১১:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মাছ-মুরগি-ডিমের দামে অস্বস্তি

The gallery was not found!

রাজধানীর বাজারে নিত্যপণ্যের বাড়তি দামে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের সংসার খরচ বেড়েছে। মাছ, মুরগি ও ডিম কিনতে গিয়ে ক্রেতাদের বাড়তি টাকা গুনতে হচ্ছে। এলাকাভেদে দামে কিছুটা পার্থক্য থাকলেও বাজারে স্বস্তির চিত্র নেই।

শুক্রবার(২০ আগস্ট) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, মাংসের বাজারে ব্রয়লার মুরগি কেজি ১৯০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। সোনালি মুরগির দাম ৩২০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৬৫০ টাকা কেজি। গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৭৮০ থেকে ৮০০ টাকা কেজি দরে।

ডিমের বাজারেও দাম তুলনামূলক বেশি। সাদা ডিমের ডজন ১৩০ টাকা এবং বাদামি ডিম ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। পাড়া-মহল্লার দোকানে একই ডিমের দাম আরও বেশি, সেখানে ডজন ১৫৫ থেকে ১৬০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে।

মুরগি বিক্রেতা আনিস আহমেদ বলেন, গত সপ্তাহের তুলনায় মুরগির দামে বড় কোনো পরিবর্তন হয়নি। শুক্রবার ব্রয়লার মুরগি ১৯০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করেছেন তিনি।

মাছের বাজারেও স্বস্তি নেই। তেলাপিয়া ২৫০ থেকে ২৬০ টাকা, পাঙাশ ২৩০ থেকে ২৫০ টাকা, রুই-কাতলা ৩৮০ থেকে ৪২০ টাকা এবং চিংড়ি ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। পাবদা ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, বড় রুই ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা এবং ট্যাংরা প্রায় ৭০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

এ ছাড়া ভেটকি ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, মৃগেল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, বাইন ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা এবং দেশি কই ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। চাষের কইয়ের দাম প্রায় ৩০০ টাকা। পোয়া ২৬০ টাকা এবং শোল ৭০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। চাষের শিং মাছ আকারভেদে ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা কেজি।

মাঝারি আকারের রুই ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা কেজি দরে পাওয়া যাচ্ছে। রূপচাঁদা, শোল ও নদীর বেলে মাছ কিনতে গেলে কেজিপ্রতি ১ হাজার টাকার বেশি খরচ হচ্ছে। ৯০০ গ্রাম থেকে ১ কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে প্রায় ২ হাজার ৫০০ টাকা কেজি দরে। ১ কেজি ৩০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের দাম প্রায় ৩ হাজার টাকা।

রায়ের বাজারের ক্রেতা আবু দাউদ বলেন, মাছ কিনতে এসে এখন অবাক হতে হয়। ২৫০ টাকার নিচে তেমন কোনো মাছ পাওয়া যাচ্ছে না। তেলাপিয়াও প্রায় ২৫০ টাকা কেজি। আয় না বাড়লেও বাজার খরচ বাড়তে থাকায় মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়ছে।

মাছ বিক্রেতা কফিল উদ্দিন বলেন, মাছের দামে বড় কোনো পরিবর্তন হয়নি। তবে একদিন কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা কমলেও পরদিন আবার দাম বেড়ে যায়।

ক্রেতাদের ভাষ্য, মাছ, মুরগি ও ডিম—তিনটি পণ্য কিনতেই এখন বেশি টাকা খরচ হচ্ছে। একটি পণ্যের দাম কিছুটা কমলে অন্যটির দাম বেড়ে যাচ্ছে। ফলে সীমিত আয়ের পরিবারের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে।

তাদের অভিযোগ, আগে যে টাকায় এক সপ্তাহের বাজার করা যেত, এখন সেই টাকা কয়েক দিনের মধ্যেই শেষ হয়ে যাচ্ছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম এভাবে বাড়তে থাকলে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের সংসার চালানো আরও কঠিন হয়ে পড়বে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় খবর

জাতিসংঘে ভাষণ: ইরান নিয়ে ‘বড় সিদ্ধান্ত’ নেওয়ার ঘোষণা ট্রাম্পের

Business Times24

মাছ-মুরগি-ডিমের দামে অস্বস্তি

Update Time : ১১:৩০:৩৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬

রাজধানীর বাজারে নিত্যপণ্যের বাড়তি দামে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের সংসার খরচ বেড়েছে। মাছ, মুরগি ও ডিম কিনতে গিয়ে ক্রেতাদের বাড়তি টাকা গুনতে হচ্ছে। এলাকাভেদে দামে কিছুটা পার্থক্য থাকলেও বাজারে স্বস্তির চিত্র নেই।

শুক্রবার(২০ আগস্ট) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, মাংসের বাজারে ব্রয়লার মুরগি কেজি ১৯০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। সোনালি মুরগির দাম ৩২০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৬৫০ টাকা কেজি। গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৭৮০ থেকে ৮০০ টাকা কেজি দরে।

ডিমের বাজারেও দাম তুলনামূলক বেশি। সাদা ডিমের ডজন ১৩০ টাকা এবং বাদামি ডিম ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। পাড়া-মহল্লার দোকানে একই ডিমের দাম আরও বেশি, সেখানে ডজন ১৫৫ থেকে ১৬০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে।

মুরগি বিক্রেতা আনিস আহমেদ বলেন, গত সপ্তাহের তুলনায় মুরগির দামে বড় কোনো পরিবর্তন হয়নি। শুক্রবার ব্রয়লার মুরগি ১৯০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করেছেন তিনি।

মাছের বাজারেও স্বস্তি নেই। তেলাপিয়া ২৫০ থেকে ২৬০ টাকা, পাঙাশ ২৩০ থেকে ২৫০ টাকা, রুই-কাতলা ৩৮০ থেকে ৪২০ টাকা এবং চিংড়ি ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। পাবদা ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, বড় রুই ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা এবং ট্যাংরা প্রায় ৭০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

এ ছাড়া ভেটকি ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, মৃগেল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, বাইন ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা এবং দেশি কই ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। চাষের কইয়ের দাম প্রায় ৩০০ টাকা। পোয়া ২৬০ টাকা এবং শোল ৭০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। চাষের শিং মাছ আকারভেদে ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা কেজি।

মাঝারি আকারের রুই ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা কেজি দরে পাওয়া যাচ্ছে। রূপচাঁদা, শোল ও নদীর বেলে মাছ কিনতে গেলে কেজিপ্রতি ১ হাজার টাকার বেশি খরচ হচ্ছে। ৯০০ গ্রাম থেকে ১ কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে প্রায় ২ হাজার ৫০০ টাকা কেজি দরে। ১ কেজি ৩০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের দাম প্রায় ৩ হাজার টাকা।

রায়ের বাজারের ক্রেতা আবু দাউদ বলেন, মাছ কিনতে এসে এখন অবাক হতে হয়। ২৫০ টাকার নিচে তেমন কোনো মাছ পাওয়া যাচ্ছে না। তেলাপিয়াও প্রায় ২৫০ টাকা কেজি। আয় না বাড়লেও বাজার খরচ বাড়তে থাকায় মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়ছে।

মাছ বিক্রেতা কফিল উদ্দিন বলেন, মাছের দামে বড় কোনো পরিবর্তন হয়নি। তবে একদিন কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা কমলেও পরদিন আবার দাম বেড়ে যায়।

ক্রেতাদের ভাষ্য, মাছ, মুরগি ও ডিম—তিনটি পণ্য কিনতেই এখন বেশি টাকা খরচ হচ্ছে। একটি পণ্যের দাম কিছুটা কমলে অন্যটির দাম বেড়ে যাচ্ছে। ফলে সীমিত আয়ের পরিবারের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে।

তাদের অভিযোগ, আগে যে টাকায় এক সপ্তাহের বাজার করা যেত, এখন সেই টাকা কয়েক দিনের মধ্যেই শেষ হয়ে যাচ্ছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম এভাবে বাড়তে থাকলে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের সংসার চালানো আরও কঠিন হয়ে পড়বে।