০৩:৪২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সড়কে আটশ’রও বেশি অবৈধ স্লিপার বাস, নেপথ্যে সিন্ডিকেট

The gallery was not found!

মেয়াদোত্তীর্ণ কাগজ, জালিয়াতি করা আসন সংখ্যা এবং নিরাপত্তার ন্যূনতম মানদণ্ড ছাড়াই দেশের মহাসড়কগুলোতে অবাধে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে আটশ’রও বেশি অবৈধ স্লিপার বাস। প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান, পরিবহন মালিক সমিতি এবং সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) একটি শক্তিশালী চক্রের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ যোগসাজশে সাধারণ যাত্রীদের চরম ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়ে চলছে এই অরাজকতা—

ফিটনেস ও সনদের চরম ঘাটতি: ঢাকা মেট্রো-ব-১২-১৩০১ এবং গাইবান্ধা-ব-১১-০০৩২-এর মতো বাসগুলোর ফিটনেস, ট্যাক্স টোকেন এবং রুট পারমিটের মেয়াদ বহু আগেই শেষ হয়েছে।

বেআইনি আসন পরিবর্তন: সরকারি নিয়ম তোয়াক্কা না করে ৩২ সিটের সিঙ্গেল ডেকার বাসকে কারিগরি জালিয়াতির মাধ্যমে ৪৩ সিটের স্লিপার কোচে রূপান্তর করা হয়েছে।

অনুমোদনহীন দূরপাল্লার বহর: কোনো প্রকার বৈধ কাগজপত্র ও বিআরটিএ-র ছাড়পত্র ছাড়াই ৮০০-র বেশি স্লিপার বাস বিভিন্ন নামীদামী পরিবহনের ব্যানারে চলাচল করছে।

সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য ও উদাসীনতা

আইকনিক গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নেতিবাচক সংবাদ প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে বিষয়টিকে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন। অন্যদিকে বেঙ্গল পরিবহনের উপদেষ্টা বেশিরভাগ কাগজ ঠিক থাকার দাবি করলেও বাস্তবে তার কোনো প্রমাণ নেই।

চ্যাসিস সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ‘ইফাদ অটোস’-এর পরিচালকের দাবি, তারা চ্যাসিস বিক্রির সময় নিয়ম মানার চুক্তিপত্র নেন। গাড়ি কীভাবে বা কোথায় রূপান্তর করা হলো তা তদারকির দায়িত্ব পুলিশ ও বিআরটিএ-র।

মালিক সমিতির চাঞ্চল্যকর দাবি: বাংলাদেশ স্লিপার এসি বাস মালিক সমিতির সভাপতির স্পষ্ট স্বীকারোক্তি—কোনো প্রকার গাড়ি পরিদর্শনের তোয়াক্কা না করেই বিআরটিএ-কে ‘ম্যানেজ’ করে এসব বাসের নম্বর ও ভুয়া অনুমোদন বের করা হয়।

আইনি জটিলতা ও প্রশাসনিক দায় এড়ানো

উচ্চ আদালতের রুল ও বিআরটিএ-র স্বীকারোক্তি: সড়কে স্লিপার বাসের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা রিটের জবাবে বিআরটিএ আদালতে লিখিতভাবে জানিয়েছে, তারা দেশে কোনো স্লিপার বাস চলাচলের অনুমতি দেয়নি এবং বর্তমানে সড়কে চলমান সব স্লিপার বাসই সম্পূর্ণ অবৈধ।

মূল দায়িত্বে থাকা বিআরটিএ চেয়ারম্যান বিষযটি এড়িয়ে গিয়ে প্রকৌশল শাখার ওপর দায় চাপিয়েছেন। তবে সংশ্লিষ্ট পরিচালকের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে বিষয়টি নিয়ে মুখে কুলুপ এঁটেছে হাইওয়ে পুলিশ সদর দপ্তর।

ঢাকার আমিনবাজারসহ বিভিন্ন স্থানে অননুমোদিত কারখানায় নিরাপত্তা আইন তোয়াক্কা না করেই বানিয়ে ফেলা হচ্ছে এসব মৃত্যুর ফাঁদ। নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থাগুলোর অসাধু কর্মকর্তা ও মালিকদের সিন্ডিকেট না ভাঙলে রাজপথে এই বিশৃঙ্খলা থামানো অসম্ভব বলে মনে করছেন পরিবহন বিশেষজ্ঞরা।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় খবর

নিত্যপণ্যের দামে বাজারের বাজেট এলোমেলো

Business Times24

সড়কে আটশ’রও বেশি অবৈধ স্লিপার বাস, নেপথ্যে সিন্ডিকেট

Update Time : ১২:৪৭:৫২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬

মেয়াদোত্তীর্ণ কাগজ, জালিয়াতি করা আসন সংখ্যা এবং নিরাপত্তার ন্যূনতম মানদণ্ড ছাড়াই দেশের মহাসড়কগুলোতে অবাধে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে আটশ’রও বেশি অবৈধ স্লিপার বাস। প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান, পরিবহন মালিক সমিতি এবং সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) একটি শক্তিশালী চক্রের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ যোগসাজশে সাধারণ যাত্রীদের চরম ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়ে চলছে এই অরাজকতা—

ফিটনেস ও সনদের চরম ঘাটতি: ঢাকা মেট্রো-ব-১২-১৩০১ এবং গাইবান্ধা-ব-১১-০০৩২-এর মতো বাসগুলোর ফিটনেস, ট্যাক্স টোকেন এবং রুট পারমিটের মেয়াদ বহু আগেই শেষ হয়েছে।

বেআইনি আসন পরিবর্তন: সরকারি নিয়ম তোয়াক্কা না করে ৩২ সিটের সিঙ্গেল ডেকার বাসকে কারিগরি জালিয়াতির মাধ্যমে ৪৩ সিটের স্লিপার কোচে রূপান্তর করা হয়েছে।

অনুমোদনহীন দূরপাল্লার বহর: কোনো প্রকার বৈধ কাগজপত্র ও বিআরটিএ-র ছাড়পত্র ছাড়াই ৮০০-র বেশি স্লিপার বাস বিভিন্ন নামীদামী পরিবহনের ব্যানারে চলাচল করছে।

সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য ও উদাসীনতা

আইকনিক গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নেতিবাচক সংবাদ প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে বিষয়টিকে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন। অন্যদিকে বেঙ্গল পরিবহনের উপদেষ্টা বেশিরভাগ কাগজ ঠিক থাকার দাবি করলেও বাস্তবে তার কোনো প্রমাণ নেই।

চ্যাসিস সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ‘ইফাদ অটোস’-এর পরিচালকের দাবি, তারা চ্যাসিস বিক্রির সময় নিয়ম মানার চুক্তিপত্র নেন। গাড়ি কীভাবে বা কোথায় রূপান্তর করা হলো তা তদারকির দায়িত্ব পুলিশ ও বিআরটিএ-র।

মালিক সমিতির চাঞ্চল্যকর দাবি: বাংলাদেশ স্লিপার এসি বাস মালিক সমিতির সভাপতির স্পষ্ট স্বীকারোক্তি—কোনো প্রকার গাড়ি পরিদর্শনের তোয়াক্কা না করেই বিআরটিএ-কে ‘ম্যানেজ’ করে এসব বাসের নম্বর ও ভুয়া অনুমোদন বের করা হয়।

আইনি জটিলতা ও প্রশাসনিক দায় এড়ানো

উচ্চ আদালতের রুল ও বিআরটিএ-র স্বীকারোক্তি: সড়কে স্লিপার বাসের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা রিটের জবাবে বিআরটিএ আদালতে লিখিতভাবে জানিয়েছে, তারা দেশে কোনো স্লিপার বাস চলাচলের অনুমতি দেয়নি এবং বর্তমানে সড়কে চলমান সব স্লিপার বাসই সম্পূর্ণ অবৈধ।

মূল দায়িত্বে থাকা বিআরটিএ চেয়ারম্যান বিষযটি এড়িয়ে গিয়ে প্রকৌশল শাখার ওপর দায় চাপিয়েছেন। তবে সংশ্লিষ্ট পরিচালকের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে বিষয়টি নিয়ে মুখে কুলুপ এঁটেছে হাইওয়ে পুলিশ সদর দপ্তর।

ঢাকার আমিনবাজারসহ বিভিন্ন স্থানে অননুমোদিত কারখানায় নিরাপত্তা আইন তোয়াক্কা না করেই বানিয়ে ফেলা হচ্ছে এসব মৃত্যুর ফাঁদ। নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থাগুলোর অসাধু কর্মকর্তা ও মালিকদের সিন্ডিকেট না ভাঙলে রাজপথে এই বিশৃঙ্খলা থামানো অসম্ভব বলে মনে করছেন পরিবহন বিশেষজ্ঞরা।