১২:২৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আমাদের সমাজে ধর্মীয় বিশ্বাস এবং মূল্যবোধ ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

The gallery was not found!

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত বলেছেন, আমাদের দেশে যে সমাজ আমরা গড়ে তুলেছি, সেখানে ধর্মীয় বিশ্বাস এবং ধর্মীয় মূল্যবোধ ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। আমাদের সরকার শুরু থেকে ধর্মীয় নেতাদের সঙ্গে নানা বিষয়ে একসঙ্গে কাজ করছেন।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সকালে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে International Prevention Summit (IPS) 2026। ‘Faith-Based Diabetes Prevention’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত এ আন্তর্জাতিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এই বার্তা দেন ড. এম এ মুহিত।

তিনি বলেন, আমাদের সরকারের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে দেশের ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেম, পুরোহিত, বিহারকর্মী ও যাজক এবং যারা আমাদের ধর্মীয় বিশ্বাস এবং ধর্মীয় মূল্যবোধ নিয়ে কাজ করছেন, তাদের প্রত্যেকের জন্য মাসিক সম্মানী ভাতা চালু করেছে। কিন্তু আপনাদের সঙ্গে আমাদের এই কর্মপরিকল্পনা শুধুমাত্র এই ভাতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; আমরা বিশ্বাস করি, আমাদের জীবনাচরণ, আমাদের সমাজে যে সোশ্যাল ফ্যাব্রিক (Social Fabric) বা সামাজিক কাঠামো সেখানে আপনাদের রয়েছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। কারণ আপনাদের কাছ থেকেই আমাদের মূল্যবোধগুলো গড়ে ওঠে-আগামী প্রজন্ম তাদের জীবনাচরণে সেই মূল্যবোধের প্রতিফলন ঘটায়।

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, আমরা সকলেই জানি, নন কমিউনিকেবল ডিজিজেস ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের জন্য, প্রতিরোধের জন্য আমাদের জীবনাচরণ বা লাইফস্টাইল মডিফিকেশন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আমরা যদি আমাদের ধর্মীয় নেতাদের মাধ্যমে জানতে পারি, বুঝতে পারি, শিখতে পারি-যে আমাদের ছোট ছোট আচরণগত পরিবর্তন আমাদেরকে সুস্থ রাখতে সহায়তা করবে, আমাদেরকে দীর্ঘজীবী করবে, ডায়াবেটিসসহ অন্য রোগ প্রতিরোধে সহায়তা করবে-তাহলে সেটিই হবে আমাদের সুস্বাস্থ্যের বাংলাদেশ গড়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, তাই সকল ধর্মীয় নেতাদের প্রতি আমাদের সরকারের পক্ষ থেকে আমি উদাত্ত আহ্বান জানাতে চাই-আজকের এই গবেষণার মাধ্যমে-এই প্রোগ্রামের মাধ্যমে যে ধর্মীয় সম্প্রীতি, ধর্মীয় মূল্যবোধ এবং সামাজিক দায়বদ্ধতার এক অভূতপূর্ব মেলবন্ধন তৈরি করেছে তা জনস্বাস্থ্যে বিপ্লব ঘটাবে এবং সুস্বাস্থ্যের বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সহায়ক হবে।

বক্তব্যে গবেষণার তথ্য উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশে ধর্মীয় মূল্যবোধকে কাজে লাগিয়ে আয়োজিত ডায়াবেটিস প্রতিরোধ কার্যক্রম উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে ‘টাইপ-টু’ ডায়াবেটিসের হার প্রায় ৪২ থেকে ৪৩ শতাংশ পর্যন্ত কমাতে সক্ষম হয়েছে। এটি বিজ্ঞান ও ধর্মীয় বিশ্বাসের এক অভূতপূর্ব ও সফল সমন্বয়।

আন্তর্জাতিক এই সম্মেলনে বক্তব্য দেন—স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের ঢাকা রিজিনাল হাবের হেড আলী এম খান, গ্লোবাল মেটাবলিক হেলথ অ্যালায়েন্সের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর ড. অমিত গুপ্ত, ডায়াবেটিস ইন এশিয়া স্টাডি গ্রুপের প্রেসিডেন্ট প্রফেসর আব্দুল বাসিত, আইডিএফ সাউথ-ইস্ট এশিয়ার চেয়ার ড. বংশী সাবু, জাইকার চিফ রিপ্রেজেন্টিটিভ তাকাহাশি জুনকো, ওআইসির অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি জেনারেল মো. আফতাব আহমেদ খোখোর, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বাংলাদেশ ডেপুটি রিপ্রেজেন্টিটিভ ড. রাজেশ নারওয়াল, ওয়ার্ল্ড ডায়াবেটিস ফাউন্ডেশনের বোর্ড মেম্বার সোবিয়া আকরাম এবং ইন্টারন্যাশনাল ডায়াবেটিস ফেডারেশনের প্রেসিডেন্ট প্রফেসর পিটার শোয়ার্জ।

আরও বক্তব্য দেন—ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক হাফেজ মাওলানা মুফতি মুহাম্মদ মহিববুল্লাহিল বাকী নদভী, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বৌদ্ধ কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি প্রফেসর ড. সুকোমল বড়ুয়া, সেন্ট জন মেরি ভিয়ানি হাসপাতালের ডিরেক্টর ড. ফাদার লিন্টু ফ্রান্সিস কস্টা এবং শ্রী শ্রী গীতা সংঘ বাংলাদেশের সভাপতি নিত্যানন্দ চক্রবর্তী প্রমুখ।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় খবর

নিত্যপণ্যের দামে বাজারের বাজেট এলোমেলো

Business Times24

আমাদের সমাজে ধর্মীয় বিশ্বাস এবং মূল্যবোধ ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

Update Time : ০৪:২৫:৩৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৭ অগাস্ট ২০২৬

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত বলেছেন, আমাদের দেশে যে সমাজ আমরা গড়ে তুলেছি, সেখানে ধর্মীয় বিশ্বাস এবং ধর্মীয় মূল্যবোধ ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। আমাদের সরকার শুরু থেকে ধর্মীয় নেতাদের সঙ্গে নানা বিষয়ে একসঙ্গে কাজ করছেন।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সকালে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে International Prevention Summit (IPS) 2026। ‘Faith-Based Diabetes Prevention’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত এ আন্তর্জাতিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এই বার্তা দেন ড. এম এ মুহিত।

তিনি বলেন, আমাদের সরকারের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে দেশের ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেম, পুরোহিত, বিহারকর্মী ও যাজক এবং যারা আমাদের ধর্মীয় বিশ্বাস এবং ধর্মীয় মূল্যবোধ নিয়ে কাজ করছেন, তাদের প্রত্যেকের জন্য মাসিক সম্মানী ভাতা চালু করেছে। কিন্তু আপনাদের সঙ্গে আমাদের এই কর্মপরিকল্পনা শুধুমাত্র এই ভাতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; আমরা বিশ্বাস করি, আমাদের জীবনাচরণ, আমাদের সমাজে যে সোশ্যাল ফ্যাব্রিক (Social Fabric) বা সামাজিক কাঠামো সেখানে আপনাদের রয়েছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। কারণ আপনাদের কাছ থেকেই আমাদের মূল্যবোধগুলো গড়ে ওঠে-আগামী প্রজন্ম তাদের জীবনাচরণে সেই মূল্যবোধের প্রতিফলন ঘটায়।

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, আমরা সকলেই জানি, নন কমিউনিকেবল ডিজিজেস ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের জন্য, প্রতিরোধের জন্য আমাদের জীবনাচরণ বা লাইফস্টাইল মডিফিকেশন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আমরা যদি আমাদের ধর্মীয় নেতাদের মাধ্যমে জানতে পারি, বুঝতে পারি, শিখতে পারি-যে আমাদের ছোট ছোট আচরণগত পরিবর্তন আমাদেরকে সুস্থ রাখতে সহায়তা করবে, আমাদেরকে দীর্ঘজীবী করবে, ডায়াবেটিসসহ অন্য রোগ প্রতিরোধে সহায়তা করবে-তাহলে সেটিই হবে আমাদের সুস্বাস্থ্যের বাংলাদেশ গড়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, তাই সকল ধর্মীয় নেতাদের প্রতি আমাদের সরকারের পক্ষ থেকে আমি উদাত্ত আহ্বান জানাতে চাই-আজকের এই গবেষণার মাধ্যমে-এই প্রোগ্রামের মাধ্যমে যে ধর্মীয় সম্প্রীতি, ধর্মীয় মূল্যবোধ এবং সামাজিক দায়বদ্ধতার এক অভূতপূর্ব মেলবন্ধন তৈরি করেছে তা জনস্বাস্থ্যে বিপ্লব ঘটাবে এবং সুস্বাস্থ্যের বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সহায়ক হবে।

বক্তব্যে গবেষণার তথ্য উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশে ধর্মীয় মূল্যবোধকে কাজে লাগিয়ে আয়োজিত ডায়াবেটিস প্রতিরোধ কার্যক্রম উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে ‘টাইপ-টু’ ডায়াবেটিসের হার প্রায় ৪২ থেকে ৪৩ শতাংশ পর্যন্ত কমাতে সক্ষম হয়েছে। এটি বিজ্ঞান ও ধর্মীয় বিশ্বাসের এক অভূতপূর্ব ও সফল সমন্বয়।

আন্তর্জাতিক এই সম্মেলনে বক্তব্য দেন—স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের ঢাকা রিজিনাল হাবের হেড আলী এম খান, গ্লোবাল মেটাবলিক হেলথ অ্যালায়েন্সের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর ড. অমিত গুপ্ত, ডায়াবেটিস ইন এশিয়া স্টাডি গ্রুপের প্রেসিডেন্ট প্রফেসর আব্দুল বাসিত, আইডিএফ সাউথ-ইস্ট এশিয়ার চেয়ার ড. বংশী সাবু, জাইকার চিফ রিপ্রেজেন্টিটিভ তাকাহাশি জুনকো, ওআইসির অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি জেনারেল মো. আফতাব আহমেদ খোখোর, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বাংলাদেশ ডেপুটি রিপ্রেজেন্টিটিভ ড. রাজেশ নারওয়াল, ওয়ার্ল্ড ডায়াবেটিস ফাউন্ডেশনের বোর্ড মেম্বার সোবিয়া আকরাম এবং ইন্টারন্যাশনাল ডায়াবেটিস ফেডারেশনের প্রেসিডেন্ট প্রফেসর পিটার শোয়ার্জ।

আরও বক্তব্য দেন—ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক হাফেজ মাওলানা মুফতি মুহাম্মদ মহিববুল্লাহিল বাকী নদভী, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বৌদ্ধ কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি প্রফেসর ড. সুকোমল বড়ুয়া, সেন্ট জন মেরি ভিয়ানি হাসপাতালের ডিরেক্টর ড. ফাদার লিন্টু ফ্রান্সিস কস্টা এবং শ্রী শ্রী গীতা সংঘ বাংলাদেশের সভাপতি নিত্যানন্দ চক্রবর্তী প্রমুখ।