স্বাধীনতার ৫৫ বছর পর দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক কাঠামোর চিরাচরিত ক্যালেন্ডারে এক বড় পরিবর্তনের প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার। প্রচলিত জুলাই-জুন মেয়াদ বাদ দিয়ে অর্থবছরের সময়সীমা এপ্রিল-মার্চ করার পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের বাজেট অনুবিভাগ।
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নির্দেশনা অনুযায়ী এ সংক্রান্ত আইনি ও কাঠামোগত পর্যালোচনার খসড়া প্রস্তাব তৈরি হচ্ছে, যা দ্রুতই উঠবে মন্ত্রিসভার বৈঠকে। আগামী ২০২৭-২৮ অর্থবছর থেকেই এই নতুন সময়সূচি বাস্তবায়নের লক্ষ্য ধরা হয়েছে।
বর্তমান ব্যবস্থায় অর্থবছরের শেষ তিন মাস (এপ্রিল-জুন) বর্ষাকাল হওয়ায় সড়ক, সেতু ও ভৌত অবকাঠামো নির্মাণকাজ স্থবির হয়ে পড়ে।
জুনের মধ্যে বরাদ্দ শেষ করার তাগিদে তাড়াহুড়ো করে অর্থ খরচ করা হয়, যা কাজের গুণগত মান নষ্ট করে এবং অপচয়ের সুযোগ তৈরি করে। এপ্রিল-মার্চ সময়সীমা বাস্তবায়ন হলে শুষ্ক মৌসুম (জানুয়ারি-মার্চ) পড়বে অর্থবছরের শেষ প্রান্তে।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, সময় এগিয়ে আনাই বাজেট বাস্তবায়নের প্রধান জাদুকাঠি হতে পারে না।
বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেমের মতে, শুধু বর্ষার অবস্থান পরিবর্তন করে সার্বিক সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) মোট বাজেটের এক-তৃতীয়াংশের কম, বাকি দুই-তৃতীয়াংশই পরিচালন ব্যয়। বারবার প্রকল্পের মেয়াদ ও ব্যয় বাড়ানো, ই-প্রকিউরমেন্টের দুর্বলতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতার অভাব দূর না করলে কোনো সুফল আসবে না।
ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবু আহমেদ মনে করেন, অর্থবছরের মেয়াদ ১২ মাসই থাকছে। ফলে মোট কাজের সময় বাড়ছে না। একই সঙ্গে বেসরকারি খাতের আয়কর বর্ষ ও আন্তর্জাতিক আর্থিক সমন্বয়ের বিষয়টি নিয়েও গভীর সমীক্ষা প্রয়োজন।

নিজস্ব প্রতিবেদক 






















