০৭:২৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

হরমুজে শত্রুর যুদ্ধজাহাজ রুখতে ইরানের ‘ডলফিন’ মোতায়েন

The gallery was not found!

পারস্য উপসাগরের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি বিশেষ হালকা সাবমেরিন মোতায়েন করেছে ইরান। এই সাবমেরিনগুলো ইরানি নৌবাহিনীর কাছে ‘পারস্য উপসাগরের ডলফিন’ নামে পরিচিত। খবর তাসনিম নিউজের।

রবিবার রাতে ইরানের নৌবাহিনী প্রধান রিয়ার অ্যাডমিরাল শাহরাম ইরানি এক বিবৃতিতে জানান, হরমুজ প্রণালিতে শত্রুপক্ষের যেকোনো যুদ্ধজাহাজ মোকাবিলা ও সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

নৌবাহিনী প্রধান উল্লেখ করেন, বিদ্যমান হুমকি, সক্ষমতা ও কৌশলগত প্রয়োজনের ওপর ভিত্তি করে এই ইরানি হালকা সাবমেরিনগুলোর সংখ্যা বাড়ানো হচ্ছে এবং হরমুজ প্রণালির সমুদ্রতলে এগুলোকে মোতায়েন করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, এই সাবমেরিনগুলো হরমুজ প্রণালির কৌশলগত জলসীমার তলদেশে দীর্ঘ সময় অবস্থান করতে সক্ষম। সেখান থেকেই তারা শত্রু জাহাজ শনাক্ত ও ধ্বংস করতে পারে।

নৌবাহিনী কমান্ডারের মতে, এই হালকা সাবমেরিনগুলো নৌবাহিনীর কর্মকর্তা ও সদস্যদের কাছে সাধারণত ‘পারস্য উপসাগরের ডলফিন’ নামে পরিচিত।

তিনি আরো জানান, সম্প্রতি মার্কিন হামলায় ‘ডেনা’ নামক ইরানি জাহাজে নিহত নাবিকদের স্মরণে আয়োজিত এক বিশেষ অভিযানে এই ডলফিন সাবমেরিনগুলো অংশ নেয়। প্রদর্শনীর অংশ হিসেবে এগুলো হরমুজ প্রণালিতে পানির উপরিভাগে ভেসে ওঠে ও নিজেদের সামরিক শক্তি প্রদর্শন করে। বিভিন্ন কৌশলগত মহড়া শেষে সাবমেরিনগুলো আবারো সমুদ্রের গভীরে তাদের নির্ধারিত মিশনে ফিরে গেছে।

বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের একটি বড় অংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। এই অঞ্চলে ‘ডলফিন’ সাবমেরিন মোতায়েনের মাধ্যমে ইরান তার নৌ-প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার এক নতুন শক্তির জানান দিল বলে মনে করছেন সামরিক বিশ্লেষকরা।

রিয়ার অ্যাডমিরাল শাহরাম ইরানি জোর দিয়ে বলেন, যেকোনো ধরনের বিদেশি আগ্রাসন রুখে দিতে এবং দেশের জলসীমা সুরক্ষায় ইরান এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী ও স্বয়ংসম্পূর্ণ।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় খবর
Business Times24

হরমুজে শত্রুর যুদ্ধজাহাজ রুখতে ইরানের ‘ডলফিন’ মোতায়েন

Update Time : ১২:১৮:১৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬

পারস্য উপসাগরের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি বিশেষ হালকা সাবমেরিন মোতায়েন করেছে ইরান। এই সাবমেরিনগুলো ইরানি নৌবাহিনীর কাছে ‘পারস্য উপসাগরের ডলফিন’ নামে পরিচিত। খবর তাসনিম নিউজের।

রবিবার রাতে ইরানের নৌবাহিনী প্রধান রিয়ার অ্যাডমিরাল শাহরাম ইরানি এক বিবৃতিতে জানান, হরমুজ প্রণালিতে শত্রুপক্ষের যেকোনো যুদ্ধজাহাজ মোকাবিলা ও সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

নৌবাহিনী প্রধান উল্লেখ করেন, বিদ্যমান হুমকি, সক্ষমতা ও কৌশলগত প্রয়োজনের ওপর ভিত্তি করে এই ইরানি হালকা সাবমেরিনগুলোর সংখ্যা বাড়ানো হচ্ছে এবং হরমুজ প্রণালির সমুদ্রতলে এগুলোকে মোতায়েন করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, এই সাবমেরিনগুলো হরমুজ প্রণালির কৌশলগত জলসীমার তলদেশে দীর্ঘ সময় অবস্থান করতে সক্ষম। সেখান থেকেই তারা শত্রু জাহাজ শনাক্ত ও ধ্বংস করতে পারে।

নৌবাহিনী কমান্ডারের মতে, এই হালকা সাবমেরিনগুলো নৌবাহিনীর কর্মকর্তা ও সদস্যদের কাছে সাধারণত ‘পারস্য উপসাগরের ডলফিন’ নামে পরিচিত।

তিনি আরো জানান, সম্প্রতি মার্কিন হামলায় ‘ডেনা’ নামক ইরানি জাহাজে নিহত নাবিকদের স্মরণে আয়োজিত এক বিশেষ অভিযানে এই ডলফিন সাবমেরিনগুলো অংশ নেয়। প্রদর্শনীর অংশ হিসেবে এগুলো হরমুজ প্রণালিতে পানির উপরিভাগে ভেসে ওঠে ও নিজেদের সামরিক শক্তি প্রদর্শন করে। বিভিন্ন কৌশলগত মহড়া শেষে সাবমেরিনগুলো আবারো সমুদ্রের গভীরে তাদের নির্ধারিত মিশনে ফিরে গেছে।

বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের একটি বড় অংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। এই অঞ্চলে ‘ডলফিন’ সাবমেরিন মোতায়েনের মাধ্যমে ইরান তার নৌ-প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার এক নতুন শক্তির জানান দিল বলে মনে করছেন সামরিক বিশ্লেষকরা।

রিয়ার অ্যাডমিরাল শাহরাম ইরানি জোর দিয়ে বলেন, যেকোনো ধরনের বিদেশি আগ্রাসন রুখে দিতে এবং দেশের জলসীমা সুরক্ষায় ইরান এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী ও স্বয়ংসম্পূর্ণ।