকড়ের ভালোবাসা: একসময় এক মা নেকড়ে তাঁর শাবকদের সঙ্গে রদ্রিগেজকেও খাবার দেওয়া শুরু করে। এরপর তাকে চেটে দিয়ে পরিবারের সদস্য হিসেবে গ্রহণ করে।

অন্যান্য বুনো সঙ্গী: ছাগলের দুধ দেওয়ার কারণে পাহাড়ে একটি সাপও তাঁর সার্বক্ষণিক সঙ্গী হয়ে ওঠে।

সভ্য সমাজে প্রত্যাবর্তন ও নতুন আতঙ্ক

উদ্ধার অভিযান: ১৯৬৫ সালে ১৯ বছর বয়সে স্প্যানিশ সিভিল গার্ড তাকে পাহাড় থেকে অর্ধনগ্ন ও কথা বলতে অক্ষম অবস্থায় উদ্ধার করে।

মানুষের সমাজের ভয়: পাহাড়ের বুনো জীবনের পর শহরের কোলাহল, গাড়ির শব্দ, এমনকি বিছানায় ঘুমানোও তাকে আতঙ্কিত করত। এতিমখানায় তাকে আবার সোজা হয়ে হাঁটা ও কথা বলা শেখানো হয়।

পরবর্তী জীবন ও ট্র্যাজিক সমাপ্তি

অসামঞ্জস্য জীবন: বড় হয়ে সেনাবাহিনী, রাখাল ও হোটেলশিল্পে কাজ করলেও আধুনিক সভ্যতার জটিলতার সঙ্গে তিনি কখনোই নিজেকে পুরোপুরি মানিয়ে নিতে পারেননি।

প্রকৃতিতে প্রত্যাখ্যানে কষ্ট: বহু বছর পর পাহাড়ে ফিরে গিয়ে দেখেন বুনো পরিবেশ বিলুপ্ত হয়ে সেখানে বাড়িঘর তৈরি হয়েছে। সবচেয়ে বড় আঘাত ছিল—পুরোনো নেকড়ের দলও তাকে আর চিনতে পারেনি।

২০১০ সালে এই অসাধারণ জীবনকাহিনী নিয়ে নির্মিত হয় বিখ্যাত স্প্যানিশ চলচ্চিত্র ‘Entrelobos’ (Among Wolves), যা তাঁকে বিশ্বজুড়ে অমর করে রাখে।