মিজোরামে স্থানীয় কৃষি ও উদ্যানজাত পণ্য থেকে ওয়াইন ও বিয়ার উৎপাদনের জন্য প্রস্তাবিত প্রসেসিং ইউনিটগুলোর তালিকা চলতি সপ্তাহেই চূড়ান্ত হতে পারে। এ বিষয়ে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী লালদুহোমার কাছে সুপারিশ পেশ করবে মিজোরাম আবগারি ও মাদকদ্রব্য দফতর।
বুধবার মিজোরামের আবগারি ও মাদকদ্রব্য মন্ত্রী লালনঘিংলোভা হামর জানান, স্থানীয় ওয়াইন ও বিয়ার উৎপাদনের জন্য প্রসেসিং ইউনিট নির্বাচনের বিষয়ে একটি বিস্তারিত উপস্থাপনা তৈরি করা হয়েছে। চলতি সপ্তাহেই তা পেশ করা হবে মুখ্যমন্ত্রীর সামনে। বৈঠকে নেওয়া সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই পরবর্তী উৎপাদন প্রক্রিয়া শুরু হবে বলেও জানান তিনি।
স্থানীয়ভাবে তৈরি ওয়াইন ও বিয়ারের অনুমোদন মিজোরামের পর্যটন শিল্পে কী প্রভাব ফেলতে পারে, জানতে চাইলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন হামর। তার মতে, নিয়ন্ত্রিতভাবে স্থানীয় পানীয়ের উৎপাদন ও সরবরাহ শুরু হলে পর্যটন শিল্প যেমন উপকৃত হবে, তেমনই লাভবান হবেন রাজ্যের কৃষক ও স্থানীয় উদ্যোক্তারাও।
২০২৫ সালে মিজোরাম বিধানসভায় পাস হওয়া মিজোরাম মদ (নিষিদ্ধকরণ) সংশোধনী বিল, ২০২৫-এ স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত কৃষি ও উদ্যানজাত পণ্য ব্যবহার করে ওয়াইন ও স্থানীয় বিয়ার তৈরি ও সরবরাহের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বিদেশি বিশিষ্ট ব্যক্তি, পর্যটক এবং দেশের অন্যান্য প্রান্ত থেকে আসা দর্শনার্থীদের জন্য ভারতে তৈরি বিদেশি মদ রাখা ও পান করার ক্ষেত্রে বিশেষ অনুমতির ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে সমৃদ্ধ মিজোরাম পাহাড়, ঝরনা ও তুলনামূলকভাবে অক্ষত প্রাকৃতিক পরিবেশের জন্য পরিচিত। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে বৈরাবী-সাইরাং রেলপথ চালু হওয়ার পর রাজ্যে পর্যটকের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। নতুন রেল যোগাযোগ মিজোরামের সঙ্গে দেশের অন্যান্য অংশের যোগাযোগ সহজ করেছে। এর ফলে রাজ্যটি উত্তর-পূর্ব ভারতের দ্রুত বিকাশমান পর্যটন গন্তব্যগুলোর একটি হয়ে উঠছে।
তবে দীর্ঘদিন ধরে মদ নিষিদ্ধ রাজ্য হিসেবে পরিচিত মিজোরামে বৈধ মদ বিক্রির দোকান না থাকায় পর্যটকদের জন্য একটি বাস্তব সমস্যা রয়ে গেছে। পর্যটন শিল্পের সঙ্গে যুক্ত অনেকের মতে, বাইরে থেকে আসা পর্যটকদের একাংশকে নির্ভর করতে হয় অনানুষ্ঠানিক ও অবৈধ চ্যানেলের ওপর। সেখানে তুলনামূলক বেশি দাম দিতে হয়। এতে পর্যটকদের সামগ্রিক ভ্রমণ অভিজ্ঞতাতেও প্রভাব পড়ে।
পর্যটন ও আতিথেয়তা শিল্পের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা মনে করছেন, নিয়ন্ত্রিতভাবে তুলনামূলক সাশ্রয়ী দামে স্থানীয়ভাবে তৈরি ওয়াইন ও ফলের বিয়ার বাজারে এলে এই সমস্যার অনেকটাই সমাধান হতে পারে।
প্রস্তাবিত স্থানীয় পানীয়গুলো মিজোরামে উৎপাদিত ড্রাগন ফ্রুট, আনারস, প্যাশন ফ্রুট, কলা ও আদার মতো কৃষি ও উদ্যানজাত পণ্য ব্যবহার করে তৈরি করা হবে। ফলে এই উদ্যোগ শুধু পর্যটকদের জন্য নতুন অভিজ্ঞতা তৈরি করবে না, স্থানীয় কৃষকদের জন্যও নতুন বাজার তৈরি করতে পারে।
শিল্প মহলের একাংশের মতে, স্থানীয়ভাবে তৈরি পানীয় যুক্তিসংগত দামে পাওয়া গেলে পর্যটকদের ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি রাজ্যে তাঁদের থাকার সময়ও বাড়তে পারে। এর ফলে পুনরায় মিজোরাম ভ্রমণের প্রবণতাও বাড়তে পারে। পর্যটন বৃদ্ধির এই ধারাকে কাজে লাগিয়ে স্থানীয় কৃষি, ক্ষুদ্র উদ্যোগ ও আতিথেয়তা শিল্পে নতুন কর্মসংস্থান এবং আয়ের সুযোগ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক 






















