১২:৫১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬

৪০০ কোটি টাকার বন্ডে মূলধন শক্তিশালী করছে মেঘনা ব্যাংক

The gallery was not found!

ব্যাংকের মূলধন ভিত্তি শক্তিশালী করা, ঋণ ও বিনিয়োগ কার্যক্রম সম্প্রসারণ এবং দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য নিয়ে ৪০০ কোটি টাকার দ্বিতীয় সাবঅর্ডিনেটেড বন্ড ইস্যুর উদ্যোগ নিয়েছে মেঘনা ব্যাংক পিএলসি। বাংলাদেশ ব্যাংক ও বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) অনুমোদন পাওয়া সাত বছর মেয়াদি এ বন্ড ব্যাংকটির টায়ার-২ মূলধন বাড়ানোর পাশাপাশি দেশের পুঁজিবাজারে বিকল্প বিনিয়োগের সুযোগ সম্প্রসারণে ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক ব্যাংকিং পরিবেশে মূলধন পর্যাপ্ততা বজায় রাখা, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্দেশনা পরিপালন ব্যাংকগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এ পরিস্থিতিতে মেঘনা ব্যাংকের নতুন বন্ড ইস্যুর উদ্যোগকে মূলধন ব্যবস্থাপনা ও ব্যবসায়িক সক্ষমতা বৃদ্ধির একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

মূলধন শক্তিশালীকরণে নতুন উদ্যোগ

বন্ডটি থেকে সংগৃহীত অর্থ ব্যাংকের টায়ার-২ মূলধন হিসেবে বিবেচিত হবে। এর ফলে মূলধন পর্যাপ্ততা বজায় রাখা এবং ভবিষ্যতে ঋণ ও বিনিয়োগ কার্যক্রম সম্প্রসারণে ব্যাংকটি বাড়তি সক্ষমতা অর্জন করতে পারবে। একই সঙ্গে শিল্পায়ন, উৎপাদনশীল খাতে অর্থায়ন, উদ্যোক্তা সৃষ্টি এবং বিদ্যমান ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সম্প্রসারণেও এ উদ্যোগ ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।

ব্যাংকটির জন্য এ বন্ড দীর্ঘমেয়াদি মূলধন ব্যবস্থাপনার একটি মাধ্যম। অন্যদিকে বিনিয়োগকারীদের জন্য এটি প্রচলিত আমানত ও শেয়ারবাজারের বাইরে বিকল্প বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি করবে।

বার্ষিক ১২.০৫ শতাংশ কুপন আয়

বন্ডটির অন্যতম আকর্ষণীয় দিক হলো পরিবর্তনশীল কুপন রেট। বাংলাদেশে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ছয় মাস মেয়াদি স্থায়ী আমানতের সর্বোচ্চ সুদের হারের গড়ের ভিত্তিতে রেফারেন্স রেট নির্ধারিত হবে। এর সঙ্গে অতিরিক্ত ৩ শতাংশ মার্জিন যোগ করে কুপন রেট হিসাব করা হবে।

৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে বন্ডটির প্রযোজ্য কুপন রেট বার্ষিক ১২.০৫ শতাংশ। এর মধ্যে রেফারেন্স রেট ৯.০৫ শতাংশ এবং অতিরিক্ত মার্জিন ৩ শতাংশ। তবে রেফারেন্স রেট পরিবর্তিত হলে ভবিষ্যতে কুপন রেটও পরিবর্তিত হতে পারে।

বন্ডটির অভিহিত মূল্য প্রতি ইউনিট ৫ লাখ টাকা। প্রাইভেট প্লেসমেন্টের মাধ্যমে ইস্যু করা এ বন্ডে প্রযোজ্য আইন ও শর্ত অনুযায়ী যোগ্য ব্যক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা অংশ নিতে পারবেন।

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির পরিকল্পনা

বন্ডটি ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) মেইন বোর্ডে তালিকাভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। তালিকাভুক্তির ফলে বিনিয়োগকারীরা স্টক এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে বন্ডটি কেনাবেচার সুযোগ পাবেন। এতে বিনিয়োগের তারল্য বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। পাশাপাশি দেশের করপোরেট বন্ড বাজারের বিকাশেও উদ্যোগটি ভূমিকা রাখতে পারে।

কর রেয়াত ও অন্যান্য সুবিধা

প্রযোজ্য আয়কর আইন অনুযায়ী, ডিএসইতে তালিকাভুক্তির পর ব্যক্তিশ্রেণির বিনিয়োগকারীরা বন্ডে বিনিয়োগের বিপরীতে কর রেয়াতের সুবিধা পাওয়ার সুযোগ পাবেন। এ ছাড়া বন্ডটিতে আবগারি শুল্ক প্রযোজ্য হবে না বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে সম্ভাব্য কুপন আয়ের পাশাপাশি এসব সুবিধাও বিনিয়োগকারীদের বিবেচনায় আসতে পারে।

বন্ডটির আরেকটি বৈশিষ্ট্য হলো প্রতি ছয় মাস অন্তর কুপন আয় প্রদান। পাশাপাশি তৃতীয় বছর শেষে মূলধন পরিশোধ শুরু হবে। পরবর্তী পাঁচ বছরে প্রতিবছর মূল বিনিয়োগের ২০ শতাংশ করে পরিশোধের পরিকল্পনা রয়েছে।

দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগে বিকল্প সুযোগ

প্রচলিত এফডিআর, ডিপিএস ও সঞ্চয়পত্রের বাইরে বন্ডভিত্তিক বিনিয়োগের সুযোগ দেশের পুঁজিবাজারকে আরও বৈচিত্র্যময় করতে পারে। মেঘনা ব্যাংকের দ্বিতীয় সাবঅর্ডিনেটেড বন্ডে পরিবর্তনশীল কুপন আয়, অর্ধবার্ষিক মুনাফা, সম্ভাব্য কর রেয়াত এবং নির্ধারিত সময়সূচিতে মূলধন ফেরতের সুবিধা রয়েছে।

সব মিলিয়ে ৪০০ কোটি টাকার এ বন্ড ইস্যু মেঘনা ব্যাংকের মূলধন শক্তিশালী করার পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের জন্য নতুন একটি আর্থিক পণ্য হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে যাচ্ছে। তবে বিনিয়োগের আগে বন্ডের মেয়াদ, সাবঅর্ডিনেটেড কাঠামো, কুপন রেটের পরিবর্তনশীলতা এবং সংশ্লিষ্ট ঝুঁকি ও শর্তাবলি বিবেচনা করা গুরুত্বপূর্ণ।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় খবর

জনতা ইন্স্যুরেন্সের আর্থিক অগ্রযাত্রা, নয় মাসে আয় বেড়ে ১.৩৬ টাকা

Business Times24

৪০০ কোটি টাকার বন্ডে মূলধন শক্তিশালী করছে মেঘনা ব্যাংক

Update Time : ০৭:১৪:০৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬

ব্যাংকের মূলধন ভিত্তি শক্তিশালী করা, ঋণ ও বিনিয়োগ কার্যক্রম সম্প্রসারণ এবং দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য নিয়ে ৪০০ কোটি টাকার দ্বিতীয় সাবঅর্ডিনেটেড বন্ড ইস্যুর উদ্যোগ নিয়েছে মেঘনা ব্যাংক পিএলসি। বাংলাদেশ ব্যাংক ও বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) অনুমোদন পাওয়া সাত বছর মেয়াদি এ বন্ড ব্যাংকটির টায়ার-২ মূলধন বাড়ানোর পাশাপাশি দেশের পুঁজিবাজারে বিকল্প বিনিয়োগের সুযোগ সম্প্রসারণে ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক ব্যাংকিং পরিবেশে মূলধন পর্যাপ্ততা বজায় রাখা, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্দেশনা পরিপালন ব্যাংকগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এ পরিস্থিতিতে মেঘনা ব্যাংকের নতুন বন্ড ইস্যুর উদ্যোগকে মূলধন ব্যবস্থাপনা ও ব্যবসায়িক সক্ষমতা বৃদ্ধির একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

মূলধন শক্তিশালীকরণে নতুন উদ্যোগ

বন্ডটি থেকে সংগৃহীত অর্থ ব্যাংকের টায়ার-২ মূলধন হিসেবে বিবেচিত হবে। এর ফলে মূলধন পর্যাপ্ততা বজায় রাখা এবং ভবিষ্যতে ঋণ ও বিনিয়োগ কার্যক্রম সম্প্রসারণে ব্যাংকটি বাড়তি সক্ষমতা অর্জন করতে পারবে। একই সঙ্গে শিল্পায়ন, উৎপাদনশীল খাতে অর্থায়ন, উদ্যোক্তা সৃষ্টি এবং বিদ্যমান ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সম্প্রসারণেও এ উদ্যোগ ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।

ব্যাংকটির জন্য এ বন্ড দীর্ঘমেয়াদি মূলধন ব্যবস্থাপনার একটি মাধ্যম। অন্যদিকে বিনিয়োগকারীদের জন্য এটি প্রচলিত আমানত ও শেয়ারবাজারের বাইরে বিকল্প বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি করবে।

বার্ষিক ১২.০৫ শতাংশ কুপন আয়

বন্ডটির অন্যতম আকর্ষণীয় দিক হলো পরিবর্তনশীল কুপন রেট। বাংলাদেশে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ছয় মাস মেয়াদি স্থায়ী আমানতের সর্বোচ্চ সুদের হারের গড়ের ভিত্তিতে রেফারেন্স রেট নির্ধারিত হবে। এর সঙ্গে অতিরিক্ত ৩ শতাংশ মার্জিন যোগ করে কুপন রেট হিসাব করা হবে।

৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে বন্ডটির প্রযোজ্য কুপন রেট বার্ষিক ১২.০৫ শতাংশ। এর মধ্যে রেফারেন্স রেট ৯.০৫ শতাংশ এবং অতিরিক্ত মার্জিন ৩ শতাংশ। তবে রেফারেন্স রেট পরিবর্তিত হলে ভবিষ্যতে কুপন রেটও পরিবর্তিত হতে পারে।

বন্ডটির অভিহিত মূল্য প্রতি ইউনিট ৫ লাখ টাকা। প্রাইভেট প্লেসমেন্টের মাধ্যমে ইস্যু করা এ বন্ডে প্রযোজ্য আইন ও শর্ত অনুযায়ী যোগ্য ব্যক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা অংশ নিতে পারবেন।

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির পরিকল্পনা

বন্ডটি ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) মেইন বোর্ডে তালিকাভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। তালিকাভুক্তির ফলে বিনিয়োগকারীরা স্টক এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে বন্ডটি কেনাবেচার সুযোগ পাবেন। এতে বিনিয়োগের তারল্য বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। পাশাপাশি দেশের করপোরেট বন্ড বাজারের বিকাশেও উদ্যোগটি ভূমিকা রাখতে পারে।

কর রেয়াত ও অন্যান্য সুবিধা

প্রযোজ্য আয়কর আইন অনুযায়ী, ডিএসইতে তালিকাভুক্তির পর ব্যক্তিশ্রেণির বিনিয়োগকারীরা বন্ডে বিনিয়োগের বিপরীতে কর রেয়াতের সুবিধা পাওয়ার সুযোগ পাবেন। এ ছাড়া বন্ডটিতে আবগারি শুল্ক প্রযোজ্য হবে না বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে সম্ভাব্য কুপন আয়ের পাশাপাশি এসব সুবিধাও বিনিয়োগকারীদের বিবেচনায় আসতে পারে।

বন্ডটির আরেকটি বৈশিষ্ট্য হলো প্রতি ছয় মাস অন্তর কুপন আয় প্রদান। পাশাপাশি তৃতীয় বছর শেষে মূলধন পরিশোধ শুরু হবে। পরবর্তী পাঁচ বছরে প্রতিবছর মূল বিনিয়োগের ২০ শতাংশ করে পরিশোধের পরিকল্পনা রয়েছে।

দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগে বিকল্প সুযোগ

প্রচলিত এফডিআর, ডিপিএস ও সঞ্চয়পত্রের বাইরে বন্ডভিত্তিক বিনিয়োগের সুযোগ দেশের পুঁজিবাজারকে আরও বৈচিত্র্যময় করতে পারে। মেঘনা ব্যাংকের দ্বিতীয় সাবঅর্ডিনেটেড বন্ডে পরিবর্তনশীল কুপন আয়, অর্ধবার্ষিক মুনাফা, সম্ভাব্য কর রেয়াত এবং নির্ধারিত সময়সূচিতে মূলধন ফেরতের সুবিধা রয়েছে।

সব মিলিয়ে ৪০০ কোটি টাকার এ বন্ড ইস্যু মেঘনা ব্যাংকের মূলধন শক্তিশালী করার পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের জন্য নতুন একটি আর্থিক পণ্য হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে যাচ্ছে। তবে বিনিয়োগের আগে বন্ডের মেয়াদ, সাবঅর্ডিনেটেড কাঠামো, কুপন রেটের পরিবর্তনশীলতা এবং সংশ্লিষ্ট ঝুঁকি ও শর্তাবলি বিবেচনা করা গুরুত্বপূর্ণ।