চীনের প্রযুক্তি অঙ্গন এখন শুধু গবেষণাগার বা প্রদর্শনীতেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও রোবোটিক্সকে সরাসরি দৈনন্দিন প্রশাসনিক কাজে ব্যবহার করা শুরু করেছে।
এরই ধারাবাহিকতায় চীনের পূর্বাঞ্চলীয় শহর হ্যাংঝু-সহ দেশটির একাধিক ব্যস্ত মোড়ে ট্রাফিক পুলিশের সহায়তায় মোতায়েন করা হয়েছে ১.৮৮ মিটার (৬ ফুট ২ ইঞ্চি) উচ্চতা ও ৯৮ কেজি ওজনের একটি বিশেষ ট্রাফিক রোবট, যার নাম ‘টি-২’।
স্থানীয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ‘সাপকন ইনফরমেশন’ নির্মিত এই রোবটটি ট্রাফিক পুলিশের প্রাত্যহিক ও একঘেয়ে ডিউটি হালকা করার একটি বড় পাইলট প্রকল্পের অংশ।
সিনেমা বা কাল্পনিক ‘রোবোকপ’-এর মতো এর কোনো অস্ত্র বা গ্রেপ্তার করার ক্ষমতা না থাকলেও, ট্রাফিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এটি দারুণ ভূমিকা রাখছে।প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও কাজের ধরনচাকার সাহায্যে চলাচলকারী টি-২ রোবটটিতে যুক্ত রয়েছে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ক্যামেরা, রাডার এবং অনবোর্ড কম্পিউটিং সিস্টেম।
আইন লঙ্ঘন শনাক্তকরণ: এটি সহজে হেলমেট ছাড়া ই-বাইক চালক, অতিরিক্ত যাত্রী বহনকারী বাহন, স্টপ লাইন পার হওয়া গাড়ি এবং সিগন্যাল অমান্যকারী পথচারীদের শনাক্ত করতে সক্ষম।
সংকেত প্রদান: এর ৭টি গিঁটযুক্ত (Joints) যান্ত্রিক হাত দিয়ে এটি ট্রাফিক পুলিশের মতো হুবহু সংকেত দিতে পারে এবং খুব বিনয়ের সাথে চালকদের সতর্কবার্তা প্রদান করে।
জনসেবা ও জরুরি সহায়তা: রোবটটি পার্কিং বা দিকনির্দেশনা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দিতে পারে। এতে একটি ‘ইমার্জেন্সি বাটন’ রয়েছে, যার মাধ্যমে পথচারীরা সরাসরি স্থানীয় পুলিশের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন।
ক্লান্তিহীন পরিষেবা ও মাঠপর্যায়ের সাফল্য
সাপকনের তথ্যমতে, রোবটগুলো সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রতিদিন সকাল ৭টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত কাজ করে। কড়া রোদ, বৃষ্টি বা তীব্র তাপমাত্রাতেও রোবটটির আইন লঙ্ঘন শনাক্তকরণের নির্ভুলতার হার ৯৫ শতাংশের বেশি।
বৈশ্বিক বাজার ও চ্যালেঞ্জ: অটোমোবাইল কোম্পানি ‘চেরি’ সমর্থিত রোবটিক্স প্রতিষ্ঠান ‘আইমোগা’র মতে, মধ্যপ্রাচ্যের তীব্র গরম বা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দীর্ঘ বর্ষার মতো প্রতিকূল আবহাওয়ায় ট্রাফিক পুলিশ সদস্যদের বিকল্প হিসেবে এই রোবট রপ্তানির বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে বিদেশে এটি ব্যবহারের ক্ষেত্রে বড় কিছু প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। অন্য দেশের আইটি সিস্টেমের সাথে এগুলোকে সমন্বিত করা, প্রয়োজনীয় সার্টিফিকেশন নেওয়া এবং কঠোর ‘ডেটা সুরক্ষা আইন’ মেনে চলাকে প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা

নিজস্ব প্রতিবেদক 























