নব্বইয়ের দশকে যে জিনিসটা লোকে যুদ্ধকালীন সাশ্রয়ী খাবার ভেবে এড়িয়ে চলত, আজ সেটাই গ্বিনেথ প্যাল্ট্রো আর ক্যালভিন হ্যারিসের মতো সেলিব্রিটিদের কল্যাণে একেবারে ‘ভিআইপি ডায়েট’।
নাম দিয়েছে ‘প্রিমিয়াল ডায়েট’ বা আদিম খাদ্যাভ্যাস! মানে সহজ কথায়—গরু-বাছুরের হাড়ের মজ্জা চিবিয়েই নাকি তারুণ্য ধরে রাখা যাবে, ডায়াবেটিস পালাবে বাপ বাপ করে, আর ত্বক হবে ঝকঝকে!
লন্ডনের বিখ্যাত ‘সেন্ট জন’ রেস্তোরাঁয় বসে রোস্ট করা বোন ম্যারো আর পার্সলে-ক্যাপার সালাদে শেষ কামড় বসাতে চেয়েছিলেন প্রয়াত কিংবদন্তি শেফ অ্যান্থনি বোর্দেইনের মতো মানুষেরা। সেখান থেকে শুরু হওয়া ‘নোজ-টু-টেইল’ (পশুর প্রতিটি অংশ ব্যবহার) রন্ধনরীতির এই সাধারণ মজ্জা আজ পরিচিতি পেয়েছে ‘মাংসের মাখন’ বা ‘দরিদ্রের ফোয়াগ্রা’ নামে। কিন্তু সেলিব্রিটিদের এই প্রচারণার আড়ালে আসল সত্যটাই বা কী?
ডেইলি মেইলের স্বাস্থ্য প্রতিবেদক মার্টি স্টেলিংয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বোন ম্যারো মূলত গরু বা বাছুরের লম্বা হাড়ের ভেতরের নরম টিস্যু, যা ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, পটাসিয়াম এবং অ্যাডিপোনেকটিন হরমোনে সমৃদ্ধ।
পশুর হাড়ে থাকা এই অ্যাডিপোনেকটিন হরমোন চর্বি ভাঙতে সাহায্য করে এবং ইনসুলিন সংবেদনশীলতা বজায় রেখে ডায়াবেটিস, হৃদরোগ ও স্থূলতার ঝুঁকি হ্রাসের সাথে যুক্ত। এছাড়া এতে থাকা কোলাজেন ও অ্যাডিপোনেকটিন জয়েন্টের সহনশীলতা, ত্বক ও বিপাক প্রক্রিয়ায় কিছুটা ভূমিকা রাখতে পারে।
তবে পুষ্টিবিদ রিয়ানন ল্যাম্বার্ট স্পষ্ট করেছেন যে, সরাসরি বোন ম্যারো খেলে তা যে হুবহু জয়েন্টে বা ত্বকে গিয়ে জমা হবে, এমন কোনো জোরালো মানব গবেষণা নেই; হজমের পর প্রোটিন ভেঙে সাধারণ অ্যামিনো এসিডে পরিণত হয়।
কোলাজেন-সমৃদ্ধ খাবার খাওয়ার অর্থ এই নয় যে তা সোজা আপনার হাঁটুতে বা মুখে গিয়ে প্রলেপ বসাবে। শরীর নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী অ্যামিনো এসিড ব্যবহার করে।
পাশাপাশি, এটি অত্যন্ত চর্বিযুক্ত ও ক্যালোরিভরা খাবার (১-২ টেবিল চামচে প্রায় ১১০-২২০ ক্যালোরি)। এর প্রায় সব ক্যালোরিই আসে ফ্যাট থেকে। তাই উচ্চ কোলেস্টেরল বা হৃদরোগের ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের এটি সীমিত খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন ডায়েটিশিয়ান নিকোলা লুডলাম-রেন। গর্ভবতী বা কম রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সম্পন্ন ব্যক্তিদেরও এটি ভালোভাবে রান্না করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে বলেছেন তিনি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বোন ম্যারোকে কোনো সর্বরোগের মহৌষধ না ভেবে, রঙিন শাকসবজি বা ভিটামিন সি-সমৃদ্ধ সালাদের সাথে সপ্তাহে বড়জোর একবার একটি মুখরোচক সংযোজন হিসেবে রাখাটাই বুদ্ধিমানের কাজ।
ভিটামিন সি শরীরের নিজস্ব কোলাজেন উৎপাদনে সহায়তা করায় ম্যারোর সাথে সালাদের এই জুটি বেশ কাজের হতে পারে। তাই অহেতুক হাউস বা হুল্লোড়ে না ভুগে, সুষম ডায়েটের মাঝেই এর আসল স্বাদ উপভোগ করা উচিত! ডেইলি মেইল থেকে অনূদিত।

নিজস্ব প্রতিবেদক 






















