০২:৪৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

একাদশে ভর্তিতে তাড়াহুড়ো, খাতা পুনর্মূল্যায়নে চ্যালেঞ্জ

The gallery was not found!

মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট বা এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর এবার একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির প্রক্রিয়া এগিয়ে আনার পরিকল্পনা করছে শিক্ষা বোর্ড। প্রস্তাবিত নতুন সময়রেখা অনুযায়ী, ভর্তি কার্যক্রম শেষে আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে একাদশ শ্রেণির ক্লাস শুরু হতে পারে।

একই সঙ্গে, পাসের হার গত ১৯ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন হওয়ায় এবার রেকর্ডসংখ্যক শিক্ষার্থী খাতা পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করেছে। তবে প্রথমবারের মতো শুধু নম্বর যোগ করার বদলে খাতা ‘পুনর্মূল্যায়নের’ যে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, তা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কীভাবে সম্পন্ন হবে, তা নিয়ে বড় ধরনের লজিস্টিক্যাল চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে।

ভর্তির নতুন প্রস্তাবিত সময়রেখা

ঢাকা শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, ভর্তি প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করতে মন্ত্রণালয় থেকে একটি নতুন প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। প্রস্তাবটির অনুমোদন পাওয়া সাপেক্ষে ঘোষিত সময়রেখা অনুযায়ী ভর্তি কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

প্রথম ধাপে অনলাইনে আবেদন করা যাবে ২ থেকে ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। পুনর্নিরীক্ষণের ফল প্রকাশ হবে ১০ সেপ্টেম্বর। ফল পরিবর্তন হওয়া শিক্ষার্থীদের আবেদন ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর এবং বাছাই ও চূড়ান্ত ভর্তি কার্যক্রম চলবে ২০ থেকে ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আর ক্লাস শুরু হবে ২৩ সেপ্টেম্বর।

এর আগে ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে আবেদন গ্রহণ এবং ১২ নভেম্বর ক্লাস শুরুর পরিকল্পনা ছিল। নতুন সময় অনুযায়ী, যারা প্রথম ধাপে কলেজ পাবে না, তাদের জন্য ২৩ সেপ্টেম্বরের পর পুনরায় আবেদনের সুযোগ রাখা হবে।

পুনর্মূল্যায়নের বিশাল চাপ ও সক্ষমতার সংকট

এবারের এসএসসি পরীক্ষায় গড় পাসের হার ৬২.২৫%, যা গত বছরগুলোর তুলনায় উল্লেখযোগ্য হারে কম। কাঙ্ক্ষিত ফল না পেয়ে ১১টি শিক্ষা বোর্ডে ৪ লাখ ২ হাজার ৫১ জন পরীক্ষার্থী খাতা পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করেছে। সব মিলিয়ে প্রায় ১২ লাখ ৮৭ হাজার ৯২৬টি খাতার আবেদন জমা পড়েছে।

বোর্ডের নিয়ম অনুযায়ী, আগে পুনর্নিরীক্ষণের ক্ষেত্রে শুধু প্রাপ্ত নম্বরের যোগ-বিয়োগে কোনো ভুল হয়েছে কি না, তা দেখা হতো। কিন্তু এবার আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, উত্তরপত্র পুরোপুরি পুনর্মূল্যায়ন করা হবে।

এই বিশাল কর্মযজ্ঞের ক্ষেত্রে দুটি প্রধান চ্যালেঞ্জ সামনে এসেছে, তা হলো-মাত্র ২৩ দিনের মধ্যে ১০ লাখ ৫৬ হাজার ৪৫৫টি লিখিত খাতা নতুন করে মূল্যায়ন করার জন্য বোর্ডের পর্যাপ্ত মানসম্মত পরীক্ষক রয়েছে কি না এবং লিখিত খাতার পাশাপাশি ২ লাখ ৩১ হাজার ৪৭১টি আবেদন কীভাবে কেন্দ্রীয়ভাবে পুনর্মূল্যায়ন করা হবে, সে বিষয়টি।

আসনসংকট বনাম মানসম্মত কলেজ

সারাদেশে একাদশ শ্রেণিতে কলেজ ও মাদ্রাসা মিলিয়ে আসন রয়েছে প্রায় ২৫ লাখ। এবার পাস করেছে ১১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৭৭ জন। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মোট আসনের অর্ধেকের বেশি এবার খালি থাকবে।

তবে আসন বেশি থাকলেও শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র প্রতিযোগিতা হবে প্রথম সারির কলেজগুলোতে। এবার জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী। তুলনামূলক ভালো প্রতিষ্ঠানগুলোতে আসনসংখ্যা সীমিত হওয়ায় জিপিএ-৫ পেয়েও অনেক শিক্ষার্থী তাদের পছন্দের কলেজে ভর্তির সুযোগ থেকে বঞ্চিত হতে পারে।

শিক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, তাড়াহুড়ো করে লাখ লাখ খাতা পুনর্মূল্যায়ন করতে গেলে আবারও ভুলভ্রান্তির আশঙ্কা থাকে। শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ যেন পরীক্ষকদের খাতা দেখার তাড়াহুড়ো বা কাঠামোগত দুর্বলতার শিকার না হয়, সে বিষয়ে শিক্ষা বোর্ডকে আরও সতর্ক ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় খবর

নিত্যপণ্যের দামে বাজারের বাজেট এলোমেলো

Business Times24

একাদশে ভর্তিতে তাড়াহুড়ো, খাতা পুনর্মূল্যায়নে চ্যালেঞ্জ

Update Time : ০৬:০৭:৫১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬

মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট বা এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর এবার একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির প্রক্রিয়া এগিয়ে আনার পরিকল্পনা করছে শিক্ষা বোর্ড। প্রস্তাবিত নতুন সময়রেখা অনুযায়ী, ভর্তি কার্যক্রম শেষে আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে একাদশ শ্রেণির ক্লাস শুরু হতে পারে।

একই সঙ্গে, পাসের হার গত ১৯ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন হওয়ায় এবার রেকর্ডসংখ্যক শিক্ষার্থী খাতা পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করেছে। তবে প্রথমবারের মতো শুধু নম্বর যোগ করার বদলে খাতা ‘পুনর্মূল্যায়নের’ যে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, তা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কীভাবে সম্পন্ন হবে, তা নিয়ে বড় ধরনের লজিস্টিক্যাল চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে।

ভর্তির নতুন প্রস্তাবিত সময়রেখা

ঢাকা শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, ভর্তি প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করতে মন্ত্রণালয় থেকে একটি নতুন প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। প্রস্তাবটির অনুমোদন পাওয়া সাপেক্ষে ঘোষিত সময়রেখা অনুযায়ী ভর্তি কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

প্রথম ধাপে অনলাইনে আবেদন করা যাবে ২ থেকে ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। পুনর্নিরীক্ষণের ফল প্রকাশ হবে ১০ সেপ্টেম্বর। ফল পরিবর্তন হওয়া শিক্ষার্থীদের আবেদন ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর এবং বাছাই ও চূড়ান্ত ভর্তি কার্যক্রম চলবে ২০ থেকে ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আর ক্লাস শুরু হবে ২৩ সেপ্টেম্বর।

এর আগে ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে আবেদন গ্রহণ এবং ১২ নভেম্বর ক্লাস শুরুর পরিকল্পনা ছিল। নতুন সময় অনুযায়ী, যারা প্রথম ধাপে কলেজ পাবে না, তাদের জন্য ২৩ সেপ্টেম্বরের পর পুনরায় আবেদনের সুযোগ রাখা হবে।

পুনর্মূল্যায়নের বিশাল চাপ ও সক্ষমতার সংকট

এবারের এসএসসি পরীক্ষায় গড় পাসের হার ৬২.২৫%, যা গত বছরগুলোর তুলনায় উল্লেখযোগ্য হারে কম। কাঙ্ক্ষিত ফল না পেয়ে ১১টি শিক্ষা বোর্ডে ৪ লাখ ২ হাজার ৫১ জন পরীক্ষার্থী খাতা পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করেছে। সব মিলিয়ে প্রায় ১২ লাখ ৮৭ হাজার ৯২৬টি খাতার আবেদন জমা পড়েছে।

বোর্ডের নিয়ম অনুযায়ী, আগে পুনর্নিরীক্ষণের ক্ষেত্রে শুধু প্রাপ্ত নম্বরের যোগ-বিয়োগে কোনো ভুল হয়েছে কি না, তা দেখা হতো। কিন্তু এবার আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, উত্তরপত্র পুরোপুরি পুনর্মূল্যায়ন করা হবে।

এই বিশাল কর্মযজ্ঞের ক্ষেত্রে দুটি প্রধান চ্যালেঞ্জ সামনে এসেছে, তা হলো-মাত্র ২৩ দিনের মধ্যে ১০ লাখ ৫৬ হাজার ৪৫৫টি লিখিত খাতা নতুন করে মূল্যায়ন করার জন্য বোর্ডের পর্যাপ্ত মানসম্মত পরীক্ষক রয়েছে কি না এবং লিখিত খাতার পাশাপাশি ২ লাখ ৩১ হাজার ৪৭১টি আবেদন কীভাবে কেন্দ্রীয়ভাবে পুনর্মূল্যায়ন করা হবে, সে বিষয়টি।

আসনসংকট বনাম মানসম্মত কলেজ

সারাদেশে একাদশ শ্রেণিতে কলেজ ও মাদ্রাসা মিলিয়ে আসন রয়েছে প্রায় ২৫ লাখ। এবার পাস করেছে ১১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৭৭ জন। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মোট আসনের অর্ধেকের বেশি এবার খালি থাকবে।

তবে আসন বেশি থাকলেও শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র প্রতিযোগিতা হবে প্রথম সারির কলেজগুলোতে। এবার জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী। তুলনামূলক ভালো প্রতিষ্ঠানগুলোতে আসনসংখ্যা সীমিত হওয়ায় জিপিএ-৫ পেয়েও অনেক শিক্ষার্থী তাদের পছন্দের কলেজে ভর্তির সুযোগ থেকে বঞ্চিত হতে পারে।

শিক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, তাড়াহুড়ো করে লাখ লাখ খাতা পুনর্মূল্যায়ন করতে গেলে আবারও ভুলভ্রান্তির আশঙ্কা থাকে। শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ যেন পরীক্ষকদের খাতা দেখার তাড়াহুড়ো বা কাঠামোগত দুর্বলতার শিকার না হয়, সে বিষয়ে শিক্ষা বোর্ডকে আরও সতর্ক ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে হবে।