ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটের ঐতিহ্যবাহী মহানগর এক্সপ্রেস এবার নামতে যাচ্ছে নতুন মিশনে। বাংলাদেশ রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের সাম্প্রতিক এক প্রস্তাবে ট্রেনটির রুট কক্সবাজার পর্যন্ত সম্প্রসারণের পরিকল্পনা জমা দেওয়া হয়েছে রেলভবনে।
প্রস্তাবটি অনুমোদিত হলে রাজধানী ঢাকা ও চট্টগ্রাম ছাড়াও নরসিংদী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা ও ফেনী—এই চার জেলার যাত্রীদের জন্য ট্রেন পরিবর্তন ছাড়াই সরাসরি সমুদ্র সৈকতে পৌঁছানোর এক নতুন দুয়ার উন্মোচিত হবে।
প্রস্তাবিত নতুন যাত্রাপথ ও সময়সূচি
রেলওয়ের প্রস্তাবিত পরিকল্পনা অনুযায়ী ৭২১ ও ৭২২ নম্বর মহানগর এক্সপ্রেস প্রতিদিনের নির্ধারিত সময়ে নতুন গন্তব্যে যাতায়াত করবে:
ঢাকা → কক্সবাজার (৭২১): ঢাকা ছাড়বে রাত ৮:৩০ মিনিটে, কক্সবাজার পৌঁছাবে পরদিন ভোর ৬:০০ টায়।
কক্সবাজার → ঢাকা (৭২২): কক্সবাজার ছাড়বে সকাল ৯:০০ টায়, ঢাকা পৌঁছাবে সন্ধ্যা ৬:৩০ মিনিটে।
কেন এই উদ্যোগ অনন্য?
বর্তমানে ঢাকা-কক্সবাজার রুটে চলাচলকারী ‘কক্সবাজার এক্সপ্রেস’ ও ‘পর্যটক এক্সপ্রেস’ মূলত বিরতিহীন হওয়ায় অধিকাংশ জেলা শহরের যাত্রীরা এই সুবিধা পান না। কিন্তু মহানগর এক্সপ্রেসের রুটে রয়েছে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্টপেজ:
যাত্রাবিরতি কেন্দ্রসমূহ: নরসিংদী, ভৈরব, আশুগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, আখাউড়া, কসবা, কুমিল্লা, লাকসাম, নাঙ্গলকোট, ফেনী এবং কুমিরা।
আরামদায়ক ভ্রমণ: প্রবাল ও সৈকত ট্রেনের মতো শুধু নন-এসি নয়, মহানগর এক্সপ্রেসে থাকবে স্নিগ্ধা ও এসি কেবিন সুবিধা, যা দীর্ঘ দূরত্বের যাত্রীদের দেবে বাড়তি স্বাচ্ছন্দ্য।
সম্ভাবনা ও অর্থনৈতিক দিক
কক্সবাজার রুটে বর্তমানে দৈনিক ১০ থেকে ১১ হাজার যাত্রী যাতায়াত করেন। সিট না পাওয়ার আক্ষেপ মেটাতে এবং রেলের রাজস্ব বাড়াতে এ সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পর্যটকদের যাতায়াত আরও সাশ্রয়ী ও সহজ হবে।
বাস্তবায়নের পথে বড় চ্যালেঞ্জসমূহ
ইঞ্জিন ও রেকের ঘাটতি: বর্তমানে ট্রেনটি ১টি রেক দিয়ে পরিচালিত হলেও নতুন রুটে প্রয়োজন হবে ২টি রেক। এছাড়া পূর্বাঞ্চলে উচ্চগতির ৩০০০ সিরিজের ৩০টি ইঞ্জিনের মধ্যে ১৯টিই বর্তমানে অকার্যকর।
ট্র্যাকশন মোটর সমস্যা: সচল থাকা ১১টি ইঞ্জিনের অনেকগুলোতে পর্যাপ্ত ট্র্যাকশন মোটর না থাকায় কাঙ্ক্ষিত গতি তোলা কঠিন হতে পারে।
ওয়াশিং ও মোটেইনেন্স সুবিধা: কক্সবাজারে ট্রেনের দৈনিক ওয়াশিংয়ের ব্যবস্থা থাকলেও সাপ্তাহিক সার্ভিসিংয়ের জন্য নতুন অবকাঠামো ও অতিরিক্ত জনবল জরুরি।
অবকাঠামোগত ও ট্রেনের ইঞ্জিনজনিত সংকট দূর করে দ্রুততম সময়ে এই প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে তা দেশের অভ্যন্তরীণ পর্যটন ও পূর্বাঞ্চলের দূরপাল্লার যোগাযোগ ব্যবস্থায় এক যুগান্তকারী অধ্যায় সূচনা করবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক 






















