সান্তা রোসার সোনালী রোদের বিকেল। স্টেজের ওপর লাল গালিচায় দাঁড়িয়ে ট্রফি হাতে পোজ দিচ্ছে ৬ বছর বয়সী পাগ—জিনি লু। তার সামনের একটা দাঁত উঁকি মারছে, জিহ্বাটা ডান দিকে খানিকটা ঝুলে পড়েছে, আর চোখ দুটো যেন দুটি ভিন্ন দিকে তাকিয়ে রহস্য খুঁজছে।
আজ সে সাধারণ কোনো কুকুর নয়; আজ সে ২০২৬ সালের ‘বিশ্বের সবচেয়ে কুৎসিত কুকুর’!
মাইকে বিজয়ী হিসেবে জিনি লুর নাম ঘোষণা হতেই তার মালিক মিশেল গ্র্যাডি আনন্দের চোটে কেঁদেই ফেললেন। তিনি ট্রফির সাথে পাঁচ হাজার ডলারের একটা বিশাল ডামি চেক হাতে নিলেন।
মিশেল হাউমাউ করে কেঁদে উঠে জিনিকে জড়িয়ে ধরে বললেন, ‘জিনি, তুই পেরেছিস! আমরা পাঁচ হাজার ডলার জিতেছি রে! তুই আজ আর পাঁচটা সাধারণ পাগের মতো প্রেশার কুকারের মতো শব্দ করে ঘুমানো কোনো কুকুর নুয়ে, তুই এখন আন্তর্জাতিক তারকা!’
কিন্তু জিনির দিকে তাকিয়ে মনে হলো না তার মধ্যে কোনো ভাবান্তর আছে। পাঁচ হাজার ডলারের চেক কিংবা চকচকে ট্রফির চেয়েও তার চোখ আটকে ছিল বিচারকদের টেবিলের ওপর রাখা একটা অর্ধেক খাওয়া হটডগের দিকে। সে হালকা একটা হাঁচ মারল, যার ধাক্কায় স্টেজের ফুলদানির একটা পাপড়ি খসে পড়ল।
প্রেস কনফারেন্সে এক সাংবাদিক মাইক এগিয়ে দিয়ে জিনিকে জিজ্ঞেস করলেন, “জিনি লু, চারবার চেষ্টার পর আজ তুমি চ্যাম্পিয়ন। এই ঐতিহাসিক জয়ের পেছনে তোমার রূপচর্চার রহস্য কী?”
জিনি গম্ভীর মুখে উত্তর দিল, ‘ঘ্যাঁৎ!’ (যার অনুবাদ হতে পারে: সারাদিন সোফায় শুয়ে লাল ফেলা আর কার্পেটে পিঠ ঘষা)।
পাশে দাঁড়িয়ে থাকা দ্বিতীয় স্থান পাওয়া চিহুয়াহুয়া ‘পিঙ্কি’ জিনির দিকে হিংসা ভরা চোখে তাকিয়ে রইল। পিঙ্কির মনে হচ্ছিল, তার কান দুটো আরেকটু বাঁকা হলে আজ হয়তো তিন হাজার ডলারের বদলে পাঁচ হাজার ডলারের চেকটা তারই হতো!
যাইহোক, অনুষ্ঠান শেষে বাড়ি ফেরার পথে গাড়ির পেছনের সিটে বসে ডামি চেকটার ওপর মাথা রেখে শান্তিতে ঘুমে কাদা হয়ে গেল জিনি লু। সে হয়তো জানেই না, কাল সকালে যখন সে ঘুম থেকে উঠবে, তখন সে বিশ্বের সবচেয়ে সুন্দর ‘অসুন্দর’ বিজয়ী!

নিজস্ব প্রতিবেদক 























